উইন্ডোজ ১০ ঝড়ো বেগে গতিময় পিসি

কম্পিউটার যখন স্লো হয় তখন হয় এতে অতিরিক্ত র‍্যাম (র‍্যানডম এক্সেস মেমোরি) অথবা দ্রুত গতির এসএসডি (সলিড স্ট্যাট ড্রাইভ) যোগ করি । তবে এ কাজগুলো করতে অর্থ ব্যয় করতে হয় । তাই প্রাথমিক অবস্থায় কম্পিউটারের গতি বৃদ্ধির জন্য কিছু বিকল্প উপায় আছে, যাতে অর্থ ব্যয় হয়না ও অল্প পরিশ্রমেই কম্পিউটারের গতি বাড়ানো যায় । তবে এ বিকল্প পদ্ধতিগুলো কম্পিউটারের ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে । আবার কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম মুছে দিতে পারে । তাই এই বিকল্প পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের পূর্বে এ বিষয়ে অবশ্যই অবগত হওয়া প্রয়োজন ।

 

উইন্ডোজ-১০ এর গতি বৃদ্ধির ৯টি উপায়ঃ

 

. রিবুট করুণ/পুনরায় কম্পিউটার চালু করুনঃ

কম্পিউটার যদি অতি মাত্রায় স্লো হয়ে যায় তাহলে কম্পিউটার বন্ধ করে পুনরায় চালু করতে হবে অর্থাৎ রিবুট করতে হবে। স্লিপ বা হাইবারনেট মুডের চেয়ে রিবুট করলে কম্পিউটারের স্লো ভাব অনেকাংশে কমে যায়।

 

 

২. হাই পারফরমেন্স চালু করাঃ

হাই পারফরমেন্স চালু করলে কম্পিউটার অধিক পরিমাণে বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে এর গতি বৃদ্ধি করে। তবে এর ফল হিসেবে কম্পিউটারের ব্যাটারির ক্ষতি হয় ও বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যায়।

হাই পারফরমেন্স চালু করার উপায়ঃ

(ক) স্টার্ট মেনুর কার্সর রেখে রাইট বাটনে ক্লিক করলে ‘পাওয়ার অপশন’ নামে একটি অপশন আসবে ।

(খ) ‘পাওয়ার অপশন’ এ ক্লিক করলে ‘কন্ট্রোল পেনেল’ নামক উইন্ডোটি ওপেন হবে ।

(গ) এর নিচের দিকে আছে ‘শো এডিশনাল প্লান’ নামক অপশন । যাতে ক্লিক করে ‘হাই পারফরমেন্স অপশন’টি আসবে। এখান থেকে ‘হাই পারফরমেন্স অপশন’টি চালু করা যায় ।

 

 

৩. কিছু অপশন পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনাঃ

(ক) স্টার্ট মেনুর কার্সর রেখে রাইট বাটনে ক্লিক করলে ‘সিস্টেমস’ নামে একটি অপশন আসবে ।

(খ) ‘ সিস্টেম’ এ ক্লিক করলে ‘কন্ট্রোল পেনেল’ নামক উইন্ডোটি ওপেন হবে।

(গ) এরপর ‘এডভান্সড সিস্টেম সেটিংস’ এ ক্লিক করলে ‘সিস্টেম প্রপারটিজ’ নামক ডায়ালগ বক্স আসবে।

(ঘ) ডায়ালগ বক্সটির ‘এডভান্সড ট্যাব’ এর ‘সেটিংস’ বাটনে ক্লিক করলে ‘পারফর্মেন্স বক্স’ আসবে।

(ঙ) এই ‘পারফর্মেন্স বক্স’ থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো মুছে দিলেই কম্পিউটারের গতি বাড়বে ।

 

 

৪. অপ্রয়োজনীয় অটোলোডার বন্ধ করে দেওয়াঃ

প্রতিবার কম্পিউটার চালু করার পর কিছু প্রোগ্রাম অটোলোড হয় । এর মধ্যে কতগুলোর কারণে কম্পিউটার চালু হতে দেরি হয় আবার কিছু কারণে কম্পিউটার চালুর পর উইন্ডোজের কাজ স্লো হয়ে যায় । তবে এই প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে সবগুলো আবার অপ্রয়োজনীয় নয় । কারণ কম্পিউটার চালুর পর এন্টিভাইরাস কিংবা ওয়ান ড্রাইভের মতো প্রোগ্রামগুলো লোড হওয়ার প্রয়োজন আছে ।

আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য এমন কিছু প্রোগ্রাম আছে যা কম্পিউটার চালুর সাথে সাথে অটোলোড হয় কিন্তু আমরা তা সর্বক্ষণ ব্যবহার করিনা । এই প্রোগ্রামগুলো অটোলোড হওয়া বন্ধ করতে হলে যা করতে হবেঃ

(ক) ‘টাস্ক বার’ এর উপর কার্সর রেখে রাইট বাটন ক্লিক করে ‘টাস্ক ম্যানেজার’ ওপেন করতে হবে।

(খ) ‘স্টার্ট আপ’ ট্যাব ওপেন হবে। (যদি কোন ট্যাব ওপেন না হয় তাহলে মোর ডিটেইলস অপশনে ক্লিক করতে হবে)

(গ) ‘স্টার্ট আপ’ ট্যাবে ক্লিক করলে সব অটোলোডিং প্রোগ্রামগুলো দেখাবে।

(ঘ) এবার এখান থেকে যে প্রোগ্রামগুলো সর্বক্ষণ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই তা বন্ধ করে দিতে হবে ।

(ঙ) যে প্রোগ্রামটি বন্ধ করতে হবে তার উপর কার্সর রেখে রাইট বাটন ক্লিক করে ডিজেবল অপশনটি সিলেক্ট করলেই প্রোগ্রামটি বন্ধ হয়ে যাবে ।

 

 

৫. হগ প্রক্রিয়া বন্ধ করাঃ

(ক) ‘টাস্ক বার’ এর উপর কার্সর রেখে রাইট বাটন ক্লিক করে ‘টাস্ক ম্যানেজার’ ওপেন করতে হবে ।

(খ) প্রসেস ট্যাব ওপেন হবে। (যদি কোন ট্যাব ওপেন না হয় তাহলে ‘মোর ডিটেইলস’ অপশনে ক্লিক করতে হবে)

(গ) প্রসেস ট্যাবে সিপিইউ কলামে প্রসেসর ব্যবহারের দিক দিয়ে যেই প্রোগ্রামগুলো উপরের দিকে আছে সেই প্রোগ্রামগুলোই হগিং প্রকিয়ার সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই এ প্রোগ্রাম গুলো বন্ধ করে দিতে হবে।

(ঘ) যে প্রোগ্রামটি বন্ধ করতে হবে সেটি সিলেক্ট করে ‘এন্ড নাউ’ বাটনে ক্লিক করলে প্রোগ্রামটি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এদের মধ্যে সবগুলো প্রোগ্রাম বন্ধ করলে আবার কম্পিউটারের স্বাভাবিক কার্যকলাপে সমস্যা দেখা দেয়। তাই কোন প্রোগ্রাম বন্ধ করার আগে অবশ্যই এ ব্যপারে অবগত হওয়া উচিত।

 

 

৬. সার্চ ইন্ডেক্সিং বন্ধ করাঃ

ডকুমেন্ট লাইব্রেরির একাধিক ফাইলের মধ্যে যেকোনো একটি শব্দকে খুঁজে বের করা যায় সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে। কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন খোলা রেখে কম্পিউটারে অন্য কাজ করলে তা কম্পিউটারকে স্লো করে দেয়।

 

সার্চ ইন্ডেক্সিং বন্ধ করার জন্য যা করতে হবেঃ

সার্চ ইনডেক্সিং বন্ধ করার ২টি উপায় আছে। একটি হলঃ

(ক) ‘উইন্ডোজ এক্সপ্লোরার’ ওপেন করে ‘সি’ ড্রাইভে রাইট ক্লিক করে ‘প্রপারটিজ’ অপশনটিতে যেতে হবে।

(খ) এবার ‘জেনারেল’ ট্যাবে গিয়ে ‘এলাউ ফাইলস অন দিজ ড্রাইভ টু হেভ কন্টেন্টস ইন্ডেক্সড ইন এডিশন টু  ফাইল প্রপারটিজ’ অপশনটি মুছে দিতে হবে।

(গ) তারপর কম্পিউটার অটো শাট ডাউন হবে।

 

অপরটি হলঃ

(ক) কর্নাটা ফিল্ডে ‘ইনডেক্সিং’ কথাটি লিখতে হবে।

(খ) ‘ইনডেক্সিং’ অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে।

(গ) একটি ‘ডায়ালগ বক্স’ আসবে যার বাম পাশে নিচের দিকে ‘মডিফাই’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

(ঘ) অপর একটি ‘ডায়ালগ বক্স’ আসবে যার নিচের দিকে আছে ‘সামারি অব সিলেক্টেড লোকেশন’।

(ঙ) এতে ক্লিক করলে ‘ফাইল লোকেশন’ দেখাবে। এর মধ্যে উপরের ফাইলগুলো সব চেয়ে বেশি কন্টেন্টযুক্ত। উক্ত সেকশন থেকে এই ফাইলগুলো মুছে দিলে এই ফাইলগুলোর ইনডেক্সিং হবেনা।

 

 

. উইন্ডোজ টিপস বন্ধ করাঃ

অপারেটিং সিস্টেম কিভাবে উৎকৃষ্টরুপে ব্যবহার করা যায় এ বিষয়ে উইন্ডোজ-১০ প্রায়ই বিভিন্ন টিপস দিয়ে থাকে । যা কম্পিউটারকে স্লো করে দেয়।

উইন্ডোজ টিপস বন্ধ করাতে যা করণীয়ঃ

(ক) ‘স্টার্ট মেনু’তে যেয়ে ‘সেটিংস’ এ ক্লিক করতে হবে।

(খ) একটি ‘ডায়ালগ বক্স’ আসবে।

(গ) ডায়ালগ বক্সে বামদিকে ‘নোটিফিকেশন্স এন্ড একশন্স’ নামক সেকশনে গিয়ে ‘গেট টিপস, ট্রিক্স এন্ড সাজেশন্স এজ ইউ ইউজ উইন্ডোজ’ নামক অপশনটি বন্ধ করে দিতে হবে।

(ঘ) অন্যান্য নোটিফিকেশন অপশনগুলোও এই সেকশন থেকে বন্ধ করে দেওয়া যায়। তবে অন্যান্য অপশনগুলো পিসি স্লো করেনা।

 

 

৮. অভ্যন্তরীণ (ইন্টারনাল) ড্রাইভ পরিস্কারকরণঃ

যদি কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ ড্রাইভ (হার্ডড্রাইভ কিংবা সলিড স্ট্যাট ড্রাইভ) ফাইল দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায় তাহলে তা পিসি কে স্লো করে দেয়।

 

অভ্যন্তরীণ (ইন্টারনাল) ড্রাইভ পরিস্কারকরণে যা করণীয়ঃ

(ক) ‘উইন্ডোজ’ এর ‘ডিস্ক ক্লিন আপ’ টুলে যেয়ে কর্নাটা ফিল্ডে ‘ডিস্ক ক্লিন আপ’ লিখে সার্চ করতে হবে।

(খ) ‘ডিস্ক ক্লিন আপ’ কম্পিউটার ড্রাইভগুলো সার্চ করবে।

(গ)এবার ‘ক্লিন আপ সিস্টেম ফাইলস’ বাটনে ক্লিক করলে একটি ‘এডমিনিস্ট্রেটর পাসওয়ার্ড’ চাবে।

(ঘ) পাসওয়ার্ডটি টাইপ করলে পূর্ববর্তী কিছু ‘উইন্ডোজ ইন্সটলেশন প্রোগ্রাম’ আসবে।

(ঙ) এবার এখান থেকে অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো সিলেক্ট করে ‘ওকে’ বাটন চাপলে ‘অভ্যন্তরীণ (ইন্টারনাল) ড্রাইভ’ এর প্রায় অনেক খানি জায়গা খালি হয়ে যাবে। [এখান থেকে অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো আনইন্সটলও কর যায়।]

 

 

৯. ম্যালওয়ার (ম্যালিশাস সফটওয়্যার) শনাক্তকরণ ও দূরীকরণঃ

ম্যালওয়ার (ম্যালিশাস সফটওয়্যার) হল এক বিশেষ ধরণের সফটওয়্যার যার মধ্যে আছে বিভিন্ন  কম্পিউটার ভাইরাস, ওয়ারমস, স্পাইওয়ার, এডওয়ার প্রভৃতি। কম্পিউটার যদি কোন ম্যালওয়ার দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহলে কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়। কম্পিউটার ভাইরাস মূলত বিভিন্ন কোড, স্ক্রিপ্ট, সফটওয়্যার প্রভৃতি রুপে থাকে।

ম্যালওয়ার দূরীকরণের উপায়ঃ

# বিভিন্ন ধরণের ‘এন্টি-ভাইরাস’ ব্যবহার করে ম্যালওয়ার শনাক্তকরণ ও দূরীকরণ করা যায়। এর মধ্যে আছে- বিটডিফেন্ডার ফ্রি এডিশন, ক্যাস্পারস্কি ভাইরাস রিমুভাল টুল, ম্যালওয়ারবাইটস প্রভৃতি।

# ‘সেইফ মুড’ এ পিসি চালিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায়।

# কিছু টেম্পোরারি ফাইল মুছে ফেলা যায়।

যদি উপরোক্ত প্রক্রিয়া গুলো সম্পন্ন করা সত্ত্বেও পিসি স্লো থাকে, তাহলে হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করতে হবে।

One thought on “উইন্ডোজ ১০ ঝড়ো বেগে গতিময় পিসি

আপনার মতামত ...