বুধবার ‘আইসিটি এক্সপো’

১৮ই অক্টোবর, বুধবার থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৭’। ‘বংবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র’তে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এর যৌথ উদ্যোগে তৃতীয় বারের মত এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনী আয়োজনের অংশীদার হিসেবে আরও যুক্ত আছে- বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর, কন্ট্রোলার অব সার্টিফায়িং অথরিটিজ (সিসিএ) সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য হল বাংলাদেশে আইসিটি ব্যবহারের সম্ভাবনাকে সবার সামনে তুলে ধরা।

বেলা ১১টায় প্রদর্শনীটির উদ্ভোধন করবেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ প্রমুখ ব্যাক্তিবর্গ। এ প্রদর্শনীতে তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, জাপানসহ ৮টি দেশের খ্যাতিমান বক্তা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ব্যক্তিত্ব এবং উৎপাদক ও উদ্যোক্তাগণ অংশগ্রহণ করবেন।

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ১৯ অক্টোবর  আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশে ‘পেপাল’ এর যাত্রা উদ্ভোধন করবেন।

প্রদর্শনী চলবে সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত। সকলের জন্য উন্মুক্ত হলেও মেলায় প্রবেশের জন্য ‘অনলাইন নিবন্ধন’ বা ‘স্পট নিবন্ধন’ করতে হবে। এর জন্য মেলায় থাকবে নিবন্ধন বুথ।

প্রদর্শনী এলাকাকে হাই-টেক পার্ক, প্রোডাক্ট শোকেস, ইনোভেশন, মেগা সেলস, মিট উইথ ইন্টারন্যাশনাল ম্যানুফ্যাকচারারস, লোকাল ম্যানুফ্যাকচারাস, ডিজিটাল লাইফস্টাইল, আইওটি ও ক্লাউড, বিটুবি ম্যাচমেকিং, সেমিনার- এর মতো এ রকম ১০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রায় ৮৭টি তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অংশ নিবে এই প্রদর্শনীতে। ৬২টি পেভিলিওনে প্রায় ৭০টি স্টল থাকবে এখানে।

প্রদর্শনীতে থাকছে লোকাল ম্যানুফ্যাকচারাস ফোরাম, বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা, গেমিং, সেলফি, কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, লাইভ ইভেন্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ আরও অনেক কিছু। প্রদর্শনী চলাকালে ‘ভবিষ্যতের তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ’-প্রসঙ্গে কয়েকটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেই সাথে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা প্রদান করাও হবে।

গত ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন,

”আমরা ‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো’ এর আয়োজন করেছি বাংলাদেশের হার্ডওয়্যার সেক্টরকে আরও গতিশীল করার জন্য। সেই সাথে বাংলাদেশ আইসিটি সেক্টরে কতটা উন্নতি করছে তা সকলের সামনে তুলে ধরার জন্য।“

তিনি আরও বলেন,

“আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আমাদের দেশে নির্মিত হার্ডওয়্যারগুলো আমরা বিদেশের বাজারে রপ্তানি করতে সক্ষম হব। বর্তমানে বাংলাদেশে হার্ডওয়্যার নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে দেশে টিভি, ফ্রিজ, মোবাইল ফোন কারখানা স্থাপন শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশি এবং বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো আমাদের দেশে তাদের কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করে দিয়েছে। কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ইত্যাদি উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশে বিদ্যমান শুল্ক কমানোর ফলে এমনটি সম্ভব হয়েছে।“

আপনার মতামত ...