কর্মক্ষম থাকুন কাজের ফাঁকেও

অফিসে কিংবা ঘরে বসে একটানা কাজ করার পর স্বভাবতই একঘেয়েমী চলে আসে। শরীরের বিভিন্ন অংশে (যেমন-পিঠ, পা কিংবা হাতে) ব্যাথা সৃষ্টি হয়। কারণ একটানা কাজের ফলে পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন কাজে বেগ পেতে কষ্ট হয়। বিশেষ করে টানা প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করার পর সবাই কম-বেশি এই সমস্যার সম্মুখীন হয়। তাই একটানা বসে কাজ করা সত্ত্বেও আপনাকে কর্মক্ষম রাখতে পারে এমন কয়েকটি গ্যাজেট নিয়ে আজকে আলোচনা করা হলঃ

১. গাইরোস্কোপিক রিস্ট এন্ড ফোরআর্ম এক্সারসাইজারঃ

এটি দেখতে একটি সাধারণ প্লাস্টিক বলের মতো। খেলাধুলার সময় হাতের বাহু এবং কনুই ক্রমাগত শক্তি ব্যয় করতে থাকে এবং দিন শেষে অনেকটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এই বলটির মাধ্যমে হাতের কবজি ও আঙ্গুলের পেশির ব্যায়াম করা যায়।

২. থেরাব্যান্ড ফ্লেক্সবার রেসিস্ট্যান্স বারঃ

এটি একটি লম্বা রাবার নির্মিত দন্ড। একে ইচ্ছামতো বাঁকিয়ে হাতের পেশির ব্যায়াম করা যায়। ছেড়ে দিলে এটি আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এটি ভিন্ন ভিন্ন রঙে পাওয়া যায়। ভিন্ন ভিন্ন রঙের থেরাব্যান্ডের লম্বা ও পুরুত্ব ভিন্ন ভিন্ন ধরণের হয়। ব্যান্ডটি যত বেশি পুরু হবে এটি বাঁকাতে তত বেশি বলের প্রয়োজন হবে।

৩. গায়াম টোটাল বডি ব্যালান্স বল কিটঃ

এই বিশাল আকৃতির বলের নির্মাতা একমাত্র গায়াম কোম্পানি নয়। আরও অনেক কোম্পানি এমন বল তৈরি করছে। তবে মূল কথা হল এই বলের উপর বসে আপনি যেকোনো ধরণের ব্যায়াম করতে পারবেন। আবার একটানা আরামের সাথে বসে কাজ করতে পারবেন। এটি আপনার দেহের ওজন সহ্য করে নিবে। এর ব্যাস ৫৫ সে.মি., ৬৫ সে.মি. অথবা ৭৫ সে.মি. বিশিষ্ট হয়।

৪. গায়াম ব্যালান্স বল চেয়ারঃ

গায়াম বলকেই একটি চেয়ারের উপর স্থাপন করে তৈরি করা হয়েছে এই গ্যাজেটটি। বসার সুবিধার জন্য এতে চেয়ার যোগ করা হয়েছে। তবে আপনি চাইলে বলটি তুলে আলাদা ভাবেও ব্যবহার করতে পারেন। এর বলটির ব্যাস ৫২ সে.মি.।

৫. সিভান হেলথ এন্ড ফিটনেস ব্যালান্স বল ফিট চেয়ার বেসঃ

বল চেয়ারের সাথে এর একমাত্র পার্থক্য হল এতে চেয়ারের পেছনের হেলান দেয়ার জায়গাটুকু নেই। শুধুমাত্র চেয়ারের নিচের চাকাযুক্ত অংশটুকু আছে। এতে বসে ঘরে কিংবা অফিসে কাজ করতে পারবেন।

৬. ড্রাইভ মেডিকেল ডিলাক্স ফল্ডিং এক্সারসাইজ প্যাডলারঃ

সারাদিন এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে কাজ করেন? দেহের নিচের অংশ একদম কাজ করেনা? তাহলে এই প্যাডলারটি ডেস্কের নিচে রেখে পায়ের এক্সারসাইজার করতে পারেন। এতে আপনার পা সচল থাকবে সারাদিন। এর মূল্য তুলনামূলক ভাবে কম।

৭. ডেস্কসাইকেল বাইক প্যাডেল এক্সারসাইজারঃ

এই প্যাডলারটিকেও আগের প্যাডলারের মতই ব্যবহার করতে পারেন। তবে এর মূল্য তুলনামূলক ভাবে আগেরটির চেয়ে বেশি।

৮. ম্যাগনেট্রেইনার ইআর মিনি এক্সারসাইজ বাইক আর্ম এন্ড লেগ এক্সারসাইজারঃ

ম্যাগনেট্রেইনার এর এই প্যাডলারটি দিয়ে হাতের সাথে পায়েরও ব্যায়াম করা যায়। ব্যবহারের নিয়ম আগের মতই। শুধু পায়ের বেলায় ডেস্কের নিচে রেখে আর হাতের বেলায় ডেস্কের উপরে রেখে ব্যবহার করতে হবে।

৯. ফিটডেস্ক এফডিএক্স৩.০ বাইক ডেস্কঃ

বাই সাইকেলে সাইক্লিং করতে গেলে দেহের বিভিন্ন জায়গার পেশির ব্যায়াম হয়। আর অনেক বেশি ক্যালরি ব্যয় হয়। আর এখন ঘরে বসেই সাইল্কিং করতে পারবেন এই বাইক ডেস্কের সাহায্যে। এতে সাইক্লিং করার প্যাডেল ছাড়াও একটি ডেস্ক আছে যাতে ল্যাপটপ রাখা যায়।

১০. লাইফস্পেন সি৩-ডিটি৭ বাইক ডেস্কঃ

‘লাইফস্পেন’ এর বাইক ডেস্কটি ‘ফিটডেস্ক’ এর মতই। তবে এতে বাইকের উচ্চতা আপনার নিজের উচ্চতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তন করতে পারবেন।

১১. লাইফস্পেন সি৩-ডিটি৩ আন্ডার ডেস্ক বাইকঃ

‘লাইফস্পেন’ এর এই বাইকটি শুধুমাত্র ডেস্কের নিচে রেখে পায়ের ব্যায়াম করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে অন্য কোন বাড়তি সুবিধা নেই। তাই এর মূল্য তুলনামূলক ভাবে কম।

১২. সিটএনসাইকেলঃ

স্বল্প দামে ফিটনেস বাইক চান? উপরের ডেস্ক বাইকগুলো কিনতে গেলে একটু বেশি দামেই কেনা লাগবে আপনাকে। তবে সিটএনসাইকেল একদম সুলভ মূল্যে পাবেন আপনি। এতে কোন ডেস্ক নেই তবে স্ট্যান্ডিং বাইক হিসেবে এটি সহজে আপনার শরীরের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিবে।

১৩. ফিটডেস্ক আন্ডার ডেস্ক ইলিপ্টিক্যাল ট্রেইনারঃ

প্যাডলিং করতে বিরক্ত বোধ করেন? তাহলে এর সমাধান হিসেবে আছে ফিটডেস্ক এর ইলিপ্টিক্যাল মেশিন। যা নিজে নিজে প্যাডেলিং করবে। এটি কেবল মাত্র ডেস্কের নিচে ব্যবহারের জন্য। এর মাধ্যমে পায়ের ম্যাসাজও করা যায়।

১৪. ফিটডেস্ক প্রো ইউনিভার্সাল মাউন্টেড বাইক ডেস্কঃ

প্যাডলিং এর পাশাপাশি অন্য কোন কাজ করতে চাইলে এই বাইক ডেস্কটির বিকল্প কিছু নেই। কেননা কাজ করার জন্য এটি দিচ্ছে প্রশস্ত একটি ডেস্ক। সেই সাথে ম্যাসাজ করার সুব্যবস্থা।

১৫. জার্ভিস স্ট্যান্ডিং ডেস্কঃ

‘জার্ভিস’ এর এই ডেস্কটিতে আপনি চাইলে দাঁড়িয়ে এবং বসে উভয় ভাবেই কাজ করতে পারবেন। ইচ্ছামতো এর উচ্চতা পরিবর্তন করা যায়। এটি বিভিন্ন আকার, উচ্চতা এবং রঙ বিশিষ্ট হয়।

১৬. জার্ভিস ফ্রেম অনলিঃ

জার্ভিস ডেস্কটির ফ্রেম চাইলে আলাদা ভাবে কিনতে পারবেন আপনি। এই ফ্রেমটি ২২.৫ থেকে ৪৯.২৫ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। এর উচ্চতা ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা যায়। এটি কালো, সাদা, রুপালি ও লাল রঙের হয়। ফ্রেমটিতে নিজের ইচ্ছা মতো ক্যাবল ট্রে, পেন্সিল ট্রে প্রভৃতি যোগ করে ডেস্ক তৈরি করা যায়।

১৭. আর্গো ডেস্কটপ ক্যাঙ্গারু জুনিয়রঃ

এর ২ ধরণের সার্ফেস আছে। একটি মনিটরের জন্য আর অন্যটি কীবোর্ড এবং মাউসের জন্য। মনিটরের সার্ফেসটি কীবোর্ডের সার্ফেস হতে ১৪.৫ ইঞ্চি উপর পর্যন্ত উঠা-নামা করানো যায়। তবে এর মূল্য সাধারণ স্ট্যান্ডিং ডেস্কগুলোর মতই। এর ‘প্রো’ এবং ‘এলিট’ ভার্সনগুলো বড় মাপের মনিটর এবং কোন কোনটি ডুয়েল অথবা ট্রিপল মনিটরও ধারণ করতে পারে।

১৮. ভ্যারাইডেস্ক প্রো প্লাস ৩৬ঃ

কম্পিউটার ডেস্কে বসে কাজ করতে করতে বিরক্তি বোধ করলে দাঁড়িয়েও কাজ করতে পারবেন এই ডেস্কটির মাধামে। কারণ ডেস্কটির দুই পাশে স্প্রিং ব্যবহার করা হয়েছে যার মাধ্যমে মনিটর এবং কীবোর্ড সার্ফেসকে উপরে উঠানো যায়। এটি ডুয়েল মনিটর ধারণ করতে পারে। আকার এবং কর্মদক্ষতা অনুযায়ী এর দাম বেশ কম।

১৯. স্টির কাইনেটিক ডেস্ক এম১ঃ

একে এক কথায় ‘স্মার্টডেস্ক’ নামে অবিহিত করতে পারেন। কেননা এতে বসে এবং দাঁড়িয়ে কাজ করা ছাড়াও আছে আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা। এটি সফটওয়্যার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এতে ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথের ব্যবস্থা আছে। ডেস্কটির বামদিকে ৫ ইঞ্চির একটি টাচ স্ক্রিন আছে যাতে টাচ করে ডেস্কের উচ্চতা সহজে পরিবর্তন করা যায়।

২০. আর্গো ড্রাইভেন টোপো অ্যান্টি-ফেটিগ ম্যাটসঃ

যদি আপনি স্ট্যান্ডিং ডেস্কের মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে কাজ করতে চান তাহলে একটি আরাম দায়ক ফুট ওয়্যার ব্যবহার করুন। এতে করে পায়ের ও আরাম হবে। এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন টোপো ট্যান্ডিং ডেস্ক ম্যাট। এর ওপর দাঁড়িয়ে আরামে কাজ করা যায় এবং সহজে পা নাড়ানো যায়। এটি বিভিন্ন আকারের হয়। এর মাঝের দিকে একটি বল আছে যার মাধ্যমে পায়ের ম্যাসাজ করা যায়।

২১. ভ্যারাইডেস্ক অ্যাক্টিভম্যাট গ্রুভঃ

ভ্যারাইডেস্ক এর এই ম্যাটটিও পায়ের ম্যাসাজ এর জন্য খুবই ভালো। আপনি যতক্ষণ ধরে কাজ করবেন এর বলগুলো আপনার পাকে সচল রাখবে যা আপনার পা এবং পিঠের জন্য খুবই উপকারী।

২. আর্গোহ্যাড স্ট্যান্ডিং ডেস্ক ম্যাটঃ

পায়ের সম্মুখ ভাগ ম্যাসাজ করার জন্য এর সামনের দিকে কিছু কাঁটা কাঁটা অংশ আছে। দুই ধরণের আকারে পাওয়া যায়। এর উপর প্রায় ১০ ধরণের ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারবেন এবং পায়ের ম্যাসাজ করতে পারবেন।

২৩. কিউবফিট ট্যারাম্যাট স্ট্যান্ডিং ডেস্ক ম্যাটঃ

প্রায় ১১ ধরণের ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারবেন এর মাধ্যমে। অন্যান্য ম্যাটগুলোর তুলনায় এটি বেশ মোটা। প্রায় ৩.৫ ইঞ্চি পুরু। তবে এটি আপনাকে দিবে সারা জীবন ব্যবহারের ১০০ ভাগ নিশ্চয়তা।

২৪. আই মুভ আর ইকোলাস্ট হাইব্রিড সিট স্ট্যান্ড ম্যাটঃ

এই ম্যাটটির ওপর চেয়ার রেখে বসে কাজ করতে পারেন। আবার দাঁড়িয়ে কাজ করার সময় চেয়ার সরিয়ে ফেলতে পারেন। এতে ম্যাটের কোন ক্ষতি হয়না। এর ব্যবহার অন্যান্য ম্যাটস গুলোর তুলনায় অনেক সহজ। বিভিন্ন আকার এবং রঙে পাওয়া যায়।

২৫. লাইফস্প্যান টিআর৫০০০-ডিটি৭ ট্রেডমিল ডেস্কঃ

এই ট্রেডমিল ডেস্কের মাধ্যমে আপনি দাঁড়িয়ে কাজ করার পাশাপাশি হাঁটতে এবং দৌড়াতে পারবেন। এতে ল্যাপটপের জন্য একটি ডেস্কও আছে। যদিও এর মূল্য কিছুটা বেশি তবে এটি আপনাকে দিবে দারুণ সব ফিচার যেমন- ডেস্ক এর উচ্চতা পরিবর্তন, বিদ্যুৎ ব্যবহার, ডেস্কের পুরুত্ব পরিবর্তন, বেল্টের সাইজ পরিবর্তন সহ আরও অনেক সুযোগ।

২৬. মুভম্যান বেসিক সিট/স্ট্যান্ড স্টুলঃ

এই হাই টুলটিতে একটি স্ক্রু যুক্ত থাকে ফলে চারদিকে ঘুরানো যায়। এটি আরামদায়ক। এর উচ্চতা ২০-৩৩ ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়ানো-কমানো করা যায়।

২৭. ভ্যারাইচেয়ারঃ

ভ্যারাইচেয়ার এর উচ্চতা ২৩-৩২.৭৫ ইঞ্চি পর্যন্ত পরিবর্তন করা যায়। এটিও একটি হাই টুল। এটি বসে থাকা অবস্থায়ও আপনার পায়ের এবং পিঠের পেশির যত্ন নেয়। যাতে করে দীর্ঘক্ষণ এতে বসে কাজ করা যায়। এটি প্রায় ২২০ পাউন্ডের ব্যক্তির ওজন সহ্য করতে পারে।

২৮. অ্যামাজন বেসিকস ডুয়েল মনিটর আর্মসঃ

এর দুইটি বাহু আছে যা দুইটি মনিটর ধারণ করতে পারে। আপনার ইচ্ছামতো যেকোনো দিকে মনিটরের দিক পরিবর্তন করতে পারবেন অতি সহজে।

২৯. আর্গোট্রন এলএক্স ডেস্ক মাউন্ট এলসিডি আর্মঃ

আপনি যদি একই সুবিধা একটি সিঙ্গেল মনিটরের ক্ষেত্রে পেতে চান তাহলে ব্যবহার করতে পারেন ‘এলএক্স ডেস্ক মাউন্ট আর্ম’। এর বাহুটি মনিটরকে স্বাভাবিক উচ্চতা থেকে প্রায় ২ ফুট বেশি উপরে তুলতে পারে। প্রয়োজনে বাড়তি বাহু যোগ করে উচ্চতা আরও বাড়ানো যায়। এটি সর্বোচ্চ ২০ পাউন্ডের ৩২ ইঞ্চির মনিটর ধারণ করতে পারে।

৩০. দ্য অল্টওয়ার্ক স্ট্যাশনঃ

এই চমকপ্রদ গ্যাজেটটির ব্যাপারে না বললেই নয়। এতে একটি চেয়ার ও একটি কম্পিউটার ডেস্ক আছে। চেয়ারটি খুবই ফ্লেক্সিবল। এতে চাইলে দাঁড়িয়ে, বসে এমনকি শুয়েও কাজ করা যায়। কম্পিউটার ডেস্ককে সেই অনুপাতে উপরে নিচে উঠানো ও নামানো যায়।

আপনার মতামত ...