গুগল এর প্রতিযোগি সার্চইঞ্জিন আছে/হবে?

সার্চইঞ্জিন জায়ান্ট, গুগল, প্রতি সেকেন্ডে ৭৫,০০০ সার্চ কোয়েরি হ্যান্ডল করে, সার্চইঞ্জিন মার্কেটে সেরা অবস্থানে দীর্ঘদিন। প্রশ্ন আসতেই পারে, গুগল এর প্রতিযোগি সার্চইঞ্জিন আছে বা ভবিষ্যতে হবে কিনা? আমাদের মতে আগামী ১০ বছরে অন্তত না। তবে বাংলা কোরাতে মুম্বাই মহারাষ্ট্র তে অবস্থানকারী সায়ন্তন সরকার এর ভাষায় জানি একই প্রশ্নের উত্তর

এক কথায় অদূর ভবিষ্যতে এরকম কোন কোম্পানি দেখতে পাচ্ছি না যে সত্যি গুগল –কে সরাতে সক্ষম হবে। আর যদি টিকে থাকার কথা বলেন তখন বলব সেতো এখনও টিকে আছে সমসাময়িক বেশ কয়েকটি সার্চ ইঞ্জিন যেমন- বিং , ইয়াহু , বাইদু কিংবা ডাক ডাক গো ইত্যাদি। কিন্তু পার্থক্য কোথায় জানেন ?

বাজার দখল কার কতটা দেখলে পুরো কথা বলাটার কারণ বুঝতে পারবেন। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান-

একজনের দখলে ৮৭.৫১% প্রায় , আর বাকিরা শুধু নামেই আছে । আর সবচেয়ে বড় কথা গুগলের প্রাথমিক আয়ের উৎস সার্চ ইঞ্জিন থেকে নয়, বরং বিজ্ঞাপন থেকে

READ  মোবাইল বোমাঃ নতুন আতঙ্কের নাম

যেকোনো বড় কোম্পানি উঠে কেন বলুনতো ? এই ক্রম পরিবর্তনশীল বাজারের সাথে সাথে নিজেকে পরিবর্তন করতে না পারায়। গুগল কিন্তু এ বিষয়ে বেশ এগিয়ে। ধীরে ধীরে যে নিজের অ্যালগরিদম আরও নিখুঁততর করে যাচ্ছে, শুধু তাই নয়, বরং নিজেদের বানিজ্যিক পন্য বাড়িয়ে চলছে প্রতিনিয়ত।

ইন্টা‌রনেটে আপনি জেনে -না জেনে গুগল সাহায্য সর্ব‌দা নিচ্ছেন। তারপরো গুগল কিন্তু ইন্টারনেটের জগতেই থেমে নেই, হার্ডওয়্যার জগতেও নেমেছে, যেমন – স্মার্ট ফোন(পিক্সেল), ল্যাপটপ(ক্রোমবুক) গুগল বানিয়ে ফেলেছে। অপারেটিং সিস্টেম যেখানে মাইক্রোসফট -এর একাধিপত্য চলে সেখানেও গুগল ‘অ্যান্ড্রয়েড’ নিয়ে এসেছে মেলা আগেই।

এতো গেল কম্পিউটার, মোবাইল দুনিয়া । আরও খবর দিই, গুগল চালক-হীন গাড়ি পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এরকম কত কি যে করছে তার তালিকা শেষ করা সম্ভব না।

এছাড়া, ইউজারদের গতিবিধি সর্বদা গুগলের নজরে আছে। তাই হয়ত কয়েক বছর পরে একথাও বলা ভুল হবে না যে, আপনি নিজেকে যতটা চিনবেন, তার থেকেও গুগল আপনাকে ভাল করে চিনবে। কারন স্বাস্থ্যতথ্য থেকে লোকেশান, বিহেভিয়ার কিংবা অ্যাপস, ভিডিও সার্চ কিংবা গুগল সার্চ একটা মানুষকে ট্র্যাক করতে আর কি চাই?

READ  গুগল ক্লিপস ক্যামেরা বাজারে আসছে ফেব্রুয়ারিতে

এরকম একটি শক্তিশালী কোম্পানি যে সবে তার ‘যৌবন’ -এ রয়েছে তার প্রতিযোগীদের ভবিষ্যৎ কখনো দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারে না। আর সত্যি যদি গুগল মনে করে যে একটি কোম্পানি তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে, তখন গুগল তাকে কিনে নেবে বিন্দুমাত্র না ভেবে, সে ক্ষমতা ও অভ্যেস আছে গুগলের।

আর একটি কথা বলে শেষ করব, তাতেই এখনি গুগলের আধিপত্য বুঝতে পারবেন।

আপনি কিন্তু এখন আর ‘Search’ করেন না, ‘Google’ করেন।

উল্লেখ্যঃ সায়ান্ত সরকার B.Tech করেছেন ইলেক্ট্রনিক্স এবং কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভারতীয় প্রকৌশল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে

Leave a Reply

Your email address will not be published.