সেরা ১০০ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ২০১৭: ১ম পর্ব

স্মার্টফোনের এই যুগে লাখ লাখ অ্যাপ্লিকেশন। একেক অ্যাপ্লিকেশন এর নানাবিধ কাজ। টেকমাস্টারব্লগ এর এই সিরিজে টেকপ্রেমী সাদিয়া রহমান দেখবেন, সেরা ১০০ অ্যান্ড্রয়েড এপ ২০১৭ এর ১ম পর্ব।

১. আন্ডারলিস্টঃ

দৈনন্দিন কর্ম তালিকা তৈরির জন্য বিভিন্ন এপের মধ্যে ‘আন্ডারলিস্ট’ সবচেয়ে সুন্দর এবং এর ব্যবহারও অনেক সহজ। এর মাধ্যমে দৈনিক কর্ম তালিকা তৈরি, বাজার তালিকা তৈরি, পরিবারের জন্য খাদ্য তালিকা তৈরি প্রভৃতি কাজ করা যায়। ‘আন্ডারলিস্ট’ অনেক ধরণের এপ এবং ওয়েবসাইটের সাথেও সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করে এবং তাদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক রক্ষা করে। যাতে করে তৈরিকৃত তালিকাটি আপনার জন্য গ্রহণ উপযোগী হয়। গত বছর মাইক্রোসফট এই এপ টি কিনে নেয়।

আলোকচিত্র

 

২. অ্যাডোব ফটোশপ এক্সপ্রেসঃ

‘অ্যাডোব ফটোশপ এক্সপ্রেস’ এপটিতে আছে স্ন্যাপশট নেওয়ার জন্য কিছু উন্নতমানের টুলস। ইন্সটাগ্রামের মতো এতে আকর্ষণীয় ফিল্টারও আছে। এপটির মাধ্যমে বিভিন্ন ছবির সাথে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার সুসামঞ্জস্যতা বিধান করা যায়। এর মাধ্যমে ছবিও শেয়ার করা যায়।

৩. অটোডেস্ক পিক্সলারঃ

‘পিক্সলার’ এপটি ছবি শেয়ার করার পাশাপাশি কোলাজও তৈরি করে। তবে এটি শুধু কোলাজই তৈরি করেনা; বরং এর আছে কিছু উন্নত ইফেক্ট ও ফিল্টার যা ছবিতে আনে শৈল্পিক ছোয়া।

৪. ফ্লিকারঃ

ছবি সংরক্ষণের জন্য ‘ফ্লিকার’ দিচ্ছে ১ ট্যারাবাইটেরও বেশি ফাঁকা জায়গা। এর মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও এডিট করা যায়। পুরনো ছবি ব্যাকআপ করা যায়। তাছাড়া এর মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের ফটোগ্রাফারের ছবিগুলো দেখার সুযোগ লাভ যায়।

৫. গুগল ফটোজঃ

‘গুগল ফটোজ’ এর আছে ছবি শনাক্ত করে খুঁজে বের করার এক আশ্চর্য ক্ষমতা। কোন লোকের চেহারা কয়েক যুগ পরে পালটে গেলেও এপটি লোকটির চেহারা ঠিকই শনাক্ত করতে পারে। এমনকি কোন প্রাণী কিংবা স্থানের বেলায়ও এপটি একই ভাবে কাজ করে। ‘গুগল ফটোজ’ এর এই কাজ “গুগল ইমেজ সার্চ” এর মতো এত সুক্ষ্ণ না হলেও মোটামুটি আকর্ষণীয়। এছাড়া এপটির মাধ্যমে এডিটিং করা এবং ক্লাউড স্টোরেজে ছবি সংরক্ষণ করা যায়। গুগল ফটো আরও মানসম্পন্ন করতে এর সাথে ‘গুগল ফটোস্ক্যান’ ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে পুরনো ছবি ব্যাকআপ করা যায়।

৬. ইন্সটাগ্রামঃ

এইতো কয়দিন আগে ‘ইন্সটাগ্রাম’ এ চালু হয়েছে ভিডিও আপলোড করা, বার্তা (ম্যাসেজ) পাঠানোর বিশেষ সুবিধা। ছবির ত্রুটি সংশোধনের জন্য ও বিশেষ ইফেক্ট প্রদানের জন্য এর আছে উন্নতমানের ফটো এডিটিং অপশন। ইন্সটাগ্রামের সর্বশেষ সংযোজন হল “ইন্সটাগ্রাম স্টোরিজ”,যা ‘স্ন্যাপচ্যাট’ ভক্তদের কাছে সুপরিচিত হয়ে উঠছে। ছবি শেয়ারের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইন্সটাগ্রাম বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় এপ।

৭. পিক্সআর্ট ফটো স্টুডিওঃ

‘পিক্সআর্ট’ হল অ্যানড্রয়েডে ব্যবহৃত সেরা ফটো এডিটিং এপগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি ফটোশপের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষমতা রাখে। ‘পিক্সআর্ট’ এর আছে হাজারো রকমের ইফেক্ট, বিভিন্ন লেয়ারে ছবি এডিটিং ক্ষমতা, ছবি আকার সরঞ্জাম এবং কোলাজ। তবে যদি একে ইন্সটাগ্রামের প্রতিরুপ মনে করে থাকেন তাহলে ভুল করবেন। আপনার অ্যানড্রয়েডের স্ন্যাপশটকে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে একবার এই এপটি পরখ করে দেখুন।

৮. স্ন্যাপসিডঃ

ইন্সটাগ্রামের তুলনায় স্ন্যাপসিড দেয় ছবির উপর বাড়তি নিয়ন্ত্রন ক্ষমতা। এটি একই সাথে ফটো এডিটর এবং ফিল্টার এপ রুপে কাজ করে। এতে আছে অনেক কার্যকরী টুলস যা ছবিতে ফিল্টার ও ইফেক্ট প্রদানে সাহায্য করে। তাই ইন্সটাগ্রামে ছবি ব্যবহারের পূর্বে তা স্ন্যাপসিডের মাধ্যমে একটু আকর্ষণীয় করে নেওয়াই যায়।

পড়াশোনা এবং খবর

৯. ক্যালিবার কম্পেনিয়নঃ

‘ক্যালিবার’ দিচ্ছে এক বিশাল ই-বুক ব্যবস্থাপনা। ইউএসবি কিংবা ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে যেকোনো বই এতে যুক্ত করতে পারেন। এর মাধ্যমে যেখানে খুশি সেখান থেকে ক্লাউড স্টোরেজে ই-বুক সংগ্রহ করা যায়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হল যে, এটি ব্যবহার করা খুব সহজ এবং এপটি দারুণ কার্যকরী। আপনি যদি অ্যামাজনের শিকল থেকে বেরিয়ে আসতে চাল তাহলে এই এপটি হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ।

১০. কমিক্সোলোজি কমিক্সঃ

অ্যামাজন কর্তৃক অধিকৃত কমিক্সোলোজি এপটি কমিক বই পড়ুয়াদের জন্য একটি বিস্ময়। এই এপটিতে বাজারে প্রকাশিত নতুন কমিক্সগুলো এইচডি কোয়ালিটিতে পাওয়া যায়। নতুন কমিক্সোলোজি আনলিমিটেড আপনাকে দিচ্ছে প্রতি মাসে কমিক্সের এক বিশাল ভান্ডার পড়ার সুযোগ।

১১. ইএসপিএনঃ

এমন কোন খেলা নেই যার খবর ইএসপিএন অ্যান্ড্রয়েড এপে পাওয়া যায়না। মূলত এটিই এপটির সবচেয়ে আশ্চর্যজনক দিক। আমেরিকান ফুটবল থেকে শুরু করে ইন্ডিয়া-নেপলিশ ৫০০ পর্যন্ত সব ধরণের খেলার খবর এতে পাওয়া যায়। তাই আপনি যখন খুশি আপনার পছন্দের খেলাটি উপভোগ করতে পারেন। ম্যাচ দেখতে যাতে ভুলে না যান তার জন্য সতর্ক সংকেতও চালু করা যায় এপটির মাধ্যমে। সেই সাথে এর মাধ্যমে সংবাদ শিরোনাম ও ভিডিও দেখা যায়।

১২. ফ্লিপবোর্ডঃ

সংবাদ পাঠের জন্য ফ্লিপ বোর্ড হল অন্যতম সেরা এপ। এর মাধ্যমে যেকোনো প্রবন্ধ,ভিডিও, পোস্টকার্ড বা আপনার পছন্দের যেকোনো বিষয়ে খবরাখবর পেতে পারেন। এই এপটি ডিজাইন করা হয়েছে ম্যাগাজিন স্টাইলে। যার ফলে সংবাদ শিরোনামগুলো অনেক জাঁকজমকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এতে দৈনন্দিন খবরাখবর ছাড়াও সপ্তাহের আলোচিত খবরগুলোও প্রকাশ করা হয়। গত কয়েক বছরে এটি ছিলো সর্বোচ্চ ব্যবহৃত সংবাদ এপ।

১৩. কিন্ডলঃ

অ্যামাজন কিন্ডল এপ এর মাধ্যমে অ্যামাজন থেকে যেকোনো ই-বুক ক্রয় করা যায়। এর মাধ্যমে  বই কেনার আগে অ্যামাজনের কিন্ডল বুক স্টোর ঘুরে আসা এবং পছন্দমত বই বাচাই করা যায়। এপটি বিভিন্ন নোট, বুকমার্কও সংরক্ষণ করে রাখে।

১৪. ওয়ানড্রাইভঃ

সাধারণ পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে হরহামেশা ভির লেগেই থাকে। তাই ঘরে বসে যেকোনো পাবলিক লাইব্রেরিতে ঘুরে আসতে চাইলে ওয়ানড্রাইভ আপনাকে সেই সুযোগ করে দিবে। প্রায় ৩০,০০০ হাজারেরও বেশি লাইব্রেরির বই আপনি পড়তে পারবেন এই এপ টির মাধ্যমে। এপটির মাধ্যমে আপনার পছন্দের ই-বুকটি ডাউনলোড করুন আর পড়তে থাকুন। তবে সাধারণ লাইব্রেরির মতো এখানেও দরকার পরবে লাইব্রেরি কার্ডের। তবে তা অবশ্যই একটি ডিজিটাল লাইব্রেরি কার্ড হবে।

১৫. পকেটঃ

পকেট বিভিন্ন প্রবন্ধ, ভিডিও, ছবিকে সংরক্ষণ করে রাখে পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্য। এপটি বিভিন্ন লেখাকে পুনঃসংস্করন করে যাতে মোবাইলের মাধ্যমে তা পড়া যায়। এপটি আপনার মোবাইল, ট্যাবলেট ও অনলাইন একাউন্টের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। পকেট এবং অ্যানড্রয়েড শেয়ারিং টুলের সমন্বয়ের মাধ্যমে এর কাজের পরিধি আরও বাড়ানো যায়।

নিরাপত্তা

 

১৬. অ্যাভাস্ট মোবাইল সিকিউরিটি ও এন্টি ভাইরাসঃ

‘অ্যাভাস্ট মোবাইল সিকিউরিটি এন্ড এন্টি ভাইরাস’ এপটির মধ্যে অ্যাভাস্ট অসংখ্য ফিচারযুক্ত করেছে। এর মধ্যে আছে এন্টি থেফট টুলস, এপ ব্যবস্থাপনার সুযোগ, নিরাপদ ওয়েব ব্রাউজিং সুবিধা, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার সুযোগ এবং এন্টিভাইরাস ইঞ্জিন। অ্যানড্রয়েড এন্টিভাইরাস এপ হিসেবে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়।

 

১৭. বিটডিফেন্ডার মোবাইল সিকিউরিটি এন্ড এন্টিভাইরাসঃ

‘বিটডিফেন্ডার মোবাইল সিকিউরিটি এন্ড এন্টিভাইরাস’ এপ এর মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো মোবাইল স্ক্যান করা যায়। এতে আরও আছে শক্তিশালী এন্টিথেফট টুলস, অ্যান্ড্রয়েড ওয়্যার ইন্টিগ্রেশন এবং প্রতারনা থেকে সুরক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা।

১৮. ড্যাশলেনঃ

আপনি কি অতি মাত্রায় যেখানে সেখানে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন? তাহলে আপনার জন্য ‘ড্যাশলেন’ একটি যথাযথ এপ। এপটি যেখানে নিরাপত্তার প্রয়োজন সেখানে পাসওয়ার্ডের ব্যবস্থা করে, তা সংরক্ষণ করে এবং ওই ফাইলটি ব্যবহারের পূর্বে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে। যার ফলে আপনার পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সুরক্ষিত থাকে।

১৯. লাস্টপাসঃ

‘লাস্টপাস’ একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার। লাস্টপাসের মাধ্যমে একটি পাসওয়ার্ড তৈরি করে দিলে এপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ নোট, ভিডিও, ছবি, এবং নথিকে (ফাইল) সুরক্ষা প্রদান করে। প্রয়োজনে নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি করে এবং আপনার ব্যক্তিগত ডাটা রক্ষা করে। ‘লাস্টপাস’ এর মাধ্যমে  অন্যান্য ডিভাইস যেমন- ট্যাবলেট, ব্যক্তিগত কম্পিউটারেও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা যায়।

২০. নেট ন্যানিঃ

আজকাল সন্তানের হাতে স্মার্টফোন দিয়ে বাবা-মায়েরা অনেক দুঃশ্চিন্তায় থাকেন। কারণ এতে বাচ্চারা অনেক স্বাধীনতা পায় ফলে ইন্টারনেটে অপরিচিত লোকের সাথে কথা বলে, অনুপোযোগী সাইটে ঘোরাফেরা করে অথবা মোবাইল গেমস খেলে সময় নষ্ট করে। তাই অনেক বাবা-মা সন্তানকে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দেন না। এ সমস্যা সমাধানে নেট ন্যানি দিচ্ছে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে যেকোন ওয়েবসাইট বা এপ ব্লক করে রাখা যায়। ফলে বাবা-মা সন্তানকে নিশ্চিন্তে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দিতে পারেন।

২১. নরটন ফ্যামিলি প্যারেন্টাল কন্ট্রোলঃ

বাবা-মায়ের নির্ভরতার জন্য ‘নরটন ফ্যামিলি প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ এর চেয়ে উত্তম আর কিছুই নেই। মূল্য প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের সুবিধা যেমন- ওয়েবসাইট ব্লকিং, কল এবং টেক্সট ব্লকিং, অবস্থান নির্ণয়, এপ ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি কাজ করা যায়। এর মাধ্যমে অসংখ্য ডিভাইস একসাথে কন্ট্রোল করা যায়। তাই বড় মাপের পরিবারেও এটি ব্যবহার করা যায়। তবে এর একটি নেতিবাচক দিক হল এর মাধ্যমে আনিমে ব্লক করা যায়না।

২২. নর্ডভিপিএনঃ

‘নর্ডভিপিএন’ ব্যবহার করে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, আপনার ইন্টারনেট ডাটায় অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেনা। এই এপটির আছে আকর্ষণীয় ইন্টারফেস, একটি সার্ভার নির্বাচন টুল এবং সারা বিশ্বের শত শত সার্ভারে প্রবেশের সুযোগ। যার মাধ্যমে পিয়ার-টু-পিয়ার ডাউনলোডিং, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং ‘টর’ এ প্রবেশ করা যায়।

২৩. অরবটঃ

‘ডার্ক ওয়েব’ এ প্রবেশের জন্য এই এপটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। কিন্তু এর মাধ্যমে সহজে ইন্টারনেটে প্রবেশ করা যায় এবং ব্যক্তিগত কর্মকান্ড গোপন রাখা যায়। ‘অরবট’ একটি বিশেষ ব্রাউজারের সাথে কাজ করে এবং ‘টর’ এর সাথে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করে।

২৪. প্রাইভেট ইন্টারনেট এক্সেস ভিপিএনঃ

‘প্রাইভেট ইন্টারনেট এক্সেস ভিপিএন’ এর আছে বহু সংখ্যক অত্যাধুনিক ফিচার। যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত রাখা যায়। এর মাধ্যমে অ্যানড্রয়েডকে বিশ্বের প্রায় ৩,০০০ এরও বেশি সার্ভারের সাথে যুক্ত করা যায়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ও অনলাইন ট্র্যাকিং বন্ধ করা যায়। এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভিপিএন সার্ভারগুলোর মধ্যে অন্যতম।

 

কেনাকাটা

২৫. অ্যামাজনঃ

‘অ্যামাজন’ হল অনলাইন ভিত্তিক বিপণিকেন্দ্র। যেখানে আপনি যা খুশি ক্রয় করতে পারেন তাও অনেক সুলভ মূল্যে। অ্যান্ড্রয়েডে আমার সবচেয়ে পছন্দের ফিচার হল বারকোড স্ক্যানার এবং ছবি খোঁজা। যার মাধ্যমে অনেক সহজে কোন পণ্য খুঁজে পাওয়া যায়। আপনি কোথায় অবস্থান করছেন এর উপর ভিত্তি করে আপনার শিপিং চার্জ ধার্য করা হয়।

২৬. গুগল ওয়ালেটঃ

‘গুগল ওয়ালেট’ বছরের পর বছর ধরে নানা ধাপ পেরিয়ে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। এর বর্তমান এপ ভার্সন দিয়ে এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তিকে মূল্য পরিশোধ করতে পারে। এর জন্য কোন নগদ অর্থ বা ক্রেডিট কার্ডের দরকার হয়না। আমাদের পছন্দের এপ ‘ভেনমো’ এর বিকল্প হিসেবে এই এপটি ব্যবহার করা যায়।

২৭. গ্রুপঅনঃ

মোবাইল চুক্তির জন্য সবচেয়ে উপযোগী এপ। এপটি বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে চুক্তি করে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক লোককে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্বল্প মূল্যে পণ্য ক্রয়ের সুযোগ দেয়। যেমন- এলাকায় নতুন কোন রেস্টুরেন্ট খুললে বা কেউ কোন নতুন ব্যবসায় শুরু করলে গ্রুপঅন তাদের সাথে বিশেষ চুক্তি করে। যাতে ওই সকল পণ্যের ভোক্তারা বিশেষ মূল্যছাড় পায়।

২৮. পিন্টারেস্টঃ

‘পিন্টারেস্ট’ হল একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। যার মাধ্যমে আপনি আপনার পছন্দের জিনিসটি পিন করে রাখতে পারেন। এই এপটি আপনাকে সাহায্য করবে ওয়েব জুড়ে ঘুরে বেরানো অসংখ্য জিনিসের মধ্য থেকে আপনার পছন্দের জিনিসটির ছবি গুলো সংগ্রহ করে রাখতে। যেমন- কোন পছন্দের আসবাবের ছবি দেখে আপনি চাইলে ওই আসবাবের মতো করে আসবাব বানিয়ে নিজের ঘর সাজাতে পারেন। কিংবা কোন ট্যাট্যু আর্টিস্টের করা সুন্দর ট্যাট্যুর ছবি দেখে আজই নতুন ট্যাট্যু আঁকতে পারেন।

২৯. স্যামসাং পেঃ

স্যামসাং পে শুধুমাত্র স্যামসাং মোবাইলেই ব্যবহার করা যায়। আপনি যদি স্যামসাং পে ব্যবহারকারী হন তবে এর মাধ্যমে আপনি বিশ্বের যেকোনো স্থানে যেকোনো সময় মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন এই এপটির মাধ্যমে। এর মাধ্যমে এক ডিভাইস থেকে আরেক ডিভাইসে টাকা পাঠানো যায়।

৩০. স্লাইসঃ

‘স্লাইস’ এপটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপনার পণ্যের শিপিং সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং আপনার পণ্যটি সনাক্ত করতে পারে। আপনি চাইলে ঘরে বসে শিপিং অবস্থায় আপনার পণ্যটির অবস্থান জানতে পারেন, ডেলিভারির সময় সতর্ক বার্তা পাবেন, যদি পণ্যটি ফেরত নেওয়া হয় কিংবা মূল্যহ্রাস পায় তবে তাও জানতে পারবেন। এক কথায়, স্লাইস হল অনলাইন কেনাকাটার সবচেয়ে উপযোগী এপ।

৩১. ওয়ালঅ্যাবিঃ

আপনার ক্রেডিট কার্ড নানা ধরণের পুরস্কারের ব্যবস্থা করে থাকে যেমন- মূল্য ফেরত, মাইলস কিংবা পয়েন্ট প্রদান ইত্যাদি। ‘ওয়ালঅ্যাবি’ এপ ব্যবহার করে আপনি চাইলে আপনার পুরস্কারের পরিমাণ বাড়াতে পারেন। তাই পরবর্তীতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের পূর্বে ওয়ালঅ্যাবির সাহায্য নিন।

৩২. ভেনমোঃ

স্মার্টফোন ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের নানা উপায় আছে । তবে ‘ভেনমো’ হল সবচেয়ে আকর্ষণীয়, সুন্দর ডিজাইন সম্পন্ন এবং সর্বাধিক ব্যবহারিক সুবিধা সম্পন্ন এপ। এর মাধ্যমে অতি সহজে মূল্য পরিশোধ করা যায় এবং গ্রহণ করা যায়।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

 

৩৩. সার্কেল অব সিক্সঃ

বেশির ভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহৃত হয় বিনোদনের জন্য। কিন্তু সার্কেল অব সিক্স এপটি ব্যবহার করা হয় ব্যক্তির নিরাপত্তা রক্ষার জন্য। মাত্র দুইটি ট্যাপের মাধ্যমে পূর্বে লিখিত ৩টি এসএমএস এর যেকোনো একটি আপনার ফোনের কন্টাক্ট লিস্টের যেকোনো ৬ জনের কাছে পৌছে যাবে। একটি বার্তায় আপনার জিপিএস অবস্থান এবং সেখানে এসে আপনাকে নিয়ে যাওয়ার তথ্য পৌছে যাবে আপনার সেই ৬ জন বন্ধুর কাছে। অন্য বার্তায় পৌছাবে আপনার সাথে তারা যেন দ্রুত যোগাযোগ করে সেই তথ্য।

৩৪. ইভেন্টব্রাইটঃ

ফেসবুক ব্যতিত ইভেন্ট চালু করার একমাত্র এপ হল ‘ইভেন্ট ব্রাইট’। এর মাধ্যমে কোন ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা, ইভেন্টে অংশ গ্রহণ কারী দের মতামত, টিকেট ক্রয় করা প্রভৃতি কাজ করা যায়। এর মাধ্যমে ইভেন্ট শুরুর আগে সতর্কবানী পাওয়া যায়, ইভেন্টে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা দেখতে পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে কোন ইভেন্ট এর কার্যকলাপ সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদন করা যায়।

৩৫. ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারঃ

মোবাইল ম্যাসেঞ্জারগুলোর একটাই সমস্যা হল যে, আপনার বন্ধুরা তা ব্যবহার করতে আগ্রহী হয়না। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ আজ ফেসবুক ব্যবহার করছে। তাই ‘ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার’ এপ এখন বহুল জনপ্রিয়। এর ব্যবহার সহজ ও সাবলীল এবং এর মাধ্যমে ভয়েস ও ভিডিও কল করা যায়। তবে এর সবচেয়ে চমৎকার দিক হল এর সুন্দর সুন্দর স্টিকারগুলো।

আপনার মতামত ...