স্মার্টফোন ইতিহাসঃ শুরু থেকে আজ

স্মার্টফোন বলতে আমারা বুঝি বিশেষ ধরনের মোবাইল ফোন যা মোবাইল কম্পিউটিং প্লাটফর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আজকের যুগে আমরা সবাই মোবাইল কিনতে গেলে সবার আগে স্মার্টফোন নিয়ে ভাবি। কিন্তু আমরা এই স্মার্টফোনের ব্যাপারে কত দূর জানি ??

আপনি জানেন কি বিশ্বের প্রথম স্মার্টফোন ‘আইবিএম সিমন’

যা আজ থেকে ঠিক দুই দশক আগে প্রথম বাজারে এসেছিলো। এটি  যৌথভাবে আইবিএম এবং মার্কিন সেল্যুলার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বেলসাউথ তৈরি করেছিল। ১৯৯৪ সালের ১৬ আগস্ট এই মোবাইল ফোনটি বিক্রি শুরু হয় ফলে ব্যবহারকারীরা পরিচিত হয় স্মার্টফোনের ব্যাপারে। শুরুতে ৫০ হাজারটি কপি হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়েছিল এবং এর দাম ছিল ৯০০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় ৬৯ হাজার ৬৭৮ টাকা)

এক নজরে আইবিএম সিমন –

উচ্চতা – ২৩ সেমি

ওজন –  ৫০০ গ্রাম

ব্যাটারির ক্ষমতা – ১ ঘন্টা

স্ক্রিন – সবুজ এলসিডি এবং এতে ছিল টাচ স্ক্রিন প্রযুক্তির প্রথম ব্যাবহার করা হয়।


এছারা এই ফোনের সফটওয়্যারের সাহায্যে গ্রাহকরা নোট লেখা, আঁকা, ক্যালেন্ডার ও কনট্যাক্টস সমুহ আপডেট করা ছাড়াও ফোন করা ও রিসিভ করার পাশাপাশি ফ্যাক্সও করতে পারতেন। ফোনের নিচের স্লটে ম্যাপিং, স্প্রেডশিট এবং গেমসের মতো বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ইনসার্ট করার সুবিধাও ছিল। সবমিলিয়ে বর্তমান অ্যানড্রয়েড ও আইফোনের আদর্শ বলা যায়।

বর্তমান সময়ে সর্বাধিক প্রচলিত স্মার্টফোনসমূহ হলো অ্যাপলের আইওএস, গুগলের অ্যান্ড্রয়েড, মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ, এবং রিসার্চ ইন মোশনের ব্ল্যাকবেরি। চলুন তাহলে এক এক করে সবার সম্পর্কে জানি।


আইফোন/iphone

আইফোন/iphone হল অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড দ্বারা নির্মিত অতি আধুনিক ইন্টারনেট ও মাল্টিমিডিয়া সংযুক্ত স্মার্টফোন। প্রথম আইফোন অবমুক্ত করেন ৯ জানুয়ারি ২০০৭ তারিখে অ্যাপলের তৎকালীন সিইও স্টিভ জবস । তখন আইফোনের বাজারজাতকরণ শুরু হয় ২৯ জুন ২০০৭ তারিখে।

আইফোনে ভিডিও ক্যামেরা পাশাপাশি ক্যামেরা , বহনযোগ্য মিডিয়া প্লেয়ার, ইন্টারনেট মাধ্যম, ভিজুয়্যাল ভয়েস মেইল ক্লাইন্টসহ ওয়াইফাই ও থ্রিজি কানেকটর হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আইফোনের পর্দাটি মাল্টি টাচস্ক্রীণ এবং একটি ভার্চুয়াল কিবোর্ডের সুবিধা রয়েছে। এটির জন্য অ্যাপলের বিশেষ অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোডের সুবিধা আছে। এইসকল অ্যাপলিকেশন দিয়ে আইফোনকে খেলাধুলা, জিপিএস নেভিগেশন, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র দেখার জন্য সহজেই ব্যবহার করে।

বর্তমান সময়ে  অ্যাপল ৯টি মডেলের আইফোন প্রস্তুত করেছে। যথাক্রমে আইফোন, আইফোন ৩জি, আইফোন ৩জিএস, আইফোন ৪, আইফোন ৪এস, আইফোন ৫, আইফোন ৫এস, আইফোন ৫সি, আইফোন ৬

এদের মধ্যে সর্ব শ্রেষ্ঠ মডেল হল আইফোন ৫ এস যা বিক্রিতে এখন পর্যন্ত ১ নম্বর অবস্থানে। এখানে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী টাচ আইডি ফিংগার প্রিন্ট স্ক্যানার।


ব্ল্যাকবেরি ফোনের ইতিহাস

ব্ল্যাকবেরি  মূলত  টু-ওয়ে পেজার হিসেবে ব্যাবহার করা হলেও পরবর্তীতে টেলিফোন,পেজার,পার্সোনাল অরগানাইজার,এবং আরো অনেক কিছু দিয়ে পৃথিবী তোলপাড় করে ফেলে এবং রিম (Research in Motion) সহ প্রথম ডিভাইস বিক্রি শুরু করে। তৎকালীন সময়ের ব্ল্যাকবেরি বিবর্তিত হতে হতে আজকের আধুনিক ব্ল্যাকবেরিতে রুপান্তরিত হয়েছে এবং মূল ব্ল্যাকবেরি হয়েছে বিলুপ্ত। মূল ব্ল্যাকবেরির স্মার্টফোন গুলো অধিকাংশই কালো রঙের ছিল বলেই ের এমন নাম করন।

শুরুর দিকের বা মূল ব্ল্যাকবেরি ডিভাইস, সর্বপ্রথম বাজারে এসেছিল তা হল 850 ও 857 সিরিজ। সেগুলো ছিল শুধু পেজার ডিভাইস,যা DataTAC নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতো,এটি একটি অতি পুরনো নেটওয়ার্কিং সিস্টেম যেটি আজকাল ব্যবহার হয় না বললেই চলে। আজকাল উচ্চ ফ্রিকুয়েন্সির ডিভাইস,ওয়্যারলেস ব্যবহারকারী যারা অনেক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে থাকেন তাদের জন্য ব্ল্যাকবেরি DataTAC-এর বদলে আরো নির্ভরযোগ্য ও উচ্চ ফ্রিকুয়েন্সির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা শুরু করে।

ব্ল্যাকবেরি কার্ভ (Blackberry Curve) ছিল জনপ্রিয় ব্ল্যাকবেরির একটি উন্নত মডেল। ২০০৬ সালে আসা পার্লের নানা ফিচার সহ বাজারে এসে, Curve 8300 সিরিজ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পায়। 8300 সিরিজে যা ছিল না,তা হল তারবিহিন অথবা ওয়াই-ফাই,  3G প্রযুক্তি,যা অন্যান্য মোবাইলের ভিড়ে এটিকে প্রায় বিলুপ্ত করে দেয়। রিম (RIM),যারা টাচ স্ক্রিন ফিচার সাপোর্টের জন্য সর্বপ্রথম “রিসার্চ ইন মোশন” (“Research in Motion”) প্রযুক্তি আবিস্কার করে,বাজারে নিয়ে আসে ব্ল্যাকবেরি স্টোর্ম (Blackberry Storm) সিরিজ। কিছু কিছু ব্ল্যাকবেরি টাচস্ক্রিন মোবাইলে কিবোর্ডও ছিল,কিন্তু 9500 সিরিজ পুরোপুরি টাচ স্ক্রিন স্মার্টফোন।

এটি বাজারে আসার পর,ব্ল্যাকবেরি বাজারে আবার শীর্ষস্থান ফিরে পায় কেবল তার সহজ প্ল্যাটফর্ম,কম দাম,এবং সাধারণ মানুষের কাছে এর সহজ লভ্যতার জন্য,অর্থাৎ যে কেউ সহজেই এটি কিনতে পারতো এবং সহজেই এর প্রেমে পড়ে যেতো। বিশেষ করে যারা ব্যাবসা করত,তারা ব্ল্যাকবেরির অনেক ফিচারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে,যেমন- সংগঠিত থাকা,নিউইয়র্কের পথে প্লেনে বসে টোকিওতে থাকা কোনো বন্ধুকে ফ্যাক্স করার সুযোগ;এবং কোনো কম্পিউটার ব্যবহার না করেই। সবকিছুই সম্ভব হয় তাদের হাতের সমান ছোট এই ডিভাইসটি দিয়ে।

খুব দ্রুতই অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মূল ব্ল্যাকবেরির ফিচারগুলোর বিভিন্ন বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে শুরু করে। নান্দনিক সৌন্দর্য একটি মুখ্য বিষয় হয়ে দাড়ায় যখন অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নানা রঙ এবং ডিজাইনের ফোন বাজারে আনতে শুরু করে। ব্ল্যাকবেরির নতুন ডিভাইসগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি,কিবোর্ড এবং ডিজাইন নিয়ে আসা হয়, যা দেখতে বেশ আকর্ষণীয় ছিল,এবং পাশাপাশি এমন সব ফিচার নিয়ে আসে যা তার কার্যকারিতার চাইতে দেখতে বেশ আকর্ষণীয় ছিল। যেমন,নতুন মডেলগুলোতে এমন কিবোর্ড নিয়ে আসা হয় যা “থাম্বিং” (“thumbing”) সাপোর্ট করে- অর্থাৎ দশটি আঙুল ব্যবহার না করে শুধু বুড়ো আঙুল ব্যবহার করলেই চলে,যেটি বেশ সুবিধাজনক। অন্যান্য মডেলে পুশ-টু-টক (push-to-talk),স্ক্রলিং (scrolling) এবং এরকম আরও অনেক ফিচার সম্বলিত মোবাইল ডিভাইস বাজারে আনে।

ব্ল্যাকবেরির এতসব বিবর্তন এবং উন্নয়নের পরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনৈতিক বাজারে তার অবস্থান হারাতে থাকে এবং তাদের টপ ব্যবস্থাপনাকে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ২০১৩ সালের আগস্টে ব্ল্যাকবেরি ঘোষণা দেয় যে তারা প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে দেবে। ব্যাপক চেষ্টা ও মার্কেটিং কৌশল অবলম্বন সত্ত্বেও ব্ল্যাকবেরি,অ্যাপেল ও নোকিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতা টিকে থাকতে পারেনি।

পরবর্তীতে জুলাই ২০১৪ তে,ব্ল্যাকবেরির অবস্থা ভাল হতে শুরু করে। এতে  তারা তাদের হারানো গৌরব ফিরে পায় কেবল তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল হওয়ার কারণে নয় বরং তাদের হ্রাসকৃত মূল্যের কারণে। এরপর,ব্ল্যাকবেরি বাজারে নিয়ে আসে “পাসপোর্ট” (“Passport”)। এইহ্যান্ডসেটটি,৪.৫ ইঞ্চি বর্গাকার,সম্পূর্ণ এইচ ডি রেজ্যুলেশন স্ক্রিন সম্বলিত,স্বাস্থ্য,স্থাপত্য,শিল্প ব্যবস্থাপনা,এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তার নিজস্ব জায়গা করে নেয়।


অ্যান্ড্রয়েড ইতিহাস

এনড্রয়েড ইনকর্পোরেট প্রতিষ্ঠা করা  হয়েছিল পালো আল্টো, ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০০৩ সালের অক্টোবরে। এটার প্রতিষ্ঠাতা এন্ডি রুবিন রিচ মাইনার , নিক সিয়ারস, নিক সিয়ারস এবং ক্রিস হোয়াইট। সম্ভবত এনড্রয়েড মোবাইলই প্রথম স্মার্টফোনের ধারনা পরিপূর্ণতা দেয়।

মজার কথা হল , যেহেতু তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ছিলেন তাই এনড্রয়েড প্রতিষ্ঠানটি তার কার্যক্রম চালাত অনেকটা লুকিয়ে। প্রতিষ্ঠান থেকে এটা বলা হত যে তারা শুধু মোবাইলের একটি সফটওয়্যারের কাজ করছে। কোম্পানির প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত মানের অপারেটিং সিস্টেম তৈরী করা ডিজিটাল ক্যামেরার জন্য। যদিও পরে তারা বুঝতে পারেন যন্ত্রটির বাজার তত বড় নয় তাই কোম্পানিটি সমস্ত মনোযোগ দেয় স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেম তৈরীর উপর। উদ্দেশ্য হিসেবে থাকে এটি সিমবিয়ান এবং মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ মোবাইল মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমগুলোর সাথে পাল্লা দেবে। এন্ড্রয়েড ইনকর্পোরেটেড লুকিয়ে পরিচালনা করা হত, কিন্তু সবাইকে বল তারা মোবাইল সফটওয়্যারের উপর কাজ করছে। একই বছরে রুবিনের টাকা ফুরিয়ে যায়। স্টিভ পার্লম্যান রুবিনের কাছের বন্ধু তাকে ১০,০০০ ডলার নগদ একটি খামে রেখে দেয় এবং কোম্পানির ঝুঁকি নিতে অস্বীকার করে।


গুগল এনড্রয়েড ইনকর্পোরেটেড প্রতিষ্ঠানকে ১৭ আগষ্ট ২০০৫ সালে কিনে নেয়; প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কর্মচারীগণকে তারা বহাল রাখে (এন্ডি রুবিন, রিচ মাইনার এবং ক্রিস হোয়াইট)। কেনার সময় এনড্রয়েড সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি বিস্তারিত, কিন্তু অনেকেই ধারনা করেছিল যে গুগল মোবাইল বাজারে আসতে যাচ্ছে। গুগলে, রুবিন দ্বারা পরিচালিত দল মোবাইলের প্লাটফর্ম হিসেবে লিনাক্স কারনেল উন্নয়ন করে। গুগল এই প্লাটফর্মকে বাজার ছাড়ে হ্যান্ডসেট এবং মোবাইল সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শর্ত হিসেবে বলে যে তারা এর আপডেট বা উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে। গুগল কিছু হার্ডওয়্যার উপাদান এবং সফটওয়্যার অংশীদারের কথা উল্লেখ্য করে যা অনেক ক্ষেত্রে মুক্ত এবং এমনকি তাদের অংশেও।

তখন গুগলের কার্যক্রম দেখে অনেকেই মনে মনে ভাবতে শুরু করেন গুগল মোবাইল যোগাযোগ বাজারে প্রবেশ করবে (২০০৬ সালের ডিসেম্বর থেকে)। বিবিসি এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল উল্লেখ্য করে গুগল তাদের সার্চ ইন্জিন এবং এপ্লিকেশন মোবাইল ফোনে চালাতে চায় এবং তারা তা করার জন্য কাজ করছে। অনলাইন এবং কাগজে গুজব ছড়াতে থাকে যে গুগল তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট তৈরী করছে। কেউ কেউ মতামত দেয় যে যেহেতু গুগল কারিগরী দিকগুলোর কথা বলছে সেহেতু এটা মোবাইল ফোনের নমুনা উৎপাদক এবং নেটওর্য়াক অপারেটরদের দেখাচ্ছে।

২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে, ইনফরমেশন উইক প্রকাশ করে যে গুগল কিছু মোবাইল এপ্লিকেশনকে প্যাটেন্ট করে নিয়েছে

এরিক স্কমিডিট, এন্ডি রুবিন, এবং হুগো বাররা গুগল নেক্সাস ৭ ট্যাবলেটের সংবাদ সম্মেলনে

৫ই নভেম্বর, ২০০৭ সালে ওপেন হ্যান্ডসেট এল্যায়েন্স সূচনা করে যাতে ছিল ব্রডকম কর্পোরেশন, গুগল, এইচটিসি, ইন্টেল, এলজি, মার্ভেল টেকনোলজি গ্রুপ, মটোরোলা, এনভিডিয়া, কোয়ালকম, স্যামস্যাঙ ইলেক্ট্রনিকস, স্প্রিন্ট নেক্সটেল, টি-মোবাইল এবং টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্ট। ওপেন হ্যান্ডসেট এল্যায়েন্সের উদ্দেশ্য হল মুক্ত ধরনের মোবাইল হ্যান্ডসেট প্লাটফর্ম তৈরী করা। একই দিনে, ওপেন হ্যান্ডসেট এল্যায়েন্স তাদের প্রথম পন্য এনড্রয়েড ছাড়ে যা লিনাক্স কারনেল ২.৬.২৫ এর উপর ভিত্তি করে তৈরী। প্রথম বান্যিজিকভাবে ছাড়া স্মার্টফোনটি ছিল এইচটিসি ড্রিম যা ২০০৮ সালের ২২শে অক্টোবর ছাড়া হয়।

৯ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে, আরো ১৪ নতুন সদস্য যোগ দেয় যাতে ছিল এআরএম হোল্ডিংস, এথিরস কমিউনিকেশনস, আসুসটেক কম্পিউটার ইনকর্পোরেট, জারমিন লিমিটেড, হাওয়াই টেকনোলজিস, প্যাকেটভিডিও, সফটব্যাংক, সনি এরিকসন, তোসিবা কর্পোরেশন এবং ভোডাফোন গ্রুপ।

২০১০ সালে গুগল তাদের গুগল নেক্সাস ধারার সেট ছাড়ে যা এনড্রয়েড চালিত স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটের নাম এবং এটি প্রস্তুত করা হয় অংশীদারদের মাধ্যমে। এইচটি গুগলের সাথে মিলে প্রথম নেক্সাস স্মার্টফোন তৈরি করে যা ছিল নেক্সাস ওয়ান। গুগল তারপর থেকেই এই ধারার যন্ত্রটি উন্নয়ন করে এসেছে যেমন নেক্সাস ৫ তৈরী করে এলজি, নেক্সাস ৭ (ট্যাবলেট) তৈরী করে এসুস। গুগল তাদের নেক্সাস ধারার যন্ত্রটি ছাড়ে মূলত এনড্রয়েডের একেবারে মূল ধারার পন্য হিসেবে। কারন এটি একেবারে নতুন, হালনাগাদকৃত ও উন্নীত অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের বৈশিষ্ট্য সংযুক্ত করে ছাড়া হয়।

২০১৩ সালের ১৩ই মার্চ ল্যারি পেজ তার একটি ব্লগ লেখায় জানান এন্ডি রুবিন এনড্রয়েড বিভাগ থেকে গুগলের অন্য একটি প্রকল্পে চলে গিয়েছেন। তার স্থলে সুন্দর পিচাই স্থলাভিষিক্ত হন যিনি গুগল ক্রোম বিভাগের প্রধান হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করতেন।

২০০৮ থেকেই, এনড্রয়েড অসংখ্য আপডেট পেয়েছে বা করা হচ্ছে যার মাধ্যমে অপারেটিং সিস্টেমটিকে উন্নত ও ত্রুটি মুক্ত করা হয়, নতুন সুযোগ সুবিধা যোগ করা হয়। প্রত্যেক বড় ধরনের সংস্করনের নাম ইংরেজি বর্ণমালা অনুসারে রাখা হয় যেমন সংস্করন ১.৫ কাপকেকের (Cupcake) পর ডোনাট (Donut) ১.৬ সংস্করন। ৪.৪.৪ কিটক্যাট সংস্করনটি আসলে নিরাপত্তা বিষয়ক আপডেট যা ছাড়া হয় ১৯ শে জুন ২০১৪ সালে ৪.৪.৩ সংস্করন ছাড়ার অল্প কিছু দিনের মধ্যে। এনড্রয়েড ৫.০ ললিপপ উন্মুক্ত করা হয়েছিল ১৪ই নভেম্বর ২০১৪ সালে এবং এতে মেটেরিয়াল ডিজাইন সূচনা করা হয়; পরে আরো দুটি ত্রুটি সংশোধন সংস্করন ছাড়া হয়

২০১৪ সালে গুগল এনড্রয়েড ওয়ান ছাড়ে যা একটি স্মার্টফোনের মানসরূপ বৈশিষ্ট্য রাখে। প্রধানত এটি যারা ডেভেলপার তাদের জন্যই ছাড়া হয়। এনড্রয়েড ওয়ানের স্মার্টফোনগুলোতে এনড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সর্বশেষ সংস্করন রাখা হয় যা মূল সংস্করনের কাছাকাছি।

২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত হুগো বাররা এনড্রয়েড দলের পক্ষে তাদের পন্যের মুখপাত্র হিসেবে ছিলেন। তিনি এনড্রয়েড প্রতিনিধিত্ব করতেন সংবাদ সম্মেলন এবং গুগল আই/ও, গুগলের বার্ষিক ডেভেলপার-কেন্দ্রিক সংবাদসম্মেলনগুলোতে। তিনি পুরো এনড্রয়েড ইকোসিস্টেম যাতে সফটওয়্যার হার্ডওয়্যার রয়েছে তার পুরোটাই প্রতিবেদন করতেন। যেমন হানিকম্ব, আইস ক্রিম স্যান্ডউইচ, জেলি বিন এবং কিটক্যাট অপারেটিং সিস্টেম যাত্রার সংবাদ সম্মেলন। নেক্সাস ৪ এবং নেক্সাস ৫ স্মার্টফোন, নেক্সাস ৭  এবং নেক্সাস ১০ ট্যাবলেটসমূহ। এছাড়া আরো গুগল সম্পর্কিত পন্য যেমন গুগল নাও এবং গুগল ভয়েস সার্চ। ২০১৩ সালে বাররা এনড্রয়েড দল ছেড়ে চীনা স্মার্টফোন প্রস্তুতকারন শাওমিতে যোগ দেন।


হ্যান্ডসেট ডিসপ্লে

এটি বড়, ভিজিএ, ২য় মাত্রার গ্রাফিক্স লাইব্রেরী, ৩য় মাত্রার গ্রাফিক্স লাইব্রেরী (ওপেনজিএল ইএস ২.০ উপর ভিত্তি চলে) এবং আগের স্মার্টফোনগুলোর প্রচলিত ডিসপ্লে নকশা সাপোর্ট করে।

সংরক্ষণ

এসকিউলিট, একটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী রিলেশনাল ডেটাবেজ সিস্টেম, ব্যবহৃত হয় তথ্য জমা রাখার কাজে।

সংযোগ

যেসব সংযোগ বা যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রযুক্তি সাপোর্ট করে সেগুলো হল জিএসএম/ইডিজিই, আইডিইএন, সিডিএমএ, ইভি-ডিও, ইউএমটিএস, ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই , এনএফসি এবং ওয়াইম্যাক্স।

বার্তা প্রেরণ

এসএমএস এবং এমএমএস দুটোই সাপোর্ট করে, যাতে থ্রেড টেক্সট মেসেজিং এবং এখন এনড্রয়েড ক্লাউড টু ডিভাইস মেসেজিং ফ্রেমওয়ার্কও (সি২ডিএম) রয়েছে এবং এটি পুশ মেসেজিং সিস্টেমের একটি অংশ।

স্মৃতি ব্যবস্থাপনা

যেহেতু এনড্রয়েড স্মার্টফোনের যন্ত্রগুলো ব্যাটারি চালিত, তাই এগুলোর স্মৃতি ব্যবস্থাপনা এমনভাবে করা হয় যাতে কম শক্তি খরচ করেই কাজ সম্পন্ন করা যায়, যা গতানুগতিক ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেমগুলোতে করা হয় না কারন ধরে নেয়া হয় ডেস্কটপ সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগে আছে। যখন একটি এ্যপ ব্যবহার করা হয় না সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে একে স্থগিত রাখে। আর যখন কোন এ্যপকে স্থগিত রাখা হয় তখন এটি কোন শক্তি খরচ করে না (ব্যাটারি বা প্রক্রিয়াকরণ) এবং ব্যকগ্রাউন্ডে থাকে যতক্ষন পর্যন্ত না আবার প্রয়োজন হচ্ছে। এর ফলে দ্বৈত সুবিধা পাওয়া যায় এ্যপটি বন্ধ করতে হয় না (প্রতিবার চালানোর সময় আবার পুনরায় খোলার প্রয়োজন হয় না) এবং এটি কোন শক্তি খরচ করে না।

নটিফিকেশন

নটিফিকেশন প্রদর্শনীর উপর প্রান্ত থেকে টেনে দেখা যায়; একক নটিফিকেশন পাশে টেনে খারিজ করা যায়, এবং হয়ত আরো অন্যান্য কার্যাবলির সুবিধা প্রদান করতে পারে। এনড্রয়েডের ব্যবহারকারী ইন্টারফেস সরাসরি পরিচালনা করা যায় স্পর্শের মাধ্যমে, এছাড়া বিশেষ ধরনের স্পর্ষের ধরন যেমন সুইপিং, ট্যাপিং, পিঞ্চিং ইত্যাদির মাধ্যমে প্রদর্শনীর বিষয়বস্তুকে পরিচালনা করা যায়। আর লেখার জন্য রয়েছে একটি ভার্চুয়াল কি-বোর্ড। ব্যবহারকারী প্রদত্ত ইনপুটের প্রতিক্রিয়া সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায়, যার ফলে মসৃন ও চমৎকার অভিজ্ঞতা লাভ হয় ব্যবহারকারীর। ব্যবহারকারীকে সহায়তার জন্য কম্পনের মাধ্যমে স্পর্ষ বিষয়ে জানানো হয় যাকে হ্যাপটিক ফিডব্যাক বলে। অভ্যন্তরীন হার্ডওয়্যারের বিভিন্ন অংশ যেমন অ্যাকসেলেরোমিটার, জাইরোস্কোপ এবং প্রক্সিমিটি সেন্সর বিভিন্ন এ্যপ আনুষঙ্গিক কাজে ব্যবহারকারীর জন্য এগুলো ব্যবহার করে থাকে। যেমন যন্ত্রটি অনুভূমিক বা উলম্ব থাকলে প্রদর্শনী ঠিক করা, রেস গেম খেলার সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রন করা ইত্যাদি

এপ্লিকেশনসমূহ

এ্যপস ব্যবহারের মাধ্যমে যন্ত্রের সক্ষমতাকে সম্প্রসারন করা যায়। স্মার্টফোন এর এ্যপ তৈরি করা হয় জাভা প্রোগ্রামিং ভাষায় এনড্রয়েড সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিট ব্যবহার করে। এসডিকের মধ্যে ডেভেলপমেন্টের জন্য সব হাতিয়ার থাকে যেমন একটি ডিবাগার, সফটওয়্যার লাইব্রেরি, একটি হ্যান্ডসেট ইমুলেটর যা কিউইএমইউ ভিত্তিক, দলিলপত্রাদি, নমুনা কোড এবং টিউটোরিয়াল। দাপ্তরিকভাবে সমর্থিত ইন্টিগ্রেডেড ডেভেলপমেন্ট এনভাইরনমেন্ট (আইডিই) হল ইক্লিপস যা এনড্রয়েড ডেভেলপমেন্ট টুলস প্লাগইন সহ ব্যবহৃত হয়। অন্যান্য ডেভেলপমেন্ট হাতিয়ারগুলো হল নেটিভ ডেভেলপমেন্ট কিট এপ্লিকেশনের জন্য অথবা সি বা সি++ এর এক্সটেনশন, গুগল এ্যপ ইনভেন্টর, নবীন প্রোগ্রামারদের জন্য একটি দৃশ্যমান পরিবেশ, এবং আরো অনেক ক্রস প্লাটফর্ম ভিত্তিক মোবাইল ওয়েব এপ্লিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক। জানুয়ারি ২০১৪ সনে গুগল এ্যপাচি কর্ডোবা ভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক উন্মুক্ত করে যার মাধ্যমে গুগল ক্রোম এইচটিএমএল ৫ ওয়েব এপ্লিকেশন এনড্রয়েডে আনা যাবে যাতে আবার একটি নেটিভ এপ্লিকেশন শেলও রয়েছে।

আপনার মতামত ...