ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি, অস্বীকার শাওমির

ব্যবহারকারীদের গোপন তথ্য চুরি করে তা চিনে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে চিনা প্রযুক্তি জায়ান্ট শাওমি এর বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারকৃত ফোনগুলো ট্র্যাক করে এসব তথ্য চুরি করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

ইন্টারনেট সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থা শাওমির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছে। অভিযোগে বলা হয় ব্যবহারকারীদের গোপন তথ্য চিনের আলিবাবার সার্ভারে পাঠাচ্ছে শাওমি। এ সম্পর্কে ব্যবহারকারী জানছেন না কিছুই।

ইন্টারনেট সুরক্ষা গবেষক সার্লিগ জানান তার রেডমি নোট ৮ ফোনের ব্রাউজিং তথ্য আলিবাবার সার্ভারে পাঠানো হয়েছে যার পেছনে কাজ করেছে শাওমি। ফোর্বস তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরে। এরপর থেকে ব্যক্তিগত জীবন এবং তথ্য নিয়ে চিন্তিত সার্লিগ।

ব্রাউজিং ডেটা ছাড়াও স্মার্টফোনের কোন কোন ফোল্ডার খুলেছেন করেছেন সেই তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে লক্ষ্য করেন সার্লিগ। এমনকি ফোনে যেসব স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে তার তথ্য চুরি করার অভিযোগও করেন তিনি।

শুধুমাত্র ডিফল্ট ওয়েব ব্রাউজার থেকে ডেটা সংগ্রহ করা হচ্ছে না। ফোন ইনকগনিটো মোডে থাকলেও ফোন থেকে তথ্য চুরি করা হচ্ছে বলে জানান সার্লিগ।

গুগল প্লে স্টোরে থাকা শাওমির মি ব্রাউজার প্রো এবং মিন্ট ব্রাউজার একইভাবে ডেটা সংগ্রহ করছে। গুগল প্লে পরিসংখ্যান অনুসারে এই দুইটি ব্রাউজার এর ডাউনলোড সংখ্যা ১.৫ কোটিরও বেশি জানান অন্য একজন ইন্টারনেট সুরক্ষা গবেষক অ্যান্ড্রু টিয়ের্নি।

রেডমি নোট ৮ ছাড়াও মি টেন, রেডমি কে ২০, মি মিক্স ৩ মডেলগুলোতেও একই সমস্যা থাকতে পারে। রেডমি নোট ৮ এর মতই কোডিং থাকায় এই মডেলগুলোর ব্রাউজারও সার্লিগের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে।

এই অভিযোগ এর প্রেক্ষিতে শাওমি এক টুইট বার্তায় জানায় যেসব ব্রাউজিং ডেটা সংগ্রহ করা হয় তাতে গ্রাহকের পরিচয় গোপন থাকে। সংগ্রহকৃত তথ্য অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে শেয়ার করা হয় না বলে জানায় শাওমি।

শাওমি জানিয়েছে ব্যবহারকারীর তথ্যের গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা শাওমির কাছে অগ্রাধিকারপ্রাপ্য। বিশ্বে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন এবং বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরন করা হয়।

শাওমির বিরুদ্ধে আনিত এই অভিযোগের গবেষনা চলছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীর রুচিবোধ বুঝতে প্রযুক্তি পন্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ডিভাইস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এতে করে অনেক সময় ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার গোপনীয় তথ্য চলে যায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে। তাই প্রযুক্তি পন্য ব্যবহারে আমাদের সতর্ক হতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।