শিশুশ্রম দায়ে দায়ী অ্যাপল স্যামসাং সনি

অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক অনুসন্ধানে সম্প্রতি বিশ্বের তাবৎ নামজাদা টেক কোম্পানি গুলোর শিশুশ্রমে জড়িত থাকার কথা জানা গেছে।

অ্যামেনেস্টি’র এই অনুসন্ধানে দেখা যায়, লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি যা হালের স্মার্ট ডিভাইসগুলোর অন্যতম শক্তি যোগাচ্ছে-তা তৈরী হতে যে কোবাল্ট লাগে  তা আসছে কঙ্গোর কোবাল্ট খনি থেকে। আর সেখানে কাজ করছে হাজার হাজার শিশু শ্রমিক, এমনকি যাদের বয়স ১০ এর ও নিচে!!
অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মানবাধিকার গ্রুপ যখন অ্যাপল-স্যামসাং-সনির মত টেক জায়ান্টদের দিকে এই দোষের আঙ্গুল তোলে তারা সবাই ই তাদের প্রডাক্টে শিশুশ্রম লব্ধ খনিজ ব্যবহৃত হচ্ছে – প্রমান করতে ব্যর্থ।

শিশুশ্রম দায়ে দায়ী অ্যাপল স্যামসাং সনি Sony-Apple-Samsung (3)৭ বছরের কম বয়সী শিশুরাও কঙ্গোর এই খনিগুলোতে কাজ করছে বলে গত মঙ্গলবারের এই রিপোর্টের জানা যায়।অ্যামেনেস্টির বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইট’স গবেষক মার্ক ডামেট বলে-

কোটি কোটি মানুষ আমরা নতুন প্রযুক্তির সুফল ভোগ করছি যাদের দরুন, কখনো কি জানতে চেয়েছি এগুলো কী থেক কিভাবে তৈরী হচ্ছে? বড় বড় ব্যান্ড গুলোকে অবশ্যই খনি থেকে এই কাচামাল উত্তোলনের ব্যাপারে কিছু দায়দায়িত্ব নিতে হবে, কারন এগুলো দিয়েই তারা মনোহর পন্যগুলো তৈরী করছে।

এই রিপোর্টে শিশুশ্রমের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগের আঙ্গুল সরাসরি অ্যাপল, স্যামসাং, সনি, মাইক্রোসফট, এলজি, হুয়াউ, ডেল, এইচপি, জেডটিই, ভোডাফোন, এবং ডাইমলার এর দিকে। তবে বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাটারী প্রস্তুতকারী কোম্পানি প্যানাসনিক এই তালিকার বাইরে।

শিশুশ্রম দায়ে দায়ী অ্যাপল স্যামসাং সনি Sony-Apple-Samsung (2)প্রায় ৪০০০০ শিশু এই সব খনিতে পৃথিবীর চাহিদার ৫০ভাগ কোবাল্ট উত্তোলনের কাজ করছে। সেপ্টেম্বর ২০১৪ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ এর মধ্যেই বিষক্রিয়ায় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারনে মারা গেছে প্রায় ৭০ জন শিশুশ্স্রমিক। অন্যরা প্রায় সবাইই কোন না কোন প্রানঘাতি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়তই। শিশুশ্রমিকরা জানায়, তারা দিনে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ভারী ভারী সব বোঝা বহন করে মাত্র ১-২ ডলার মজুরীর জন্য!

শিশুশ্রম দায়ে দায়ী অ্যাপল স্যামসাং সনি Sony-Apple-Samsung (1)অ্যমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রাথমিক অভিযোগ হল-বড় বড় এই টেক কোম্পানিগুলোর সবাইই এই কোবাল্ট কাচামাল হিসেবে ব্যবহার করছে। শিশুশ্রম যখন নিষিদ্ধ, অতএব শিশুশ্রমে উত্তলিত এই কোবাল্ট ব্যবহার করায় কোম্পানিগুলোও অপরাধী।

মার্ক ডামেট জানান-

প্রস্তুতকারক এই সংস্থাগুলোর সবাইই বলেছে যে শিশুশ্রমের ব্যপারে তারা জিরো টলারেন্স পলিসি অবলম্বন করে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো কখনোই তাদের সরবরাহকারীকে জিজ্ঞেস করেছি এই কোবাল্ট কোথা থেকে আসছে। তাদের এই দাবি মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

অভিযুক্ত হয়ে স্যামসাং অবশ্য জানায়,

যদি শিশুশ্রম নীতি লঙ্ঘন করা হয়, তবে সাপ্লায়ারদের সাথে ইমিডিয়েলিটি চুক্তি বাতিল করা হবে।

তারা আরো জানায়,

কঙ্গোর মতো বিতর্কিত জায়গাগুলোতে কোবাল্ট আনার ব্যাপারে তারা নিষেধ করলেও সাপ্লায়ারদের ‘নন-ডিসক্লোজার অগ্রীমেন্ট’র কারনে আসলে কোবাল্ট আসছে কোথা থেকে -জানা প্রায় অসম্ভব।

সংশ্লিষ্ট সরকারের উচিত অতিসত্ত্বর এইসব শিশুশ্রমিকদের পুনর্বাসনের জন্যে ব্যবস্থা গ্রহন করা এবং সাপ্লায়ারদের শিশুশ্রমিক ব্যবহারের ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা।

সংযোজনঃ

১। নন ডিস্ক্লোজার এগ্রিমেন্টঃ চুক্তির যে ধারার কারনে সাপ্লায়ার প্রতিষ্ঠান কিভাবে, কোথাথেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করছে, তা জানাতে বাধ্য নয়।

২। খনির ভিডিও

মাসউদ ইকবাল

আমি মাসউদ ইকবাল, টেকমাস্টারব্লগ কমিউনিটির একজন উপদেষ্টা।
বাংলা ভাষায় প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েব কন্টেন্টের মানসম্মত এক সংগ্রহ তৈরীর লক্ষ্যে টেকমাস্টারব্লগের এই যাত্রায় আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছি।
সাথে থাকুন।

আপনার মতামত ...