পণ্যের বর্ণনায় আনুন পরিবর্তন

অনলাইনে আপনার পণ্য বিক্রির উপায় যাই হোক না কেন; ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হলে আপনার পণ্যটি সম্পর্কে ক্রেতাকে জানাতে হবে সবার আগে। আর সবকিছু জানানোর সবচেয়ে ভাল উপায় হল পণ্যটি সম্পর্কে সব তথ্য সুন্দরভাবে ক্রেতার সামনে উপস্থাপন করা। এতে করে ক্রেতা বুঝতে পারবেন তার চাহিদা অনুযায়ী কোন পণ্যটি সর্বোত্তম আর কোন পণ্যটি তাকে তার চাহিদা থেকেও বেশি কিছু দিতে পারবে ইত্যাদি। সেক্ষেত্রে দেখা যায় পণ্যের বিক্রিও দ্বিগুন বেড়ে যায়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এক্ষেত্রে পণ্যের বর্ণনা একটি মুখ্য বিষয়। তাই আসুন জেনে নিই কিভাবে পণ্যের বর্ণনা লিখলে তা ক্রেতার সর্বোচ্চ মনোযোগ আকর্ষন করতে পারবে সে সম্পর্কে কিছু টিপস।

 

পণ্যের বর্ণনা লেখায় বিবেচ্য বিষয়ঃ

১. মূল ক্রেতাদের উপর দৃষ্টি দিনঃ

পণ্যের বর্ণনা দ্বারা সবাইকে সন্তুষ্ট করতে যাবেন না। যদি সবার মনোরঞ্জন করতে গিয়ে বিস্তর বর্ণনা দিয়ে বসেন তাহলে কেউই আপনার পণ্যের বর্ণনা পড়তে আগ্রহী হবেনা। তাই যেই শ্রেনীর ক্রেতা আপনার পণ্যটি ক্রয় ক্রবে তাদের চাহিদা, পছন্দ-অপছন্দের ওপর নজর দিন। আপনার পণ্যটি তাদের জীবনকে কীভাবে আরও সহজ, সরল আর চাঞ্চল্যকর করে তুলবে সে সম্পর্কে লিখুন।

পণ্যের বর্ণনায় আনুন পরিবর্তন 2

২.ফিচারে মূল তথ্যগুলো উপস্থাপন করুনঃ

ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল, পণ্যের বর্ণনা সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা। আর সুন্দর ভাবে বর্ণনাটি উপস্থাপন করতে হলে মূল তথ্যগুলোর উপর বেশি জোর দিন। তা ছোট ছোট করে লিখুন। বাড়তি কথার কোন দরকার নেই। আপনার পণ্যটি কেন বাজারে অন্য পণ্যের তুলনায়  আলাদা তাও উল্লেখ করুন। আপনার সংগ্রহে কতগুলো পণ্য আছে  আর তাদের মূল্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন।

পণ্যের বর্ণনায় আনুন পরিবর্তন 3

. ভাষাকে আকর্ষণীয় করে তুলুনঃ

ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করার সেরা উপায় হল, আপনার বর্ণনার ভাষাকে আরও সহজ, সাবলীল ও আকর্ষণীয় করে তুলুন। এমন ভাবে বর্ণনা লিখুন যা পড়ে ক্রেতা আপনার ব্যক্তিত্ব এবং আপনার কোম্পানির লক্ষ্য এবং মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে। লেখাটি যেন ক্রেতার মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে লেখায় কিছু রসবোধ সৃষ্টি করুন। ক্রেতা আপনার বর্ণনায় মুগ্ধ হবেই।

পণ্যের বর্ণনায় আনুন পরিবর্তন 4

৪. ভিজ্যুয়াল ফরম্যাটে পরিবর্তন আনুনঃ

আপনার লেখাটি দেখতে যাতে আকর্ষণীয় হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। কেননা বেশির ভাগ ক্রেতাই গাঁজাখুরি লেখা পড়ায় আগ্রহ প্রকাশ করেনা। তাই আপনার লেখায় প্রয়োজনীয় তথ্যগুলোতে ‘বুলেট পয়েন্টস’ ব্যবহার করুন। সেই সাথে ছবি ও ভিডিও যোগ করুন। কারণ কেবল বর্ণনা পড়েই অনেকে পণ্য কিনতে চাননা। সেই সাথে পণ্যটি দেখতে কেমন হবে সেটাও জানতে চান। হোক সেটা কোন পোশাক কিংবা কোন খাবার কিংবা কোন গেজেট।

পণ্যের বর্ণনায় আনুন পরিবর্তন 5

৫. নিজের পণ্যের অতিরিক্ত গুণগান করবেন নাঃ

সব ধরণের বিক্রেতাই তাদের পণ্যের বর্ণনায় লিখে থাকেন-“সর্বোত্তম মান সম্পন্ন পণ্য”, “সর্বাধিক বিক্রিত পণ্য”, “পাবেন চমৎকার ফলাফল”, “বাজারের ১ নম্বর পণ্য”ইত্যাদি। এই লেখাগুলো পড়ে ক্রেতারা ভাবেন এই ধরণের কথা তো সব পণ্য বিক্রেতারাই বলে থাকেন। ফলে বিষয়টি ক্রেতার মনে ইতিবাচকের চেয়ে নেতিবাচক প্রভাব বেশি ফেলে। তাই এই ধরণের শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এইসব না লিখে আপনার পণ্যের মান সম্পর্কে লিখুন। ভাল-মন্দ ক্রেতাকে যাচাই করতে দিন।

পণ্যের বর্ণনায় আনুন পরিবর্তন 6

৬. অনুভূতিপ্রবণ শব্দগুলো ব্যবহার করুনঃ

অনুভূতিপ্রবণ শব্দগুলোর মাধ্যমে আমরা প্রকাশ করে থাকি যে, আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন জিনিসকে কিভাবে উপভোগ করি-দেখা, শোনা, গন্ধ শোঁকা, স্বাদ নেয়া ও অনুভব করার মাধ্যমে। শুধুমাত্র কবির কবিতায় নয়; এই অনুভূতিপ্রবণ শব্দগুলো আপনি ব্যবহার করতে পারেন আপনার পণ্যের বর্ণনাতেও। এটি প্রমানিত যে এই ধরণের শব্দ ব্যবহারে পণ্যের বিক্রি অনেক বেড়ে যায়। কারণ মানুষ খুবই অনুভূতিপ্রবণ ও সংবেদনশীল জীব। এ বিষয়গুলো সহজেই তার মনেক নাড়া দিতে পারে।

পণ্যের বর্ণনায় আনুন পরিবর্তন 7

৭. সার্চ ইঞ্জিনে প্রয়োজনীয় ট্যাগ দিনঃ

আপনি অবশ্যই চাবেন যে, আপনার পণ্যটি যাতে ক্রেতারা সহজে খুঁজে পায়। তাই সার্চ ইঞ্জিনে যাতে আপনার পণ্যটির নাম লিখে খুজলে সহজে পাওয়া যায় সে ব্যবস্থা করুন। যেমন-আপনি যদি একটি কালো পশমী জ্যাকেট বিক্রি করতে চান তবে “কালো”, “পশমী’, “জ্যাকেট” প্রতিটি শব্দে আলাদা ট্যাগ দিন। এই শব্দগুলো হেডলাইন ও বর্ণনায়ও ব্যবহার করুন। ছবি বা ভিডিও যোগ করে থাকলে তাতেও এই শব্দগুলো ট্যাগ দিন।

পণ্যের বর্ণনায় আনুন পরিবর্তন 8

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।