করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ ম্যালওয়্যার

করোনাভাইরাস এর মতই ইন্টারনেটে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ম্যালওয়্যার এর সংখ্যা। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির তথ্য ও আপডেট জানার জন্য মানুষের ইন্টারনেট ব্যাবহার বেড়েছে। এটাকে কাজে লাগিয়েই একদল হ্যাকার ব্যাবহারকারীর ডাটা চুরির চেষ্টা করছে।

বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করণাভাইরাস। প্রায় ২০০ টি দেশে সংক্রমন ঘটেছে এই ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯। এই রোগটির প্রতিরোধক হিসেবে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা এখন পর্যন্ত সর্বোত্তম উপায়। তাই বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থাসহ সব রাষ্ট্রই তাদের নাগরিকদের ঘরে অবস্থান করার পরামর্শ দিচ্ছে।

ঘরে অবস্থানকালে মানুষ তাদের অবসর সময় কাটাতে ইন্টারনেটে বেশি সময় ব্যায় করছে। ইন্টারনেট থেকে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করছে। কিন্তু অনেকেই কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য নিতে গিয়ে ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের ব্যাবহৃত ডিভাইস থেকে চুরি হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান তথ্য।

সাধারণত হ্যাকাররা করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ নামে ম্যালওয়্যার সফটয়্যার তৈরি করছে এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। যা মানুষকে মহামারী পরিস্থিতির আপডেট জানাবে বলে বলা হয়। নাম দেখে বোঝার উপায় থাকে না ব্যাবহারকারীর। ফলে সহজেই তাদের ডিভাইসে ঢুকে পড়ছে ম্যালওয়্যারগুলো।

এই ম্যালওয়্যারগুলো ব্যাবহারকারীর শুধুমাত্র ডাটাই চুরি করে না, ডিভাইসের মাস্টার বুটকেও রি রাইট করে ফেলে। ইন্টারনেট সুরক্ষা গবেষকরা এরকম কমপক্ষে ৫ টি ম্যালওয়্যার স্ট্রেন সনাক্ত করেছেন। যেসব ম্যালওয়্যার উইন্ডোজ কম্পিউটার বা ল্যাপটপগুলকে আক্রান্ত করে।

আইবি গবেষকদের মতে, এর মধ্যে চারটি ম্যালওয়্যার জটিল। তবে দুটি ম্যালওয়্যার রয়েছে যেগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। এগুলো ডিভাইসের মাস্টার বুট রি রাইট করতে সক্ষম।

প্রথম ম্যালওয়্যারটি ম্যালওয়্যার হান্টার গ্রুপ আবিষ্কার করে। এ বিষয়ে সাপ্তাহিক সনিক ওয়াল প্রতিবেদনে বিষদভাবে বর্ণনা করা হয়। এই ম্যালওয়্যারটি COVID-19.exe ফাইল হিসাবে ব্যাবহারকারীর ডিভাইসে প্রবেশ করে। দুটি পর্যায়ে ডিভাইসের ক্ষতি করে এটি।

কোভিড-১৯ বিষয়ক সফটওয়্যার মনে করে ম্যালওয়্যারটি রান করার পর একটি উইন্ডো আসে। ব্যাবহারকারী উইন্ডোটি বন্ধ করতে চাইলেও কোনভাবে এটিকে বন্ধ করতে পারে না। কেননা ইতিমধ্যে উইন্ডোজ টাস্ক ম্যানেজার কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে ম্যালওয়্যার এর আক্রমনে।

ব্যাবহারকারীরা যতক্ষন উইন্ডোটি বন্ধ করার চেষ্টা করেন ততক্ষনে ম্যালওয়্যারটি এমবিআর এর ক্ষতি শুরু করে দেয়। কম্পিউটার বা ল্যাপটপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় চালু হয়। এসময় ব্যাবহারকারী তার ডিভাইসটি আর ব্যাবহার করতে পারে না।

এক্ষেত্রে ডিভাইসটি একটি বিশেষ সফটয়্যার এর সাহায্যে পুনরোদ্ধার করা সম্ভব হয়।

দ্বিতীয় ম্যালওয়্যারটিও ডিভাইসের মাস্টার বুট রি রাইট করে। এই ম্যালওয়্যারটি “CoronaVirus” নামে ডিভাইসে প্রবেশ করে। করোনাভাইরাস নামে থাকলেও এটি থেকে করোনাভাইরাস এর কোন তথ্য পাওয়া যায় না। এটি  ব্যাবহারকারীর ডিভাইস থেকে তার বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট এর পাসওয়ার্ড চুরি করে। পরবর্তীতে সেগুলো দিয়ে ব্যাবহারকারীকে জিম্মি করে টাকা আদায় করা হয়।

এটি ব্যাবহারকারীর গোপনীয় তথ্য চুরির পাশাপাশি ডিভাইসটিকেও অকেজো করে দেয়। এতে করে ব্যাবহারকারী তার তথ্য বাচাতে চাইলেও ব্যার্থ হয়।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ইন্টরনেটে মানুষের বিচরন বাড়ায় সাইবার সিকিউরিটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। হ্যাকাররা করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ শিরোনামে ব্যাবহারকারীদের মেইল করছে। মেইল ক্লিক এর মাধ্যমে ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়ছে ম্যালওয়্যার। তাই এই সময় যেকোন সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার পূর্বে ভালো করে যাচাই করে নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।