অনলাইনে ফাইল রাখার ৭টি সেরা ক্লাউড স্টোরেজ

নিরাপত্তার সাথে দ্রুত তথ্য আদান প্রফান এর অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ক্লাউড স্টোরেজ। ক্লাউড স্টোরেজ এর মাধ্যমে শুধু তথ্য আদান প্রদানই না, আপনি আপনার গুরুত্বপুর্ন তথ্যগুলো সংরক্ষনও করতে পারবেন নির্ভাবনায়। কোন রকমের হার্ড ড্রাইভ বা ডিস্ক রাইটিং চিন্তাভাবনা করতে হবে না আপনাকে।

ক্লাউড স্টোরেজ হচ্ছে মূলত হার্ড ড্রাইভ বা ডিস্ক এর একটি বিকল্প মাধ্যম। ডাটা সংরক্ষন বা আদান প্রদানের অনলাইন মাধ্যম হচ্ছে ক্লাউড স্টোরেজ। এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে শুধুমাত্র ইন্টারনেট সংযোগের সাহায্যে সংরক্ষিত তথ্য দেখা যাবে। প্রয়োজন হলে তথ্য প্রেরণও করা যাবে।

অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা গ্রাহকদের অনলাইনে তথ্য সংরক্ষন এর জন্য ক্লাউড স্টোরেজ এর ব্যাবস্থা করে থাকে। প্রতিষ্ঠান ভেদে ১ জিবি থেকে শুরু করে ১ টিবি পর্যন্ত ক্লাউড স্টোরেজ ফ্রি দিয়ে থাকে গ্রাহকদের। তবে বেশি পরিমান স্টোরেজ প্রয়োজন হলে গ্রাহকদের মূল্য পরিশোধের বিনিময়ে স্টোরেজ কিনতে হবে।

এই লেখার মাধ্যমে সেরা কয়েকটি ক্লাউড স্টোরেজ সম্পর্কে জানাবো।

আইড্রাইভঃ

এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি ক্লাউড স্টোরেজ। বিশেষ করে ছবি বা ভিডিও সংরক্ষনের জন্য আইড্রাইভ সেরা। ৫ জিবি পর্যন্ত ফ্রি স্টোরেজ পাওয়া যায় এখানে। যা ছবি বা ভিডিও আদান প্রদান এর জন্য যথেষ্ট। তবে অনেক ছবি বা বড় মাপের ভিডিও সংরক্ষন বা প্রেরন করতে হলে অবশ্যই তাদের থেকে স্টোরেজ কিনতে হবে।

আইড্রাইভে ২ টিবি স্টোরেজ এর জন্য প্রায় ৪৫০০ টাকা এবং ৫ টিবি স্টোরেজ এর জন্য প্রায় ৬৫০০ টাকা প্রতিমাসে ফি দিতে হবে।

অটো ক্যামেরা অপশন এর মাধ্যমে একজন ফটোগ্রাফার তার ব্যাবহৃত কয়েকটি ডিভাইস এর ছবি বা ভিডিও আইড্রাইভের একটি অ্যাকাউন্টে আপলোড করতে পারবেন। এটি সরাসরি ক্যামেরা থেকে ছবি বা ভিডিও তোলার পরপরই আপলোড হয়ে যাবে।

পি ক্লাউডঃ

পি ক্লাউড অন্যান্য ক্লাউড স্টোরেজ এর মত গতানুগতিক নয়। পি ক্লাউড এ প্রতি মাসে মাসে ফি প্রদানের পরিবর্তে আজীবনের জন্য স্টোরেজ কিনে ফেলা যায়। অনলাইনে খুব কম ক্লাউড স্টোরেজ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আছে যারা একবারে চার্জ কেটে নেয়।

ম্যাকওএস এ লাইটরুম সফটওয়্যার এ একটি অফিসিয়াল প্লাগ ইন পাওয়া যায়। এর সাহায্যে সরাসরি লাইটরুম থেকে পি ক্লাউড এ ছবি আপলোড করা সম্ভব হয়। এছাড়া পি ক্লাউড এর ওয়েব ও মোবাইল সংস্করনে ছবির মূল ফাইলের থাম্বনেইল দেখা সম্ভব হয়।

১৫,০০০ টাকা দিয়ে ৫০০ জিবি এবং ৩০,০০০ টাকা দিয়ে ২ টিবি স্টোরেজ একেবারের জন্য কিনতে পারবেন গ্রাহকগন।

অ্যাডোব ক্রিয়েটিভ ক্লাউডঃ

ফটোগ্রাফার দের মনের মত একটি ক্লাউড স্টোরেজ হলো অ্যাডোব ক্রিয়েটিভ ক্লাউড। ছবি বা ভিডিও এর সাথে সম্পর্কযুক্ত ইন্টারফেস রয়েছে অ্যাডোব ক্রিয়েটিভ ক্লাউডে। ছবি সংরক্ষনের জন্য এতে রয়েছে আকর্ষণীয় গ্যালারী। একটি গ্রুপ লাইব্রেরির শেয়ার্ড ফোল্ডার এর সাহায্যে কয়েকজন ব্যাবহারকারী তাদের ছবির আদান প্রদান সহজেই করতে পারবে। এছাড়া যখন কোন ছবির সম্পাদনা প্রয়োজন হয় তখন দ্রুততার সাথে ছবি সম্পাদন করা যায়।

লাইটরুম অ অন্যান্য সফটওয়্যার এর সাথে এটি লিংক করা হয়েছে। জিমেইল এর সাথেও এর লিংক রয়েছে। এর ফলে সহজেই ছবির আপলোড সম্ভব হয়।

এখানে ১ টিবি স্টোরেজের জন্য প্রতিবছর প্রায় ১১,০০০ টাকা ফি দিতে হয়। ছোট পরিমাপে ব্যাবহারের জন্য প্রতি মাসে ৮৫০ টাকায় ২০ জিবি এবং প্রতি মাসে ১৭০০ টাকায় ১ টিবি পর্যন্ত স্টরেজ পাওয়া যাবে এখানে।

ড্রপবক্সঃ

অনালাইনে ফাইল সংরক্ষনের জন্য ড্রপবক্স একটি ভাল সমাধান হতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস থেকে অ্যাপ এর মাধ্যমে সহজেই ড্রপবক্স এ প্রবেশ করা যায়। এছাড়া রিমোট ডেক্সটপ ব্যাবহারের সুবিধা রয়েছে এটিতে। ড্রপবক্সে ২ জিবি পর্যন্ত ফ্রি স্টোরেজ পাওয়া যায়। ড্রপবক্সে বন্ধু সংযুক্ত করে আরও ১৬ জিবি পর্যন্ত ফ্রি স্টোরেজ ব্যাবহারের সুযোগ রয়েছে।

প্রতিমাসে ১,১০০ অথবা বছরে ১১,০০০ টাকায় ২ টিবি স্টোরেজ দিচ্ছে ড্রপবক্স।

গুগল ড্রাইভঃ

অন্যান্য ক্লাউড স্টোরেজ এর মতই গুগল ড্রাইভ ক্লাউড স্টোরেজ গ্রাহকদের অনলাইনে ফাইল সংরক্ষন অ আদান প্রদানের সুযোগ দিচ্ছে। গুগল ড্রাইভ একটি জনপ্রিয় অনলাইন ক্লাউড স্টোরেজ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। গুগল ড্রাইভ এ অন্যান্য ফাইল সংরক্ষনের পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও সংরক্ষন করা যায়। কিন্তু ছবি ও ভিডিও সংরক্ষনের জন্য বিশেষভাবে মডিফাইড অন্যান্য ক্লাউড স্টোরেজ সেবার মত না গুগল ড্রাইভ। এছাড়া জিমেইল এর মত গুগলের অন্যান্য সেবাও গুগল ড্রাইভ স্টোরেজ ব্যাবহার করে।

গুগল ড্রাইভে ১০০ জিবির জন্য ১৭০ টাকা, ২০০ জিবির জন্য ২৬০ টাকা, ২ টিবির জন্য ৮৫০ টাকা, ১০ টিবির জন্য ৮৫০০ টাকা, ২০ টিবির জন্য ১৭০০০ টাকা এবং ৩০ টিবির জন্য ২৫৫০০ টাকা প্রতিমাসে ফি প্রদান করতে হবে।

মাইক্রোসফট ওয়ান ড্রাইভঃ

এটি মাইক্রোসফট এর একটি অনলাইন স্টোরেজ সেবা। এর সুযোগ সুবিধা গুগল ড্রাইভের মতই। উইন্ডোজ ১০ এর ইন্টারফেস এর সাথে ওয়ান ড্রাইভের ইন্টারফেস মিল থাকায় এটি ব্যাবহার করা সহজ। তবে ওয়ান ড্রাইভ ছবি বা ভিডিও এর তুলনায় সাধারন ফাইল সংরক্ষন ও আদান প্রদানের জন্যই জনপ্রিয়। ওয়ান ড্রাইভে ৫ জিবি পর্যন্ত ফ্রি স্টোরেজ ব্যাবহার করা যায়।

প্রতিমাসে ১৭০ টাকায় ১০০ জিবি এবং ৬০০ টাকায় ১ টিবি স্টোরেজ এর সাথে অফিস ৩৬৫ ব্যাবহার করা যাবে ওয়ানড্রাইভে।

ফ্লিকারঃ

অনলাইনে ছবি বা ভিডিও প্রদর্শনের জন্য ফ্লিকার অত্যন্ত কার্যকরী একটি ক্লাইড স্টোরেজ সেবা। এখানে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষনের পাশাপাশি প্রদর্শন করা যাবে। এসব ছবি ও ভিডিও তে মানুষ তাদের মতামত জানাতে পারবে। ফলে ফটোগ্রাফার তার ছবি সম্পর্কে জানতে পারবে। ড্রপবক্সে জেপিজি, জিফ এবং পিএনজি ছবি আপলোড করা যায়। ১০০০ ছবি ও ভিডিও ফ্রি তে আপলোড করা যায় ফ্লিকারে।

প্রতিমাসে ৬০০ টাকা অথবা বছরে ৫১০০ টাকায় আনলিমিটেড ছবি ও ভিডিও আপলোডের সুযোগ পাবে ব্যাবহারকারীরা।

প্রতিটি ক্লাউড স্টোরেজের ধরন ভিন্ন। একটি ক্লাউড স্টোরেজ সেবার সাথে অন্যটির তুলনা করার সুযোগ কম। তাই কাজের ধরন ও সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোন ক্লাউড স্টোরেজই ব্যাবহার করা যেতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।