টরেন্ট কি, কিভাবে কাজ করে: টরেন্ট ব্যবহার – ১

বর্তমানে আমরা যারা ইন্টারনেট ব্যাবহার করি মোটামোটি সবাই টরেন্ট শব্দটির সাথে পরিচিত। কিন্তু অনেকেই এখনো জানেন না আসলে টরেন্ট জিনিসটি কি ,কিভাবে কাজ করে, আর এর মাধ্যমে কি করেই বা মুভি,গান,নাটক,টিভি সিরিজ ডাউনলোড করা যায়। তাদের জন্যই এই ধারাবাহিক টরেন্ট সিরিজ। এর মাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে আমরা টরেন্টের আপলোড ডাউনলোড সহ টরেন্টের ব্যবহারের প্রয়োজনীয় সব কিছুই জানতে পারবো।


Untitled-1টরেন্ট হলো ফাইল শেয়ারের একটা প্রক্রিয়া বা সিস্টেম আপনি চাইলে পথ ও বলতে পারেন ।২০০১ সালে  ব্রাম চোহেন টরেন্ট আবিষ্কার করেন। তার এই আবিষ্কারের পর থেকে ফাইল শেয়ারিং জগতে ঈদের চাঁদ দেখার মতোন ব্যাপার ঘটে গেছে। তবে অনেক সুবিধা যেমন থাকে তেমন অসুবিধা ও।  পাইরেসী মারাত্মক আকারে বেড়ে গেছে টরেন্টের কারনে। এখন কোনো মুভি বের হলে তারপরের দিন ই কোনো না কোনো ভাবে টরেন্টে চলে আসে। হাজার হাজার টাকার গেম ও পার পায়না এর থেকে, গেম রিলিজের কিছুদিন পরেই ক্র্যাক সহ ফাইল চলে আসে টরেন্টে ফলে প্রচুর লস হয় গেম মালিকদের। তাছাড়া ভাইরাসের কিছু ভয় থেকেই যায়। তবে আমাদের দেশের হিসেবে আমরা পাইরেটেডে অভ্যস্ত। ইনফ্যাক্ট আমাদের দেশের ৮০% এর উপর পার্সোনাল কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম ও পাইরেটেড। সেখানে পাইরেটেড মুভি দেখা,গেম খেলা সফটওয়্যার ব্যবহার করা আমাদের কাছে ডাল ভাতের মতোনই। তবে টরেন্টের উপকারিতাও কম নয়। আর এতে সার্ভার ডাউনের মতোন ও কোনো ভয় নেই।

নরমালি আমরা নরমাল ডাউনলোডের ক্ষেত্রে একটা সার্ভার থেকে ফাইল নামাই। আমরা ব্রাউজার বা সফটওয়্যার দিয়ে যে সার্ভারে ফাইল আছে সেই সার্ভারে ডাউনলোদের জন্য রিকোয়েস্ট পাঠাই আর সার্ভার রিকোয়েস্ট পেলে ডাউনলোডের অনুমতি দিলে তারপর ডিরেক্ট সার্ভার থেকে আমাদের পিসিতে/মোবাইলে ফাইল ডাউনলোড শুরু হয়। কিন্তু টরেন্টের বেলায় কিন্তু এমন হয়না। তাহলে টরেন্টের পার্থক্য টা কি? সবই জানবো তবে আসেন আগে কিছু তথ্য জেনে নেই তাহল্র পুরো জিনিসটাই pureIt এর বিশুদ্ধ পানির মতোন পরিষ্কার হয়ে যাবে। 


টরেন্টঃ টরেন্ট হলো ফাইল শেয়ারিং একটা সিস্টেম যা P2P বা peer to peer শেয়ারিং মেথড ব্যবহার করে কাজ করে।

টরেন্ট ফাইলঃ টরেন্ট ফাইল হলো .torrent এক্সটেনশন যুক্ত এক ধরনের মেটা ফাইল যা একটি url এর মতো কাজ করে থাকে।

আপলোডার(uploader): সহজ কথায় হলো যে টরেন্ট ফাইলটি ক্রিয়েট করে আপলোড করেন তিনি ই আপলোডার। তার থেকেই অন্যরা ডাউনলোড করে আবার আপলোড/সীড করতে পারবে।

সীডার(seeder): সীডার মূলত হলো যারা ডাউনলোড কমপ্লিট করে আবার অন্য ডাউনলোডার দের ও ফাইল ডাউনলোড করার জন্য আপলোড করে।একটা টরেন্টের ডাউনলোড স্পীড নির্ভর করে সীডারের সংখ্যার উপর যতো বেশি সীডার ততো বেশি স্পীড পাওয়া যাবে।

লিচার(leecher): যারা ডাউনলোড  করছে একই সাথে আবার সীড করছে বা করছেনা। লিচারের সংখ্যা যতো বেশি হবে ততো স্পীড কম পাওয়া যাবে।

ট্রাকার(Tracker): একটি টরেন্ট ফাইলের সব আপলোডের -ডাউনলোডার দের মধ্যে সম্পর্ক রাখার জন্য একটি সার্ভার কাজ করে। এই সার্ভার টরেন্টটিকে ট্র্যাক করে আপলোডার-ডাউনলোডারদের মধ্যে কানেকশন ঠিক রাখে। একেই ট্রাকার বলে।

টরেন্ট ক্লায়েন্টঃ সাধারন ডাউনলোডার দিয়ে টরেন্ট ডাউনলোড করা যায়না। এর জন্য আপনার প্রয়োজন Bittorrent,utorrent এর মতো সফটওয়্যারগুলো। এদেরকেই টরেন্ট ক্লায়েন্ট বলা হয়।


কিভাবে কাজ করে টরেন্ট

প্রথমেই বলি টরেন্ট কাজ করে P2p (peer to peer) এ। অর্থাৎ একটি ডিভাইসের সাথে অন্য ডিভাসের সম্পর্ক এই সিস্টেমে। এখানে কোনো নির্দিষ্ট সার্ভার থেকে ডাউনলোড হয়না আপনার কম্পিউটার থেকে সরাসরি ফাইল ডাউনলোড হবে ডাউনলোডারের কম্পিউটারে। আবার আপনিও সরাসরি কোনো সার্ভার ছাড়াই বাকিদের কম্পিউটার থেকেই ডাউনলোড করতে পারবেন।

torrent-file-sharingverified-9-638ধরে নিন kickss.to নামক টরেন্ট সাইটে কেউ একটা টরেন্ট আপলোড দিলো avater মুভি । এখন আপনি ডাউনলোড করছেন মুভিটি। আপনার আগে আরো অনেকে ডাউনলোড করেছেন মুভিটি । এখন আপনার ডাউনলোড কোথা থেকে হচ্ছে জানেন? আপনার ডাউনলোড হচ্ছে যতোজন মানুষ ফাইলটি ডাউনলোড করে সীড করছে ততোজনের কাছ থেকে ।  আচ্ছা আরো সহজ করেই বলা যাক। আপলোডারের পিসি থেকে আপনার ফাইলটি ডাউনলোড হচ্ছে। আবার আপনার কয়েকজন বন্ধু ফাইলটি ডাউনলোড করে সীড অন করে রেখেছে, এর ফলে আপনি তাদের থেকেও ফাইলটি পাচ্ছেন খন্ড খন্ড করে ফাইলটি আসছে। আবার আরো কিছু মানুষ আপনার মতোন ই  ফাইলটির কিছু অংশই কেবল মাত্র ডাউনলোড করেছেন তাহলে আপনার ফাইলএর কিছু অংশ তাদের থেকেও ডাউনলোড হবে। অর্থাৎ যতো সীডার হবে ততো দ্রুত এবং সহজে আপনার ফাইল টি ডাউনলোড হয়ে যাবে। আর ডাউনলোড শেষ হলে আপনিও সীড করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার ডাউনলোড শেষে আপনি সীড অন রাখলে  বাকি ডাউনলোডার রাও আপনার থেকে ডাউনলোড করতে পারবে।

এখন প্রশ্ন আসে ডাউনলোড করবো কি দিয়ে সেটাই তো বললেন না। নরমাল IDM বা ব্রাউজারের ডাউনলোডার দিয়ে টরেন্ট ফাইল সাধারনত ডাউনলোড করা যায়না। তাই এরজন্য আপনার প্রয়োজন হবে টরেন্ট ক্লায়েন্ট । মানে Bittorrent,utorrent সফটওয়্যারগুলো। এগুলো দিয়ে আপনি টরেন্ট বানাতে ও পারবেন।

এই প্রথম পর্ব। এর পর ধাপে ধাপে আমরা দেখবো কিভাবে টরেন্ট ডাউনলোড করতে হয়, টরেন্ট কোথা থেকে ডাউনলোড করবেন, টরেন্ট তৈরী ও আপলোড করবেন কিভাবে, টরেন্ট ব্যাবহার করার সময় কি কি সতর্কতার দরকার হয়। চোখ রাখুন টেকমাস্টার ব্লগে ।

পর্ব ২ঃ টরেন্ট ডাউনলোডঃ টরেন্ট ব্যাবহার-২  

 

উদয়

সবার মধ্যেই কিছু না কিছু থাকে,সেই কিছু খোজার প্রচেষ্টাতেই আছি। ভালো লাগে টেকনোলজি,তাই টেক-মাস্টারব্লগের সাথে সম্পৃক্ততা ।

আপনার মতামত ...