হোয়াটসঅ্যাপ ২০০ কোটিতে

ফেসবুকের মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী ২০০ কোটি সীমানা ছুয়েছে। স্মার্টফোনে বার্তা আদান-প্রদানে অ্যাপ হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপ এর ২০০ কোটি ব্যবহারকারী ছুঁয়ে ফেলাকে মাইলফলক হিসেবেই দেখছেন এর উদ্যোক্তারা। হোয়াটসঅ্যাপের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উইল ক্যাথকার্ট ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বুধবার এ তথ্য জানান। গত ২ বছরের মধ্যে এই ১মবার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য উল্লেখ করল কর্তৃপক্ষ। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য হোয়াটসঅ্যাপের একটি ব্লগপোস্টে প্রকাশ করা হয়েছে-

ফেসবুকের বর্তমান ব্যবহারকারী ২৫০ কোটি। অর্থাৎ, ফেসবুকের চেয়ে মাসিক ব্যবহারকারীর দিক থেকে মাত্র ৫০ কোটি পিছিয়ে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ।

ক্যাথকার্ট বলেছেন, ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল থেকেই হোয়াটসঅ্যাপ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং এনক্রিপটেড মেসেজিং সেবা দিতে কাজ করবে। ২০১৪ সালে ১ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারে হোয়াটসঅ্যাপকে কেনার সময় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ যে প্রতিশ্রতি দিয়েছিল, এটা তারই প্রতিফলন।

ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ফেসবুক পৃথক কোম্পানি হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে এবং প্রাইভেসি ও নিরাপত্তা বিষয়ে দেয়া প্রতিশ্রতিকে সম্মান দেখাবে।

গত বছরে অবশ্য ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজিং সেবাকে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকের মেসেঞ্জারের মতো অন্য সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে অ্যান্টিট্রাস্ট বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ জানান। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) পক্ষ থেকে অবশ্য ফেসবুক কীভাবে অন্য ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিগ্রহণ করেছে, তা খতিয়ে দেখার আগ্রহের কথা বলছে। এ ছাড়াও এফটিসির পক্ষ থেকে পৃথকভাবে একতরফা প্রতিযোগিতাহীন বাজার তৈরির জন্য ফেসবুকের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। ফেসবুকের পক্ষ থেকে নতুনকরে সংযুক্ত করা অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার মনে করছেন, ফেসবুক এনক্রিপশন যুক্ত করায় অপরাধীদের সুরক্ষা দেয়া হবে। তাই তিনি আইন অনুযায়ী অপরাধী শনাক্তে সুযোগ রাখার আহ্বান জানান।

ওয়াল স্ট্রিটকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাথকার্ট অবশ্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সাহায্য করার কথা বলেছেন। তবে তা কিভাবে করা হবে, তা বিস্তারিত বলেননি তিনি। জ্যান কউম ও ব্রায়ান অ্যাক্টন ২০০৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০১৮ সালে কউম হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে দেন। তিনি অভিযোগ করছিলেন, হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুকে নেয়া হচ্ছে এবং হোয়াটসঅ্যাপের এনক্রিপশনের মান দুর্বল করে ফেলা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে কউম বলেন, প্রায় এক দশক আগে ব্রায়ানের সঙ্গে মিলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ যাত্রায় সেরা কিছু মানুষকে সঙ্গে নিয়েছিলেন তারা। এখান থেকে তার সরে যাওয়ার উপযুক্ত সময় এখন। আগের চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপ টিম এখন অনেক শক্তিশালী এবং এটি দারুণ কাজ করে যাবে। তবে তিনি হোয়াটসঅ্যাপের বাইরে থেকে এর জন্য শুভকামনা জানিয়ে যাবেন। ২০১৪ সালে ১ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারে হোয়াটসঅ্যাপকে ফেসবুকের কাছে বিক্রি করেন স্ট্যানফোর্ডের অ্যালুমনাই ব্রায়ান অ্যাক্টন ও ইউক্রেনের অভিবাসী কউম।

হোয়াটসঅ্যাপ তৈরির আগে ইয়াহুতে কাজ করেন ব্রায়ান অ্যাক্টন ও জ্যান কউম। এত দিন হোয়াটসঅ্যাপের হয়ে তথ্য সুরক্ষা ও কাজের স্বাধীনতা ফেসবুকের কাছ থেকে পাচ্ছিলেন তারা। ফেসবুকের কাছে বিক্রি হওয়ার আগে তথ্য সুরক্ষার শর্তও জুড়ে দিয়েছিলেন।

সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ ঘিরে অনেক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আমাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোসের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আমাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোসের মোবাইল ফোনে স্পাইওয়্যার এসেছিল সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে। ২০১৮ সালে সৌদি যুবরাজ সালমানের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পান বেজোস। এরপরই তার মুঠোফোন হ্যাকড হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।