হুয়াওয়ে পি৩০ লাইট ইউজার রিভিউ: মধ্যবিত্তের ফ্লাগশিপ ডিভাইস

প্রথমেই ছোট্ট ভুল ভাঙানোর ট্রাই করি। যারা ভাবছেন হুয়াওয়ে’র এই ফোনে আর অ্যান্ড্রয়েড/গুগল/গুগল সার্ভিস চলবে না, তারা সম্পূর্ণ ভুল ভাবছেন। গুগল/অ্যান্ড্রয়েড আজ পর্যন্ত যাদের সেবা দেওয়া শুরু করেছে অন্তত তাদের সেবা দেওয়া চালিয়ে যাবে। নতুন হুয়াওয়ে ডিভাইসগুলো নিয়ে হয়তোবা চিন্তার বিষয়, কিন্তু অলরেডি রিলিজ হওয়া ডিভাইস নিয়ে অর্থাৎ এখানে আমার আপনার চিন্তা নেই। পি৩০ ইউজার রিভিউ লিখছেন টেকপ্রেমী মল্লিক গালিব শাহরিয়ার।

ডিভাইস: Huawei P30 Lite
অপারেটং সিস্টেম : Android 9 Pie
ইউজার ইন্টারফেস: EMUI 9.0.1
দাম: 28,000/- (with ear closing Headphone Gif

আসি এবার এক্সপেরিয়েন্সে। আমি এটাকে রিভিউ না বলে এক্সপেরিয়েন্স বলছি, সম্পূর্ণ ক্যাজুয়ালি আমার এক্সপেরিয়েন্সটা তুলে ধরবো ^_^

১. ডিজাইন: কিছু জিনিস থাকে না, ছুঁলেই একটা অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে? এই ডিভাইসটা সেরকম একটা জিনিস। এতো স্লিম একটা ফোনের মধ্যে এতোকিছু আছে ভাবলেই বুঝবেন প্রযুক্তি কতোটা এগিয়ে গেসে!
ফোনটার সাইজ বড় না দেখে কিনতে চাইবেন না যারা, তারা আরেকবার ভেবে দেখতে পারেন। আমার হাতের ফোনটা হাতে নিয়ে দেখতে চাইসে শুধু লুকের কারণে এমন মানুষ প্রচুর। উপরে U শেইপের একটা নচ আছে; যারা এসেনশিয়াল ফোন-১ এর নচটাই মনে মনে খুঁজছিলেন তাদের দুধের স্বাদ লাবাং এ মিটতে যাচ্ছে!

২. ফ্রন্ট ক্যামেরা: ফ্রন্ট ক্যামেরা ৩২ মেগাপিক্সেল। আমি জানিনা ৩২ মেগাপিক্সেল দিয়ে মানুষ কি করে 🙄 তবে ফ্রন্ট ক্যামেরা নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। একটু ঘাটাঘাটি করতেই দেখলাম পেছনে ব্লার করে bokeh তৈরি করা যায় *ইচ্ছামতো শেইপে (অস্থির জিনিস)। ফেইস বিউটি কমা বাড়া করতে পারবেন। সেলফি লাভার না, তাও এটা দিয়ে নিজেরে খুব সুন্দর লাগে তাই, বারবার ছবি তুলি 🤐

৩. ব্যাক ক্যামেরা: ট্রিপল ক্যামেরা: ২৪+৮+২। ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা আছে; যেটা একটা জোস জিনিস। অনেক উপর থেকে(যেমন ছয়তলা ছাদ) একটা শট নিয়ে দেখবেন, প্রেমে পড়তে বাধ্য। তবে ওয়াইডে ছবির ডিটেইলস একটু কমে যায়।
এমনিতে নরমাল মুডে ছবি খুব অসাধারণ লেভেলের না, তবে ইম্প্রেসিভ অবশ্যই। এ আই অনেক স্ট্রং। এ আই এ ছবি দেখতে একটু সুন্দর লাগে, এছাড়াও আরেকটা কাজ করে দেয় এই এ আই। আপনি ছবির ওপর *দুই আঙ্গুল দিয়ে পিঞ্চ আউট করলে এটার নাম, আপনার আশেপাশের কোন শপে পাওয়া যায় সেটা দেখাবে।
Text এর ছবিগুলা ভালো লাগতেসে না, মনে হচ্ছে মাত্র পেন্সিল খুব শার্প করে লিখা হলো।

স্লো-মোশন আর *সুপার স্লো মোশনে ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন। আরেকটা জিনিস পারবেন, *টাইম ল্যাপ্সিং ভিডিও (ঐযে আকাশে মেঘগুলা খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে,বা রাস্তায় গাড়িগুলা দ্রুত চলে যাচ্ছে এমন সিনেমায় দেখায় না? ওমন)

৪. পার্ফরমেন্স: সেগমেন্টটা ৩ ভাগে লিখছি।
ক.র‍্যাম/রম: ফোনটা কিনেছিলাম কেবল ৬/১২৮ জিবি প্রয়োজন, তাই। আপনি সাধারণ পাবলিক হয়ে থাকলে এই ৬ জিবি আপনার জন্য এনাফ, মোর দ্যান এনাফ। ১২৮ জিবি রম একটা গুড স্টোরেজ আপনাকে অফার করছে, আপনার এসডি কার্ড লাগানো লাগতেসে না। র‍্যাম ম্যানেজমেন্ট খুব ভালো লেগেছে। অযথা ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ্স র‍্যাম কিল করবে না, চাইলেই আপনি সাইলেন্ট অ্যাপস *রেস্ট্রিক্ট করতে পারবেন। যেমন ফোনের নেট অন থাকলেও মেসেঞ্জারে আপনার মেসেজ আসবে না, যদি ব্যাকগ্রাউন্ড কিল করা থাকে (আমি ফোর্স স্টপের কথা বলছি না)

খ.চিপসেট: হাইসিলিকন কিরিন ৭১০ (11 nm)। যারা প্রসেসর বলতে স্ন্যাপড্রাগন ছাড়া অন্য কিছু বুঝেন না, আ’ম সরি, আমি বুঝাতেও পারবো না এই কিরিন ৭১০ কি জিনিস। আপনারা স্ন্যাপড্রাগনের একটা হাইফাই প্রসেসর এনে তার সাথে কিরিনের মধ্যবিত্ত প্রসেসরের তুলনা করেন, খুব খারাপ ভাই :/ স্ন্যাপ ৬৬০ এর সাথে তুলনা করা যেতে পারে এই চিপের সাথে। ১১ এন এম হওয়াতে ব্যাটারি খুব একটা রাক্ষুসে হওয়ার কথা না, যদিও ব্যাটারি নিয়ে আমার অভিযোগ আছে, পরে বলছি।

গ.এক্সপেরিয়েন্স: খুব ভারী গেইম খেলিনা, তাই এ ব্যাপারে বলতে পারলাম না। মাল্টি টাস্কিং করতে পারবেন একসাথে ১০+ অ্যাপ্স ব্যাকে রাখলেও সমস্যা হয়না একটুও। *ক্যাশ ধরে রাখতে পারে বেশ ভালোই অন্যদের থেকে -এটা অসাম ভাই।

৫. ব্যাটারি: ৩৪০০ এর আশেপাশে একটা ব্যাটারি ভাই বুঝলাম না এই দামে এডি কি দিলো? 🙄 ড্রেইনও করতেসে দ্রুতই। ফেইসবুক, ইউটিউবিং করলে অবশ্য ৮.৫/৯ ঘন্টা চালাইতে পারবেন, যদিও আমি ০% আসা পর্যন্ত ট্রাই করিনি, একটা আন্দাজ করে বললাম। সি টাইপ চার্জার দিসে একখান, চার্জ হইতে ২+ ঘন্টা লাগে টাইম।
নোট: ক্যালিব্রেশন করায়ে নিবেন। ব্যাটারি লাইফ আরেকটু ভালো পাবেন।।

৬. ডিসপ্লে: যথেষ্ট ইম্প্রেসিভ। যদিও স্যামসাং এগিয়ে এদিকে। তবে একটা কথা বলি, আপনি সবসময় এটাকে তো স্যামসাং এর অ্যামোলেড ডিস্পলের পাশাপাশি রাখবেন না, যে খুব মরা মরা ডিসপ্লে লাগবে!

৭. ইউজার এক্সপেরিয়েন্স: আপনি EMUI অপছন্দ করতে পারেন, তবে EMUI 9 কে অবশ্যই না! এতো ক্লিন আর স্মুথ EMUI কে হেইট করার কিছু পাইনি আমি। থ্রি ফিঙ্গার স্ক্রিনশট, ফ্লিপ করলে রিংটোনের আওয়াজ কমে যাওয়া, ফোন কানে ধরলেই রিসিভ হওয়া..এমন জিনিসগুলো তো আপনাকে আরও আলসে বানিয়ে দেবে। কাস্টমাইজ করার জন্য লঞ্চার ইউজ তো করতেই পারছেন। উপরে স্টার* মার্ক করা জিনিসও পাচ্ছেন এই ইউ আই তে।
মিউজিক লাভার হয়ে থাকলে ভাই, এর মতোন জোস জিনিস আর পাবেন না, ইয়ারপিসের জন্য চারখান মুড আছে, একটা সম্পূর্ণ কাস্টমাইজেবল, আরেকটা আছে পছন্দমতো ইয়ারফোন এক্সপেরিয়েন্স চুজ করতে পারবেন। মরা গানকেও ঢিংকা চিকা লাগবে, গ্যারান্টি। নিউট্রাল মুডটাও সেইই, যারা কাস্টমাইজেশনের ঝামেলায় না যেয়ে গান শুনতে চান, তাদের জন্য। অটো মুডে গান শুইনেন না, ভালো লাগেনা।

যারা ভাবতেসেন ২৮ হাজারে দিয়ে কিরিন ৭১০ কেন নিবেন, তাদের আবার বলি, প্রসেসরই একটা ফোনের সব না। আপনাকে এটা ৬/১২৮ অফার করছে সেটা কেন দেখছেন না?
যারা ভাবতেসেন নেওয়ার জন্য, নিয়ে ফেলেন। আপনি ভুল করছেন না। একটা ফ্লাগশিপ সিরিজের ফোন আপনার হাতে, এই ফিলটারও একটা ভ্যালু আছে ব্রো।

3 thoughts on “হুয়াওয়ে পি৩০ লাইট ইউজার রিভিউ: মধ্যবিত্তের ফ্লাগশিপ ডিভাইস

  • June 29, 2019 at 3:16 pm
    Permalink

    হেডলাইন দেখে অবাক হয়েছিলাম। পরে বুঝলাম। যাহোক হুয়াওয়ে সম্প্রতি আরো তিনটি নতুন ফোন ছেড়েছে। যেগুলো কম বাজেটের মধ্যে ভাল হবে।

    Reply
  • June 1, 2019 at 7:33 pm
    Permalink

    ক্যাপশন পড়ে আতকে উঠেছি ভাই -_- হুয়াওয়ে পি ৩০ মধ্যবিত্তের ডিভাইস! ৯০ হাজার টাকার মোবাইল আবার মধ্যবিত্তের!!! পরে ডিটেইলস পড়ে দেখলাম যে পি ৩০ লাইট নিয়ে লেখা। হেডলাইনটা চেঞ্জ করার আহবান জানাচ্ছি।

    Reply
    • June 5, 2019 at 4:35 am
      Permalink

      আপডেটেড

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.