৩ মাস পর হুয়াওয়ে নিষেধাজ্ঞাঃ থাকছে গুগল ইনটেল কোয়ালকম সাপোর্ট

চায়না – ইউএস ট্রেড ওয়ার এর অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে হুয়াওয়ে’র সাথে ইউএস কোম্পানিগুলোর নিষেধাজ্ঞা ইন্টারনেট জগতে মোটামুটি টক অব দা ওয়ার্ল্ডে পরিনত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হুয়াওয় ব্যান নিয়ে কিছুটা নরম অবস্থানে এসে ৯০ দিনের লিমিটেড ল্যানদেন এর সুযোগ দিয়েছে ইউএস।

সোমবার ইউএস সরকার অস্থায়ীভাবে ট্রেড নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, সারাবিশ্বের টেলিকম কোম্পানি ও কনজিউমারদের কথা চিন্তা করে!

রয়টার্স এর তথ্য মতে, ইউএস কমার্স বিভাগ চীনা হুয়াওয়ে কে আমারিকান পন্য ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে তাদের হ্যান্ডসেট এ ব্যবহারের জন্য।

তবে স্বল্পমেয়াদি (৯০ দিন) এই লিমিটেড লাইসেন্স এর মেয়াদ শেষ হবে ১৯শে আগষ্ট। যা কোম্পানিকে সহায়তা দিবে বর্তমান গ্রাহকদের সহায়তা দিতে। এর কারনে শেনজেন ভিত্তিক এই কোম্পানিটি আগের মত বিজনেস রিলেশন রাখতে পারবে গুগল, ইনটেল, কোয়ালকম ও অন্যান্যদের সাথে। যার ফলে সফটওয়্যার আপডেট পাবে বর্তমান বাজারের হার্ডওয়্যার গুলোতে

তবে এই লিমিটেড লাইসেন্স এর মানে এই না যে, হুয়াওয়ে ও ইউএস এর সম্পর্ক আগের মত হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে বাজারে বিদ্যমান ডিভাইসগুলোরই আপডেট দেওয়া সম্ভব হবে।

এরপরো যদি উভয়ের মধ্যকার সম্পর্কের উন্নতি না হয়, তাহলে অনেকেই এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও হুয়াওয়ে তাদের অপারেটিং সিস্টেম হংমেং নিয়ে আগাচ্ছে, কিন্তু তা কত সময়ে ইউজারদের অ্যান্ড্রয়েড ফিল দিবে কিংবা তার চেয়ে বেশি, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এব্যাপারে জানাতে পারেন আপনার মতামত।

তথ্যসূত্রঃ রয়টার্স 

লাকি এফএম

টেক-আসক্ত লাকিএফএম টেকমাষ্টার ব্লগের একজন উপ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রশাসক। পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ধ্রুবক অল রাউন্ডার এ কাজ করছেন। যোগাযোগঃ ফেসবুক টুইটার গুগল প্লাস ইমেইল

4 thoughts on “৩ মাস পর হুয়াওয়ে নিষেধাজ্ঞাঃ থাকছে গুগল ইনটেল কোয়ালকম সাপোর্ট

  • May 25, 2019 at 4:10 am
    Permalink

    যেসকল কারণে এন্ড্রয়েডকে কখনো Beat করতে পারবেনা Hongmeng OS.
    .
    পৃথিবীতে যত লিজেন্ড বা লিজেন্ডারি জিনিসের পতন ঘটেছে তার চেয়ে পাওয়ারফুল কোন কিছুর হাতে। অথবা সময়ের সাথে আপডেট না হবার কারনে। এই
    দুটো কারণ ছাড়া ন্যাচারালি কেউ পতন হয়না।
    …….
    * কিছু লিজেন্ডের পতন হয়েছে সময়ের সাথে আপডেট না হবার কারনে।
    যেমন: Nokia Symbian OS, Codac Camera, Bedford. Yahoo Search Engine, Yahoo Mail, Orkut, Google Talk Etc.
    …….
    * কিছু লিজেন্ডের পতন ঘটেছে শক্তিমত্ততায় পরাজিত হয়ে ।
    যেমন: Windows Mobile OS, Blackberry OS. Freedos OS পর্যন্ত App সল্পতায়। Nokia Ovi.
    ………
    * কিছু লিজেন্ড আপডেটের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েও আপডেট সক্রিয় রাখায় প্রতিযোগিতায় টিকে আছে।
    যেমন: Mozilla Firefox, Internet Explorer / Microsoft Edge
    ……..
    পক্ষান্তরে, কিছু লিজ্যান্ড দীর্ঘদীন ধরে নিজেদের অবস্থান শীর্ষে রেখেছে, শুধুমাত্র সময়ের সাথে আপডেট হবার কারনে। যাদের কেউ বেট করতে পারছেনা শুধুমাত্র সময়ের সাথে আপডেটের কারনে।
    যেমন,
    Facebook, Microsoft Windows, Google Search, Youtube, Samsung Electronics.
    ……..
    * Facebook: আসার পর আগে খালি ছবি শেয়ার, পোস্ট আর লাইক কমেন্ট করা যেত। বাট এখন তারা আপটেড হতে হতে এমন হয়েছে যে, অন্য সব সোস্যাল মিডিয়ার সব আপডেট ই ফেসবুকে এড করা হয়েছে।
    .
    Microsoft Windows: ডেস্কটপের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ এখনো এককক ভাবে শীর্ষে কারন তারা প্রতিনিয়ত আপডেটের ফলে লিনাক্স, উবুন্টু, ম্যাকের মত ওএস এখনো উইন্ডোজের জনপ্রিয়তা নিতে পারেনি। তবে গতির দৌড়ে উইন্ডোজ একটু এক্টু পেছাচ্ছে। কিন্তু এককভাবে কারো হাতে পেছাচ্ছেনা বলেই তারাও অল টাইম লিজেন্ড।
    .
    Google Search/Youtube: এরা কেন লিজ্যান্ড তা বলার প্রয়োজনই নাই।
    .
    Samsung Electronics: কোরিয়ান এই কোম্পানির এক কর্মকর্তা একদিন বলসিল “আমরা স্যামসাং, আমরা হারবনা”।
    তিনি এই কথা বলেছেন কারন তার কোম্পানি অলটাইম আপডেটেড।
    যেমন, মোবাইলের ক্ষেত্রে স্যামসাং জাভা থেকে শুরু করে পর্যায় ক্রমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে তাদের ফোন রান করিয়েছে। তারা নকিয়ার মত শুধু এক অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে বসে থাকেনা। প্রতি নিয়ত খুজেছে গ্রাহক কি চায়?
    মজার ব্যাপার হল স্যামসাং এর ও উইন্ডোজ ফোন আছে। যখন নোকিয়া সিম্বিয়ান নিয়ে জনপ্রিয় ছিল, তখন স্যামসাং ও সিম্বিয়ান ফোন মার্কেটে এনেছিল।
    আর এই কারনেই স্যামসাং আপডেটেড আর তারা এখনো টপে আছে আর থাকবেও।
    .
    ইভেন যখন স্যামসাং দেখছে অন্য সকল কোম্পানি কন দামে ফোন বের করে পপুলার হচ্ছে, তখন স্যামসাং নিজেও কম দামে সেট বের করেছে যাতে তারা পিছিয়ে না যায় ✌
    .
    তেমনি গুগল ও আপডেটেড। তারা রেগুলার সময়ের সাথে সাথে সব চেয়ে সেরাটা নিয়ে আসছে। স্যামসাং এর মত তারাও চোখ কান।খোলা রেখেছে কোন ফাক দিয়ে তারা যেন পিছিয়ে না যায়।
    আর এই কারনেই এন্ড্রয়েড এখন শীর্ষে।
    ………….
    এবার কয়েকটি কারণ বলি, যে সকল কারনে এন্ড্রয়েড কখনো পিছাবেনা।
    .
    1. Java Based OS: এন্ড্রয়েড প্লাটফর্ম টা পপুলার হইসে মূলত এপস এর আধিক্যতায় আর সহজ সরল ইন্টারফেসের কারনে। আর তারা Java Based OS বানাইসে কারণ জাভা প্রোগ্রামার রা এন্ড্রয়েড এপ্স বানাতে পারবে ইজিলি। নতুন করে প্রোগ্রামার লাগবেনা। আর ফলাফল ও হল তাই 😊 জাভা দিয়েই তারা উঠে গেল শীর্ষে, যদিও এখন ডিফারেন্ট লেঙ্গুয়েজে এন্ড্রয়েড এপ্স বানানো যায়।
    পক্ষান্তরে হংমেং এপ্স বানাতে আর এপ্স এর সংখ্যা বাড়াতে এত হিউজ প্রোগ্রামার না ও পেতে পারে।
    .
    2. Apps এর অধিক্যতা: এন্ড্রয়েড পপুলার কারন তাদের ডেপলপার প্রচুর। যারা ভাবসেন চায়না তে যেই মানুষ, চাইলেই এন্ড্রয়েডের মত হিউজ ডেভলপ করতে পারে।
    বাট একটা কথা মনে রাখা উচিৎ, চায়না OS কিন্তু অনেক গুলাই আছে।কিন্তু তারা কখনোই OS এর ক্ষেত্রে সাফল্য পায় নাই। চায়নাদের সাফল্য সবই হার্ডওয়্যার এর উপড়। সফটওয়্যার এর উপড় তাদের সাফল্য খুবই কম।
    .
    3. Familiar OS: এন্ড্রয়েড টা এখন উইন্ডোজের মত একক মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম হয়ে গেসে। আর যারা এই প্লাটফর্মে সাফল্য পাচ্ছে তারা কখনো প্লাটফর্ম টা ছেড়ে দিতে চাইবেনা। চায়না সরকার যদি Xiaomi, Oppo,. Meizu, Gionee, HTC এদের হংমেং ইউজে বাধ্য ও করে, এন্ড্রয়েড তো আর বন্ধ করতে বলবেনা। ফলে সবাই হংমেং দিয়ে ফোন বানালেও পাশাপাশি এন্ড্রয়েড দিয়েও বানাবে। আর নিজেদের আপডেট রাখার ফলে এন্ড্রয়েড ই এগিয়ে থাকবে। কেন থাকবে এটাও বলা হয়ে গেসে। আর হংমেং হয়ে যাবে টাইজানের মত একটি ও এস।
    .
    4. Easy Interface: একটা ওস ডেভলপ করা সহজ হলেও ইন্টারফেস কে ইউজার ফ্রেন্ডলি করা মোটেও সোজা না।
    যদি সোজা হত, তাহলে Linux অনেক আগেই Windows কে খেয়ে ফেলত।
    কাজেই এন্ড্রয়েডের মত একটা ইউজার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস নিয়ে আসা এত সহজ হবেনা। সহজ হলেও ইউজার রা এন্ড্রয়েডে অভ্যস্ত থাকায় ওটা কিনতে চাইবেনা।
    .
    5. Functionality: এন্ড্রয়েড শুধু একটি অপারেটিং সিস্টেম ই না। এটার সাথে জরিত আরো অনেক লিজেন্ড: যেমন Gmail, Youtube, Google Search, Google Map.
    আর এগুলা চায়না তে ব্যবহার না হলেও গ্লোবালি এটা ছাড়া মানুষ বিকল্প কিছুই ভাবতে পারেনা। আর তারাই যেহেতু এন্ড্রয়েডের Head Of Functions হিসেবে কাজ করছে, কাজেই হংমেং যদি এন্ড্রয়েড কে বেট করতে চায়, তাকে ঠেকানোর জন্য ফাংশনালিটি তো গুগলের রয়েছেই। 😊 সুতরাং হুয়াই কে Youtube, Google Search, Google Map. এসব সেক্টরে সেরা হয়েই এন্ড্রয়েড কে টেক্কা দিতে হবে। এটা কোন ইজি টাস্ক না আর ৫/১০ টাকায় ফোন দিলেও ওইগুলা তখন ভ্যালু লেস হবে।
    তাছাড়া ইতোমধ্যে স্যামসাং দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে ফোনের দাম কমাতে হয়।
    তাছাড়া Xiaomi, Oppo,. Meizu, Gionee, HTC কখনো এন্ড্রয়েড ছাড়বেনা কারন সোনার ডিম পাড়া হাস কেউ জবাই করবেনা। চায়না সরকার চাইলেও কোম্পানিরা গ্লোবালি এন্ড্রয়েড নিয়েই কাজ করবে।
    আর তারা এন্ড্রয়েড ছেড়ে দিলে প্রতিযোগিতায় আসবে Samsung, One Plus, Blackberry, LG, SONY, নোকিয়ার মত ব্রেন্ড গুলো।
    .
    কাজেই এন্ড্রয়েড কে ডিফেন্ড করা চাইনিজদের জন্য দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই না।
    আবারো একটা কথা রিপিড করতে হয়, Chinese OS কিন্তু অনেক আছে আর ছিল। কিন্তু চাইনিজ রা কোন কালেই OS নিয়ে সফল হয় নি। তাই এন্ড্রয়েড নির্ভর হয়েই তাদের থাকতে হবে। এন্ড্রয়েড ছাড়লে চায়না সরকার নিজেই মুনাফা হারাবে। নিজের পায়ে সরকার নিজে কুড়াল মারবেও না।
    .
    রাইটার: মেহেদী হাসান।
    .
    বিদ্র: লেখা কপি করলে ক্রেডিট দিয়ে কপি করবেন। ক্রেডিট ছাড়া অন্যের লেখা কপি করলে একজন মানুষ তার লেখা থেকে আগ্রহ হারায়।

    Reply
  • May 23, 2019 at 6:21 pm
    Permalink

    হুয়াওয়ে ব্যান আর এর আদ্যপ্রান্ত

    আমাদের দেশে মোবাইল ফোনের টাওয়ার সহ নেটওয়ার্কিং এর যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, তার ৯০% হুয়াওয়ের।
    শুধু আমাদের দেশ না, পৃথিবীর ১৭০ টা দেশের নেটওয়ার্কিং এর যন্ত্রপাতি কেনা হয় হুয়াওয়ে থেকে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ৫০টা টেলিকম অপারেটরের মধ্যে ৪৫টা ব্যবহার করে হুয়াওয়ের যন্ত্রপাতি। শুধুমাত্র ২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার তিনভাগের এক ভাগ মানুষ কোনো না কোনোভাবে হুয়াওয়ের কনজিউমার। এই সংখ্যাটা পরবর্তীতে আরো বেড়েছে, কমেনি।
    হুয়াওয়ে হচ্ছে ওয়ার্ল্ড বিগেস্ট টেলিকম ইকুইপমেন্ট মেইকার। এই ব্যবসায় তাদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যায় আরেক চাইনিজ কোম্পানী ZTEকে। যারা হুয়াওয়ের জিনিস কিনেনা, তারা ZTE থেকে কিনে।

    হুয়াওয়ে সেকেন্ড লার্জেস্ট টেলিভিশন চিপ নির্মাতা কোম্পানী।
    প্রথম 5G টিভি আনার ঘোষণা দিয়ে তারা স্যামসাং এবং অ্যাপলের টিভি ব্যবসাকে বিপদে ফেলে দিয়েছে। একই সংগে এই টিভি 8K রেজ্যুলেশন এবং 360 ডিগ্রী ভিউ। যা দিয়ে দর্শক যেকোনো দিক থেকে টিভি দেখতে পারবে।

    বলা বাহুল্য, হুয়াওয়ে পৃথিবীর প্রথম কোম্পানী হিসেবে সফলভাবে 5G নেটওয়ার্ক এনেছে।

    হুয়াওয়ের নেটওয়ার্কিং এবং ইলেক্ট্রনিকস ছাড়াও আমরা যেভাবে হুয়াওয়েকে চিনি, সেটা হচ্ছে মোবাইল বা স্মার্টফোন দিয়ে।
    ২০১৮ সালে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন নির্মাতা হিসেবে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে হুয়াওয়ে। প্রথম অবস্থানে আছে স্যামসাং। গবেষকরা বলছেন ২০২০ এর মাঝামাঝি সময়ের আগেই স্যামসাংকে পেছনে ফেলে প্রথম স্মার্টফোন নির্মাতা হবে হুয়াওয়ে। যদিও সেই অগ্রযাত্রা এখন হোঁচট খেয়েছে। সেটাতে পরে আসছি।
    ভাঁজ করা যায় এমন স্মার্টফোন প্রথম যে দুটি কোম্পানী এনেছে, তারা হচ্ছে যথাক্রমে স্যামসাং এবং হুয়াওয়ে।
    এই দুটি কোম্পানী ফোল্ডেবল স্মার্টফোন আনার জন্য গবেষণা চালাচ্ছিল বেশ কয়েক বছর ধরে।

    যদিও তাড়াহুড়ো করে হুয়াওয়ের এক সপ্তাহ আগে রিলিজ হওয়া স্যামসাং এর ফোনটি কিছুদিনের মধ্যেই মার্কেট থেকে তুলে ফেলা হয়েছে। এতে যথেষ্ট সমস্যা ছিল। ফোল্ডেবল দুটি ফোনের মধ্যে হুয়াওয়েরটাই উন্নত এবং পারফেক্ট।

    মোবাইল ফোনের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (R&D) খাতে হুয়াওয়ের ইনভেস্ট অন্য যেকোনো কোম্পানীর চেয়ে বেশী।
    ২০১৮ তে তারা এই খাতে বাজেটে স্যামসাংকে ছাড়িয়ে যায়। এর আগে পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী বাজেট ছিল স্যামসাং এর। ২০১৮ তে স্যামসাং সিদ্ধান্ত নেয় তারা মোবাইলের গবেষণা খাতে আর টাকা ব্যয় করবেনা।
    এখনো পর্যন্ত R&Dর জন্য সবচেয়ে বেশী ব্যয় করে এই দুটি কোম্পানী। এটি শুধুমাত্র স্মার্টফোনের কথা বলছি।
    টোটাল R&D স্পেন্ডিং এর মধ্যে শীর্ষে ছিল এপল আর স্যামসাং তারা ১১ বিলিয়ন এবং ১৩ বিলিয়ন করে ব্যয় করতো। তারপর হুয়াওয়ে এক নাম্বারে চলে আসে যখন তারা বাজেট বাড়িয়ে ২০ বিলিয়নে নিয়ে যায়। চাইনিজ কোম্পানী হওয়ার কারণে কাজ অনুপাতে অন্য দুটি কোম্পানীর চেয়ে হুয়াওয়ের ব্যয় কম।

    স্মার্টফোন, টিভি, নেটওয়ার্কিং এসব ব্যবসায় হুয়াওয়ের এক আধিপত্যের কারণে ইউএসের পশ্চিমের কোম্পানী গুলো ব্যবসা প্রায় করতেই পারছেনা।
    হুয়াওয়ের বিকল্প খুঁজে না পাওয়ার প্রধান দুটি কারণ হচ্ছে-
    ১. ওদের মত কোয়ালিটি অন্য কেউ দিতে পারছেনা।
    ২. ওদের মত সস্তায় অন্য কোনো কোম্পানী দিতে পারছেনা।
    এই দুটি কারণে ওরা হয়ে উঠেছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

    এবার আসি মোবাইল ফোন ব্যবসার মধ্যে। এতদিন আইফোন আর স্যামসাং যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতো, সেখানে মাত্র কয়েক বছরে বড় প্লেয়ার হিসেবে মাঠে ঢুকে পড়ে হুয়াওয়ে। এবং গত বছর তারা অ্যাপলকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে আসে।

    স্যামসাং যদিও আমেরিকান কোম্পানী নয়, তারপরও তারা সেখানে অ্যাপলের মতই সমাদর পায়। এর কারণ হচ্ছে সাউথ কোরিয়া।
    সাউথ কোরিয়াকে বলা হয় আমেরিকার আন অফিশিয়াল স্টেট। না না, এখনই তেড়ে আসার দরকার নেই। এটা শুধু শুধু বলা হয় না, এরপেছনে যথেষ্ট কারণ আছে। সাউথ কোরিয়া হচ্ছে ইউএস ব্যাকড স্টেট। যাদেরকে ইউএস প্রটেক্ট করে। সাইথ কোরিয়াতে ইউএস মিলিটারী, নেভী এবং এয়ারফোর্সের সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। তারা সবকিছুই করে যৌথভাবে। তাদের সামরিক নীতি, পররাষ্ট্রনীতি এসবও ঠিক করে ইউএস। অনেকটা এডভাইজর এবং গার্ডিয়ানের মত।
    ইউএস কতৃক যথেষ্ট সাপোর্ট তারা পায় প্রায় সব কিছুতে। এবং সাউথ কোরিয়াকে একটি খ্রিস্টান প্রধান দেশই বলা যায়।

    সাউথ কোরিয়ান কোম্পানী স্যামসাং ইউএসের জন্য সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে চাইনিজ কোম্পানী গুলো। বিশেষ করে সেটা যদি হয় টেলিকমিউনিকেশনস প্রোডাক্ট।
    ইউএস সাধারণত দুনিয়ার সবার উপর নজরদারী চালায়, এমনকি তাদের বন্ধুরাষ্ট্রের প্রধানদের উপরও। যেটা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এবং এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা তথ্য থেকে জানা যায়।

    ইউএস সরকার জানে আপনি কার সাথে কথা বলছেন, কীভাবে চিন্তা করেন, কার সাথে ডেট করেন, কোথায় যান, কোথায় ঘুমান।
    অ্যান্ড্রয়েড, গুগল, ফেইসবুক এসবের কারণে এটা সবচেয়ে সহজ এখন।

    কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোম্পানীটি যদি আপনাদের নিজেদের না হয়? বা আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা কোনো শত্রুদেশের হয়?
    তাহলে আপনি তো ওদের ডিভাইস গুলো থেকে তথ্য পাচ্ছেনই না, আবার রিস্ক থাকছে ওরা আপনারই তথ্য পেয়ে যাচ্ছে।
    আপনি নিজে যখন চুরি করেন, তাহলে আপনি জানেন যে একই জিনিস দিয়ে অন্যজন কীভাবে চুরি করবে।
    তার উপর সেই কোম্পানী যদি জায়ান্ট হয়ে উঠে, আপনার কোম্পানী তো ব্যবসায়ই করতে পারছেনা। সব দিক দিয়েই লস।
    তাহলে কী করবেন? এমন ব্যবস্থা করবেন, যাতে তারা ব্যবসা করতে না পারে। ট্যাক্স বাড়িয়ে লাভ নাই, কারণ ওটা আপনার জনগণই তাদের হয়ে পে করছে। তাহলে কী করতে হবে? কোম্পনীটিকে করতে হবে নিষিদ্ধ।
    এমনটিই হয়েছে চাইনিজ অন্য একটি কোম্পানী জেডটিইর সাথে। ২০১৮ সালে আমেরিকা ZTEকে ব্ল্যাকলিস্টেড করে।
    নেটওয়ার্কিং ব্যবসার বাইরে মোবাইল ব্যবসাতেও দারুণ উদ্ভাবন করছিল ZTE. তাদের স্মার্টফোন ব্র‍্যান্ড Nubiaর ফোন গুলো দেখলেই সেটা বুঝতে পারবেন।
    এখন যে বিভিন্ন কোম্পানী ফুল স্ক্রীন ডিসপ্লে শুধু রিয়ার ক্যামেরা দিয়ে ফোন বানাচ্ছে, এমন ফোন আরো এক বছর আগেই এনেছে Nubia.
    তাদের Nubia X ফোনটির সাথে যদি আপনি পরিচিত হয়ে থাকেন, তাহলে দেখবেন এটি অসাধারণ উদ্ভাবন। এই ফোনটির দুটি ডিসপ্লে, একটি ডিসপ্লে পেছনে। মজাত ব্যাপার হচ্ছে ডিসপ্লেটা অন না করা পর্যন্ত বুঝাই যায়না যে এটি ডিসপ্লে।

    ২০১৯ এ এসে হুয়াওয়ে ইউএসএতে ব্ল্যাকলিস্টেড হয়। এতদিন যে আমেরিকাতে হুয়াওয় ব্যবসা করে পারতো, এমনটা কিন্তু না। এখন যেটা করেছে, হুয়াওয়ের সাথে ইউএসএর কোনো ফার্ম ব্যবসা করতে পারবেনা।
    ইউএসের মার্কেট ছাড়াই হুয়াওয়ের স্মার্টফোন এই অবস্থানে এসেছে। ইউএসের মার্কেট থাকলে আরো আগেই এক নাম্বারে চলে আসতো তারা।

    প্রাচীন সমাজের আদলে তখনকার সমাজপতিদের মত আমেরিকা তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে না পারলে এক ঘরে করে রাখার সিস্টেমেই চলছে।
    আমেরিকার পরামর্শ উপেক্ষা করে ইউরোপ যখন হুয়াওয়েকে তাদের দেশে ব্যবসা করার অনুমতি দিচ্ছে, তখনই তাড়াতাড়ি করে হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করে দিল আমেরিকা। আমেরিকার সবচেয়ে কাছের মিত্র ব্রিটেন হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধের ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য করছেনা। আদৌ নিষিদ্ধ করবে কিনা, সেটাও বলা যাচ্ছেনা।
    বৃটিশদের স্ট্র‍্যাটেজি হচ্ছে- “If you cannot beat them, join them.”
    এই ব্যাপারেও সুযোগ বুঝে কোপ দেবে ব্রিটেন।

    আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার ফলে গুগলের সাথে আর ব্যবসা করতে পারবেনা হুয়াওয়ে। এই কারণে তাদের পরবর্তী ফোন গুলোতে এন্ড্রয়েডের গুগল সার্টিফিকেট পাবেনা আর।
    এন্ড্রয়েড যেহেতু ওপেনসোর্স, তাই চাইলে যে কেউ সেটি নিয়ে ব্যবসা করতে পারে। কিন্তু জিমেইল, গুগল ম্যাপ এবং ইউটিউব যেহেতু ওপেনসোর্স নয়, তাই হুয়াওয়ের পরবর্তী ফোন গুলোতে আর এসব দিতে পারবেনা তারা।
    তবে যে ফোন গুলো মার্কেটে ইতিমধ্যে চলে এসেছে সেই সব ফোন গুলোতে সব ঠিকঠাক মত চলবে, এইসব অ্যাপেরও ঠিকঠাকমত আপডেট পাওয়া যাবে।
    হুয়াওয়ে আজকেই জানিয়েছে তারা তাদের গ্রাহককে নিয়মিত সিকিউরিটি আপডেট দিয়ে যাবে। যে সেটগুলো মার্কেটে আছে এবং যে সেটগুলো এখনো স্টোরে আছে বিক্রি হয়নি, সবগুলোতেই গুগল সার্টিফিকেট থাকায় সব সুবিধা ঠিকঠাক মত পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবেনা।
    শুধুমাত্র এন্ড্রয়েডের নেক্সট ভার্সন আপডেট পাওয়া যাবেনা। নেক্সট ভার্সন আপডেট আর সফটওয়্যার আপডেট একই জিনিস নয়। নেক্সট ভার্সন মানে হচ্ছে আপনার যদি এন্ড্রয়েড ভার্সন ৮ থাকে, তাহলে আর ৯ পাবেন না। আর ৯ থাকলে পরবর্তী আপডেট ১০ পাবেন না।

    হুয়াওয়ের ফোন গুলো যারা ইউজ করেছেন, তারা জানেন হুয়াওয়ে ফোন গুলো কেমন ক্লিন আর স্মুথ। ফোনের অনেকগুলো ফিচার হুয়াওয়ের ইনভেন্ট করা। এন্ড্রয়েডের উন্নতিতে হুয়াওয়ের অবদান অনস্বীকার্য। লং স্ক্রীনশট, স্প্যামার ডিটেক্ট এন্ড ব্লক, একাধিক ক্যামেরা, কুইক ক্যামেরা এসবও দেখিয়েছে হুয়াওয়ে।
    এমনকি স্যামসাং এর S10+ এ দেয়া পাঞ্চহোল কিন্তু হুয়াওয়ে তাদের Honor view 20 তে গতবছর দিয়েছে।
    আর ফোনের নেটওয়ার্ক এর জন্য হুয়াওয়ের সবসময়ই সেরা। কোনো ফোনে যখন সিগন্যাল পাওয়া যায়না, তখনো হুয়াওয়েতে সিগন্যাল থাকে। এটা হয়তো তাদের নেটওয়ার্ক ইকুইপমেন্ট এর কারণে।

    হুয়াওয়ে জানতো একদিন তাদেরকে উইন্ডোজ এবং এন্ড্রয়েড ইউজ করতে দেয়া হবেনা। এজন্য তারা বেশ কয়েক বছর আগে থেকে নিজেদের অপারেটিং সিস্টেম (OS) ডেভেলপিং করে যাচ্ছিল। ২০১৮র ডিসেম্বরে ঘোষণা দিয়েছিল এই ওএস রেডি। এটা প্ল্যান বি হিসেবে রেখেছে তারা।
    দেখা যাক তাদের নতুন ওএস কেমন হয়।

    চীনে যেহেতু গুগলের সব সার্ভিস নিষিদ্ধ, আমেরিকারও উচিৎ চীনা ফোন গুলোতে আমেরিকার সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া।
    এইদিক থেকে হিসাব করলে ঠিকই আছে।

    আমেরিকানরা যে অভিযোগ করছে চীন তাদের ডিভাইস দিয়ে গুপ্তচর বৃত্তি করছে, কথাটা চাইনিজ কোম্পানী গুলো অস্বীকার করলেও তাদেরকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।
    কারণ চাইনিজ প্রত্যেকটি কোম্পানী তাদের তথ্য সরকারকে দিতে বাধ্য। নাহয় সেখানে তারা ব্যবসা করতে পারবেনা। চীন কোনো গণতান্ত্রিক বা নাগরিক অধিকারের দেশ নয়।

    কথা হচ্ছে আপনার আমার উপর গুপ্তচরবৃত্তি সবাই করছে। আমেরিকান কোম্পানী গুলোকে দিয়ে আমেরিকানরা করছে, চীনা কোম্পানীকে দিয়ে চীনারা করছে, রাশিয়ান কোম্পানী গুলো দিয়ে রাশিয়ানরা করছে।
    তবে চীন রাশিয়াতে তাদের সরকার যতটা সহজে তথ্য পেতে পারে, মার্কিন সরকার এত সহজে তথ্য পেতে পারেনা। যেমন গুগল এবং ফেইসবুক সহজে সরকারকে তথ্য দিলেও অ্যাপল এবং টুইটার দেয় না।
    নিশ্চয় মনে আছে একজন নিহত টেরোরিস্টের আইফোনের লক খুলে দেয়ার জন্য এফবিআই অ্যাপলকে অনুরোধ করেছিল, অ্যাপল খুলে দেয়ার বদলে আদালত দেখিয়ে দিয়েছিল।
    পরে আদালতে এফবিআই হেরে গিয়েছিল, অ্যাপল আর সেই লক খুলে দেয়নি।

    আমেরিকার এই ব্যানের কারণে হুয়াওয়ায়ে একটা হোঁচট খাবে নিশ্চিত, তবে এই টেলিকমিউনিকেশন জায়ান্ট কীভাবে সামলে উঠে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
    কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, আপনি হুয়াওয়েকে যতই অপছন্দ করেন, কোনো না কোনোভাবে আপনি হুয়াওয়ের ইউজার। হতে পারে সেটা আপনার টিভির ভেতরের চিপ হুয়াওয়ের কিংবা আপনার মোবাইলের নেটওয়ার্ক।
    হুয়াওকে আপনি অপছন্দ করতে পারেন, কিন্তু কনজিউমার হওয়া থেকে নিজেকে এড়াতে পারেন না।

    #Huawei #Google #Android

    Reply
  • May 23, 2019 at 5:44 am
    Permalink

    US Trade restrictions সম্পর্কে আমরা এখন পর্যন্ত যা জানি-

    ১। কয়েকদিন আগেই জানা গেছে ইউ এস প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের ফলে চাইনিজ জায়ান্ট হুয়াওয়ে এখন থেকে কোন আমেরিকান কোম্পানির সাথে ব্যবসা করতে পারবে না। মানে কোন পণ্য বা সার্ভিস লেনদেন/ক্রয় বিক্রয় করতে পারবে না।

    ফলে তারা ইন্টেল, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মত বড় বড় কোম্পানির সাথে আর বিজনেস করতে পারবে না। স্মারটফোনের ক্ষেত্রে তারা অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে Android ব্যবহার করতে পারলেও (যেহেতু AnDroid Operating Sysytem ওপেন সোর্স) গুগল সার্ভিস, জিমেইল, ইউটিবের মত App আর ব্যবহার করতে পারবে না। এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে আরও অন্যন্য থার্ড পার্টি US এপ্লিকেশন।

    তবে হুয়াওয়ের যে সকল স্মার্ট ফোন বা ডিভাইস আমরা এখন ব্যবহার করছি, সেগুলোতে কোন ধরনের সমস্যা হবার কথা না যেহেতু এসব পণ্য ট্রেড লাইসেন্স থাকাকালীন সময়ের। এবং এখন পর্যন্ত হুয়াওয়ের যেসব স্মার্ট ফোন বাজারে Available আছে সেগুলোতেও কোন সমস্যা নেই। এসব ফোনে Android থাকবে এবং গুগলের সার্ভিস বা Apps থাকবে। তবে এসব ডিভাইস পরবর্তী OS UPDATE পাবে না।

    ২। শোনা যায় হুয়াওয়ে ২০১২ সাল থেকেই তাদের নিজেদের স্মার্ট ফোন অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে সম্প্রতি জানা গেছে এর নাম “HongMeng OS”. হুয়াওয়ের পরবর্তী ফোন গুলোতে হয়তো এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। এদিক থেকে সেফ থাকলেও গুগল সার্ভিস ছাড়া তাদের ফোন গ্লোবালি কতটা জনপ্রিয়তা পাবে সেটা বলা যাচ্ছে না।

    ৩। ভালো খবর হচ্ছে এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে ৩ মাসের জন্য মানে এ বছরের অগাস্ট মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তারা আগের মত স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারবে।

    ৪। আমরা সবাই প্রত্যাশা করি কোন টেক জায়ান্টের উপরেই যেন এ ধরনের কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকে। সেটা আমাদের মত টেক পাগল মানুষের জন্য ভালো। হুয়াওয়ের মত বিশাল টেক জায়ান্ট এর উপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা চলে যাক এই কামনা করি কারণ দ্রুত এগিয়ে যাওয়া এই কোম্পানি যার স্মার্ট ফোন মার্কেট শেয়ারের পজিশন এখন দ্বিতীয়তম অবস্থানে আছে এবং টেলিকম ইন্ড্রাস্টিতে তাদের অবদানও অনেক।

    ৫। নতুন কোন আপডেট পেলে আবারো এই টপিক নিয়ে কথা হবে আপাতত এ বিষয় নিয়ে কোন পোস্ট আশা করছি না এবং যে কোন কোম্পানিকে নিয়ে আমাদের গ্রুপে ট্রল করা একদমই নিষিদ্ধ করা হলো।

    সবাই ভালো থাকবেন।

    Reply
  • May 22, 2019 at 12:52 am
    Permalink

    Huawei ব্যান প্রসঙ্গ-

    আগামী ৯০ দিন অর্থাৎ ২০ মে থেকে ১৯ আগষ্ট ২০১৯ পর্যন্ত হুয়াউই বর্তমানে সচল ফোনগুলো গুগলের Android এর সকল আপডেট পাবে তারপর বন্ধ হয়ে যাবে

    কেন এই ব্যান?

    স্মার্টফোন ব্র‍্যান্ড গুলো বিভিন্ন সময়ই টুকটাক ফ্রড বা চিটিং করে থাকে। যেমন অতীতে ওয়ানপ্লাসকে একাধিকবার বেঞ্চমার্ক স্কোর চিটিং বা হুওয়ায়ে কে ডিএসএলআরের ছবিকে তাদের ফোনের ছবি বলে চালিয়ে দিতে দেখা গেছে। কিন্তু এসব টুকটাক চিটিং কে শেষমেশ তেমন একটা পাত্তা দেয়া হয়না। কিন্তু চিটিং টা যখন প্রাইভেসি রিলেটেড হয়, তখন সেটা খুবই সিরিয়াস ব্যাপার হয়ে যায়। হুয়াওয়েকে ব্যান করার পেছনে আমেরিকার দাবী হুয়াওয়ের স্মার্টফোন গুলিতে একপ্রকার ব্যাকডোর ভাইরাস বা স্পাইওয়্যার রানিং থাকে যা ইউজারদের পার্সোনাল ডাটা চুরি করে তাদের সার্ভারে পাঠায় এবং সেটার প্রমাণ ও নাকি আমেরিকার কাছে আছে। এখন FBI বা CIA প্রমাণ না রেখে এত বড় দাবী করবে বলে মনে হয়না, তবুও তর্কের খাতিরে আমরা যদি ধরেও নেই যে তাদের দাবী মিথ্যা, কিন্তু তবুও হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে ডাটা চুরি সহ বিভিন্ন অভিযোগ এই প্রথম না।

    সেই ২০০৩ থেকেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তথ্য চুরির। হুয়াওয়ে মূলত চীনা সরকারের প্রতক্ষ্য মদদে চালিত কোম্পানি। তাদের কে অনেকটা চীনের রাষ্ট্রীয় ব্র‍্যান্ড ও বলা চলে। তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ তারা তাদের স্মার্টফোনে ব্যাকডোর এপ্লিকেশনের মাধ্যমে ইউজারদের ডাটা সংগ্রহ করে এবং তা চীনা সরকারকে সরবরাহ করে। এসব কারণে বিভিন্ন সময়ে তারা আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা, ইংল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে প্রায় নিষিদ্ধ বা রেস্ট্রিকটেড ছিলো।
    এমনকি এই জানুয়ারী মাসেও হুয়াওয়ের এক কর্মকর্তা পোল্যান্ডে গ্রেফতার হয়েছিলেন ‘স্পাইয়িং’ এর অপরাধে।
    ১৮ তে তাদের CFO গ্রেফতার হয়েছিলো, একই বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের বেঞ্চমার্ক স্কোর চুরি ধরা পরেছিলো। সেই বছরের নভেম্বরেই নিউজিল্যান্ড রিস্ক খুজে পেয়ে হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করে। এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাদের Honor 7x ফোনেও ‘imonitor’ নামের প্রি-ইনস্টলড স্পাইওয়্যারের এক্টিভিটি ধরা পরে।

    ব্যানের ফল কি হবে?

    ইতিমধ্যেই গুগলের সাথে ইন্টেল, কোয়ালকম সহ আরো অনেক চিপ মেকার কোম্পানিই একাত্মতা প্রকাশ করেছে। মানে তারাও এই ব্যান সমর্থন করে। ফলে ভবিষ্যতে তাদের ফোনে স্ন্যাপড্রাগন আর ল্যাপটপে ইন্টেল প্রসেসর ও হয়ত আর দেখা যাবেনা।

    ব্যানের ফলে ভবিষ্যৎ হুয়াওয়ে ফোন গুলিতে আর প্লেস্টোর বা গুগল অ্যাপস গুলি থাকবেনা। এমনকি এন্ড্রয়েড থাকবে কিনা সেই সন্দেহ ও আছে কিছুটা! কারণ এন্ড্র‍য়েডের মেজর ডেভেলপমেন্ট গুলো গুগলেরই করা। যদিও এন্ড্র‍য়েড ওপেন সোর্স লিনাক্স ভিত্তিক হওয়ায় সেই আশংকা খুব কম। একান্তই গুগল আদালতে গেলে বা গুগলকে আদালতে যেতে বাধ্য করালে ভিন্ন হিসাব।

    গুগলের পার্টনারশিপ না থাকায় বর্তমানে ইউজারদের হাতে থাকা রানিং হুয়াওয়ের ফোন গুলিতেও আর এন্ড্রয়েড আপডেট আসার সম্ভাবনা খুবই কম। এর মানে, আপনার হুয়াওয়ে ফোন এখন Android P রানিং হলে সেটা আজীবন হয়ত P তেই থাকবে, কখনো আর Q এর আপডেট আসার সম্ভাবনা হয়ত নেই।
    সবচেয়ে বড় ঝামেলা হবে, গুগল হুয়াওয়ে কে আর কোন ‘সিকিউরিটি প্যাচ’ প্রোভাইড করবেনা। যেটা হুয়াওয়ে ফোন গুলিকে ভবিষ্যতে ভালনারেবল করে তুলবে।

    হুয়াওয়ে কি করবে?

    অনেকেই বলতেসে হুয়াওয়ের গুগলকে লাগবেনা, তারা নিজেরাই OS বের করে নিবে! কথা টা হাস্যকর। হুয়াওয়ে অবশ্যই নিজস্ব OS বের করার সামর্থ্য রাখে কিন্তু শুধু OS হলেই হয়না। স্যামসাং ও নিজেদের OS বের করসিলো, শেষমেশ অ্যান্ডয়েডেই সীমাবদ্ধ ছিলো। অতীতে মাইক্রোসফটের মত হিউজ কোম্পানির উইন্ডোজ মোবাইল ওএসকে শুধুমাত্র অ্যাপসের অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে দেখা গেসে। একটা নতুন OS ধুম করে বের হয়ে ধাম করেই সব জয় করে ফেলেনা। আজকের এন্ড্রয়েড কেও এই পর্যন্ত আসতে দশ বছর সময় লাগসে। কেউ যদি ভাবে, হুয়াওয়ের নতুন ওএস এসেই এন্ড্রয়েডের সাথে পাল্লা দিবে তাহলে সেটা হবে বোকামী। এতটা পোলিশড, রিলায়েবল আর হিউজ পরিমাণ অ্যাপসের ভান্ডার সমৃদ্ধ অ্যান্ডয়েড রেখে চীনের বাইরে কেউ হুয়াওয়ের ওএস বেছে নিবে বলে মনে হয়না। আর তারা নিজস্ব ওএস বের করলেও তাদের সেই সফটওয়্যার কতটুকু পোলিশড হবে সেটা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়, যেখানে চীনের সবচেয়ে বড় কোম্পানি হয়েও তাদের ফোনের EMUI চীনেরই অন্যান্য অনেক ফোনের UI এর চেয়ে এখনো বেশ পিছিয়ে। চাইনীজ হার্ডওয়্যার ভালো খারাপ যেমন ই হোক, চাইনীজ সফটওয়্যার যে কেমন আর কতটা ইরিটেটিং হতে পারে সেটা চাইনীজদের Uc / Baidu ইউজ করতে গেলেই বোঝা যায়।

    হুয়াওয়ের কতটা ক্ষতি হবে?

    ব্যানের ফলে গুগল নিজেও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিন্তু হুয়াওয়ের ক্ষতি হবে হিউজ। যদি ফোনে প্লেস্টোর ই না থাকে, তাহলে সেই ফোন চীন বা ইন্ডিয়ায়ও হয়ত মোটামুটি বিক্রি হবে কিন্তু ওয়েস্টার্ন কান্ট্রিগুলোতে বিক্রি হওয়ার চান্স খুবই কম। পাশাপাশি ওএস আপডেট, সিকিউরিটি প্যাচ, গুগল অ্যাপস গুলোর অভাবে অনেক পিছিয়ে পরবে ভবিষ্যত হুয়াওয়ে ফোন গুলো। যা তাদের মার্কেট শেয়ার শুধু কমাবেই। শাওমির ও প্লেস্টোর প্রি-ইনস্টলড ছাড়া অনেক ফোন আছে কিন্তু সেই হিসেব আলাদা। শাওমির নন-গ্লোবাল ফোন গুলিও বুটলোডার আনলকের মাধ্যমে গ্লোবাল / কাস্টম রমের সুবিধা পেতে পারে কিন্তু হুয়াওয়ে বর্তমানে তাদের ফোনে বুটলোডার আনলক করারও অপশন দিচ্ছেনা। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ ফোন গুলিতে কাস্টম রম পর্যন্ত ব্যাবহার করা যাবেনা, যদিনা তারা আবার বুটলোডার আনলকের সুযোগ সামনে না দেয়।

    প্লেস্টোর না থাকলে পশ্চিমা দেশে কিংবা আমাদের উপমহাদেশেও বিক্রি অনেকাংশে কমবে বললাম, কারণ যেখানে MiUi তে এক ক্লিকে অতি সহজে অ্যাড অফ করার অপশন থাকার পরেও মানুষ MiUi এর অ্যাড নিয়ে পরে থাকে, সেখানে প্লেস্টোর বা গুগল অ্যাপস না থাকাটা অনেকের কাছেই আরো অনেক বড় ফ্যাক্ট হবে।

    একইসাথে এমন ও শোনা যাচ্ছে যে, ফোন কম্পোনেন্ট সাপ্লাইয়ার রাও হুয়াওয়ে কে পার্টস সরবরাহ বন্ধ করতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন সাপ্লাইয়ার দের কে ব্ল্যাকলিস্টেড কোম্পানির কাছে পার্টস সরবরাহে কড়া হুশিয়ারি জানিয়েছে। ফলে হয়ত স্যামসাং এর মত কোম্পানির ডিসপ্লে বা সনির মত কোম্পানির ক্যামেরা সেন্সর থেকে বঞ্চিত হবে হুয়াওয়ে।

    ব্যান টা কি পলিটিকাল?

    ব্যান টা একই সাথে রিজনেবল, একই সাথে পলিটিকাল। এখানে ট্রেড ওয়্যারের ও ব্যাপার আছে। আমেরিকা চাইবেনা ভবিষ্যতে তাদের অ্যাপল কোন হুমকিতে পরুক। একই সাথে তারা এটাও চাইবেনা, তাদের প্রাইভেট ডাটা চাইনিজ গভর্নমেন্টের কাছে চলে যাক। নিজেদের প্রাইভেসির অযুহাতে তারা এটা করতেই পারে। বরং এর শুরুটা করসেই চীন। অনেক আগে থেকেই তারা প্রাইভেসির অযুহাতে নিজেদের দেশে আমেরিকান গুগল বন্ধ করে রাখসে। জিনিস টা অনেকটা টিট ফর ট্যাটের মত হয়ে গেসে।

    অন্যান্য চীনা ব্র‍্যান্ড ও ব্যান খাবে?

    সম্ভাবনা কম কারণ Huawei আর ZTE ব্যতীত ওয়ানপ্লাস, শাওমি, অপ্পো বা অন্য কোন ব্র‍্যান্ডের বিরুদ্ধে এমন তথ্য চুরির গুরুতর অভিযোগ নেই। আবার একই সাথে তারা কেউই চীনা সরকারের প্রতক্ষ মদদে চলেনা, যেটা হুয়াওয়ে চলে। তাই অন্যান্য ব্র‍্যান্ডের ব্যানের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

    এটা ঠিক যে হুয়াওয়ের এই ব্যানের জন্য দায়ী তারা নিজেরাই, কিন্তু কখনোই একটা ব্র‍্যান্ডের মোবাইল ডিভিশনকে প্রায় পুরোপুরি শেষ করে দেয়ার মত স্টেপ কে পুরোপুরি সমর্থন করা যায়না। নির্দোষ হলে হুয়াওয়ের উচিত হবে ল-স্যুট করা।

    #Collected

    Reply

আপনার মতামত ...