যুগের বড় ১০ ব্যর্থ প্রযুক্তি

প্রযুক্তির অগ্রসরের অন্যতম একটি দশক ছিলো ২০১০-২০১৯ । সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির অনন্য অগ্রগতি আমরা দেখতে পেয়েছি। বাটন মোবাইল থেকে বেজেললেস ফোন, ২ কোর সিপিউ থেকে ৬৪ কোর সিপিউ, ফোল্ড করা ট্যাবলেট, ড্রোন সবই দেখতে পেয়েছি আমরা। কিন্তু যা আমরা সচোরচর দেখতে পাই না তা হলো প্রযুক্তির ব্যর্থতা, ফ্লপ এবং ভেঙ্গে যাওয়া সপ্নগুলো। আজকে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো দশকের বৃহত্তম ১০ টি ব্যর্থ হওয়া প্রযুক্তির গল্প

 

১০. উইন্ডোজ আরটি

এই অপারেটিং সিস্টেমটি দ্বারা পাওয়ার করা হয়েছিলো মাইক্রোসফট এর প্রথম সারফেস আরটি ট্যাবলেট। এর ডেস্কটপ মোডটি দেখতে রেগুলার উইন্ডজ এর মতো হলেও আসলে এটি এক ছিলো না। এতে আমাদের পছন্দের অ্যাপগুলো ইন্সটল করার সুযোগ ছিলো না। একই সাথে এটি ছিলো অনেক ধীরগতি সম্পন্ন। ফলে মাইক্রোসফটের ক্ষতি হয় ৯০০ মিলিওন ডলার।

 

৯.  মাইক্রোসফট ব্যান্ড

মাইক্রোসফট এর ব্যান্ড তৈরি করার প্রথম চেষ্টা টা একদমই সফল হতে পারেনি। হার্ডওয়্যার এর সমস্যা, অস্বস্তিকর বেল্ট এর সমন্বয়ে তৈরি ব্যান্ডটি কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য ছিলো না।

৮. স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোল্ড

স্ক্রিন প্রোটেক্টর খোলার কিছুদিন পরেই ডিসপ্লে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো স্যামসাং এর গ্যালাক্সি ফোল্ড ফোনটির। প্রথম ফোল্ডিং ফোন হিসেবে এটি এর সুনাম বজায় রাখতে পারেনি।

 

৭. গুগল প্লাস

গুগল এর প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুগল+ । যার সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত কিন্তু ফেসবুকের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে পারেনি এটি। গুগল এর তথ্য ভঙ্গ হওয়ার অভিযোগে গুগল+ এর সমাপ্তি হয় ২০১৮ সালের অক্টোবরে ।

 

৬. ব্ল্যাকবেরি

দশকের শুরুর দিকে ব্ল্যাকবেরি ছিলো সব ফোনের শীর্ষে। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে ব্যাবসায়ি কিংবা সেলিব্রিটি সবার কাছেই এটি ছিলো আবশ্যক একটি ডিভাইস। ২০১২ তে এর ইউজার সংখ্যা যখন চূড়ায় (৮০ মিলিওন) তখনই সবকিছু ওলট-পালট হতে থাকে। আইফোন ৪এস এর নতুন ফিচারগুলোর সাথে এবং এন্ড্রয়েডের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে পারেনি ব্ল্যাকবেরি। একটির পর একটি ফ্লপ ফোন রিলিজ করায় কোম্পানিটি খুব দ্রুতই এর জনপ্রিয়তা হারায়।

৫. ফায়ার ফোন

এমাজন এর মালিক জেফ বেজস এমাজন স্মার্টফোন তৈরি করার চেয়ে বেশী সফলতা পেয়েছেন মহাকাশে রকেট পাঠিয়ে! ফোনটিতে অসম্পূর্ণ সফটওয়্যার, বাগ এবং এর উদ্দ্যশ্য (এমাজন এর বিক্রয় হার বৃদ্ধি) এর কারণে এমাজনের ক্ষতি হয় প্রায় ২০০ মিলিওন ডলার এবং এটি এমাজনের ইতিহাসে অতিবাহিত সবচেয়ে খারাপ সময়।

৪. গুগল গ্লাস

২০১২ সালে গুগল গ্লাস পরিধারন করা স্কাইডাইভারদের লাইভ-স্ট্রিম নিয়ে এর উদ্বোধনি অনুষ্ঠান করা হয়। তারা ল্যান্ড করে গুগল এর কনভেনশন সেন্টার এর উপরে। অনুষ্ঠানটি যতটা আকৃষ্ট করেছিলো ততটা আকৃষ্ট করতে পারেনি গ্লাসটি। কারণ সকলের মনেই গোপনীয়তা নিয়ে আশঙ্কা ছিলো। কারণ গ্লাসটি যেকোনো সময়েই তাকিয়ে থাকতে পারে ইউজারের দিকে। ফলে ২০১৫ সালে এর প্রোডাকশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

৩. উইন্ডোজ ফোন

আমরা সকলেই এর ব্যর্থতার গল্প জানি। বছরের পর বছর চেষ্টার পরেও ওএসটি টিকে থাকতে পারেনি। তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ভাগ্যের সাথে সাথে ধ্বংসের পথে যায় নোকিয়া কোম্পানিও। নোকিয়াকে কিনতে ৭.২ বিলিওন ডলার ব্য্যয় করে মাইক্রোসফট। যথেষ্ট অ্যাপের অভাব এর ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। বিল গেটস এই প্রোজেক্টকে তার সবচেয়ে বড় ভুল বলে আখ্যায়িত করেছেন।

২. দিরানোস

ব্লাড টেস্টকে পানির মতো সহজ করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে এবং একসময় এর মার্কেট ভ্যালু হয়ে দাঁড়ায় ৯ বিলিওন ডলার। কিন্তু এটি যে একটা স্ক্যাম বা ধান্দা ছিলো তা খুব শীঘ্রই ফাস হয়ে যায়। এর ব্লাড টেস্ট রেজাল্টগুলো ছিলো এলোমেলো। ফলে ফ্রড হিসেবে আখ্যা পায় কোম্পানিটি।

 

১. স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৭

স্যামসাং নোট ৭ এর রিভিউ ইউনিট যখন রিভিয়ারদের হাতে পৌছায় তারা অবাক হয়ে গিয়েছিলো এর সবকিছু নিয়েই! সম্পূর্ণ ইন্টারনেটেই চলছিলো এর গুণগান যতক্ষণ না পর্যন্ত ফোনটির প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে এবং একই সাথে বিস্ফোরণ ঘটে স্যামসাং এর খ্যাতির। একটি প্লেনে ফোনটির আগুন ধরে যাওয়ায় টিএসএ সকল নোট ৭ প্লেনে বহন করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। স্যামসাং অবশ্য এর ব্যাবহারকারীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং রিপ্লেসমেন্ট জারি করে। ফলে কোনোমতে বেচে যায় কোম্পানিটির খ্যাতি। পরে সফটওয়্যার আপডেট দিয়ে ফোনটিকে বিকল করে দেওয়া হয়।

Sabbir Hasan

প্রযুক্তি নিয়ে অত্যন্ত কৌতূহলী। জানতে এবং জানাতে ভালো লাগে, তাই মাঝে মাঝে টুকিটাকি এই অনভিজ্ঞ হাতের লেখালিখি। পড়ালেখার পাশাপাশি আমি একজন গ্রাফিক ডিজাইনার এবং ফ্রন্ট-এন্ড ওয়েব ডেভেলপার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।