ক্লাউড ডাটা সংরক্ষণ’র ৮টি চমৎকার টিপস

আপনাকে এখন আর হাতে করে ইউএসবি ড্রাইভ কিংবা পোর্টেবল হার্ড ডিস্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হবেনা। কারণ আপনার কাছে আছে ‘ক্লাউড স্টোরেজ’ নামক ডাটা সংরক্ষণের এক বিশেষ জায়গা। গুগল ড্রাইভ থেকে শুরু করে ড্রপ বক্স পর্যন্ত সবগুলো ক্লাউড স্টোরেজই আপনার ফাইলকে অনলাইনে সংরক্ষণ করে। আপনি যখন খুশি যেখানে খুশি ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে আপনার ডাটাগুলো এই ক্লাউড স্টোরেজের মাধ্যমে নামিয়ে নিতে পারেন।

বিষয়টি আপনার কাছে আকর্ষণীয় মনে হলেও, অনলাইন ভিত্তিক ক্লাউড স্টোরেজে আপনার মূল্যবান ডাটা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি এসে যায়। কারণ আপনি জানেন না যে, আপনার এই মূল্যবান ডাটাগুলো অন্য কারো ব্যবহার করার সুযোগ আছে কিনা।

আমরা চাইলেই আমাদের এই মূল্যবান ডাটাগুলো বহিরাগতদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। নিম্নে ক্লাউড ডাটা সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৮টি টিপস দেওয়া হলঃ

 

১. ডাটা ব্যাকআপ রাখাঃ

ক্লাউডে ডাটা সংরক্ষণ করতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন ডাটা ব্যাকআপ রাখা। এর জন্য যেকোনো ডাটাকে ই-কপি বা ইলেক্ট্রনিক কপি করে রাখা যায়। এতে করে যদি প্রয়োজনীয় ডাটাটি হারিয়ে যায় বা মুছে যায় তাহলে এই ইলেক্ট্রনিক কপি হতে প্রিন্ট করে নামিয়ে ব্যবহার করা যায়। আপনি যদি ক্লাউড স্টোরেজ ডাটা সংরক্ষণ করেও থাকেন, তবুও আপনার উচিত ইউএসবি ড্রাইভ কিংবা পোর্টেবল হার্ডডিস্কের মতো কোন ডিভাইসে ডাটাগুলো সংরক্ষণ করে রাখা। ফলে ইন্টারনেট কানেকশন না থাকলেও আপনি এই ডাটাগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

 

২. সংবেদনশীল ডাটাগুলো সংরক্ষণ না করাঃ  

ইন্টারনেটের জগতে গোপনীয়তা রক্ষা করা আসলেই কঠিন। তাই আমি কখনোই বলবোনা যে আপনার অতি মূল্যবান ও গোপনীয় ডাটাগুলো ক্লাউডে সংরক্ষণ করা উচিত। কারণ আজকাল অন্যের পরিচয় (আইডেন্টিটি) চুরি করে নিজের নামে ব্যবহার করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডাটা চুরির ঘটনা অহরহ ঘটতে দেখা যায়। আর আমরা যেই গুরুত্বপূর্ণ ডাটাগুলো রোজ ব্যবহার করি তা অবশ্যই ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

যে সকল ফাইল গুলো মাঝে মাঝে ব্যবহৃত হয় শুধুমাত্র ওই ফাইলগুলোই ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা উচিত। বিভিন্ন অনলাইন একাউন্টের পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগতভাবে শনাক্তকরণযোগ্য তথ্য (পারসোনাললি আইডেন্টিফিকেবল ইনফরমেশন) যেমন- ক্রেডিট কার্ডের নাম্বার, জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার, বাসার ঠিকানা প্রভৃতি তথ্য ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা উচিত নয়।

 

৩. ডাটা এনক্রিপ্ট করা ক্লাউড স্টোরেজে ব্যবহারঃ

ডাটা সংরক্ষণের সবচেয়ে ভাল উপায় হল এমন কোন ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করা যা কোন ডাটাকে সহজে এনক্রিপ্ট করে সংরক্ষন করতে পারে। এটি একটি বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা।

এনক্রিপ্ট করা মানে হল কোন ডাটাকে কোড বা সাইফারে রুপান্তর করা যাতে তা অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে। যদি অন্য কেউ ফাইলটি ব্যবহার করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই ফাইলটি ডিক্রিপ্ট করে নিতে হবে।

যদি কারো ক্রিপ্টোগ্রাফি সম্পর্কে কোন ধারণাই না থাকে তাহলে সে ডাটাটি ডিক্রিপ্ট করতে পারবেনা। এতে করে আপনার ডাটাটি ক্লাউড স্টোরেজের সেবা প্রদানকারী (সার্ভিস প্রোভাইডার) কিংবা পরিচালকও (অ্যাডমিনিস্ট্রেটর) ব্যবহার করতে পারবেনা।

ক্লাউড স্টোরেজগুলোই যদি ডাটা আপলোডের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাটাকে এনক্রিপ্ট  করে নেয়, আবার ডাউনলোডের সময় ডাটাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিক্রিপ্ট করে নেয় তাহলে সেই ব্যবস্থাটি হবে সর্বোত্তম। এ কাজটি করা যায় অ্যাডভান্সড এনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ড (এইএস) এর মাধ্যমে। তবে ডাটা এনক্রিপ্ট ও ডিক্রিপ্ট করতে সময় একটু বেশি লাগলেও আপনার ব্যক্তিগত ডাটার গোপনীয়তা রক্ষায় এর জুরি নেই।

 

৪. ক্লাউড  সংরক্ষণের পূর্বে ডাটা এনক্রিপ্ট করাঃ

যদি আপনি এমন কোন ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করেন যা স্বয়ংক্রিয় ভাবে ডাটা এনক্রিপ্ট করে না, তাহলে ক্লাউড স্টোরেজে ডাটা সংরক্ষণের পূর্বে তা নিজে থেকেই এনক্রিপ্ট করে নিন। এর জন্য আপনাকে একটি ক্লাউড-প্রোটেকশন এপ ব্যবহার করতে হবে। ক্লাউড স্টোরেজে ডাটা সংরক্ষণের পূর্বে এই এপটি আপনার ফাইলে পাসওয়ার্ড ও সাধারণ সিক্রেট কী যোগ করে দিবে।

তবে যদি আপনি এমন কোন ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করার চিন্তা করেন যা স্বয়ংক্রিয় ভাবে ডাটা এনক্রিপ্ট করতে পারে, সেক্ষেত্রেও আপনি ডাটা সংরক্ষণের পূর্বে নিজে থেকে এনক্রিপ্ট করে নিতে পারেন। কিছু বাড়তি নিশ্চয়তার জন্য।

 

৫. ক্লাউড স্টোরেজ সেবার নীতিমালাগুলো জানাঃ

ডাটা সংরক্ষণ ছাড়াও ক্লাউড স্টোরেজে আপনি আপনার পছন্দের ছবি বা ফাইল অন্যের সাথে আদান-প্রদান (শেয়ার) করতে পারবেন। বিষয়টি আকর্ষণীয় মনে হলেও এর কিছু খারাপ দিকও রয়েছে।

ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারের শর্তাদিগুলো আমরা আগে থেকে পড়িনা বলে অনেক বিষয় জানতে পারিনা। যেমন- ২০১১ সালে ‘টুইটপিক’ নামক ক্লাউড স্টোরেজটি তাদের ‘সেবার নীতিমালা’ (টার্মস অব সার্ভিস) –তে উল্লেখ করে যে তারা চাইলে তাদের ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারকারী যে কারো আপলোড করা ছবি ইচ্ছামতো অন্যত্র ব্যবহার করতে পারবে। অনেকেই এ বিষয়টি না জেনে ক্লাউড স্টোরেজটিতে ছবি আপলোড করে। পরে অবশ্য ‘টুইটপিক’ এ ব্যাপারে ক্ষমা চেয়ে নেয় এবং তার সকল ব্যবহারকারীকে এ বিষয়ে অবগত করে দেয়।

অনেক উন্নতমানের ক্লাউড স্টোরেজ না হলেও টুইটপিকের এই ঘটনা থেকে আমরা এটা বুঝতে পারি যে, কোন ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করার পূর্বে অবশ্যই তাদের ‘সেবার নীতিমালা’ (টার্মস অব সার্ভিস)গুলো পড়ে নেয়া উচিত। আর তাদের ব্যাপারে কোন খারাপ মন্তব্য আছে কিনা তা অবশ্যই অনলাইনে দেখে নেয়া উচিত।

 

৬. জটিল পাসওয়ার্ড বা ২ ধাপ যাছাই পদ্ধতি ব্যবহারঃ

প্রাথমিক প্রতিরক্ষা কবজ হিসেবে আপনাকে এমন একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে যা কোন বড় মাপের হ্যাকারও হ্যাক করতে না পারে। একটি ভালমানের পাসওয়ার্ড তৈরির জন্য ইন্টারনেটে অনেক ধরণের টিপস পাওয়া যায়। জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি পাসওয়ার্ড নিয়মিত বদলের চেষ্টা করুণ। ডাটা সংরক্ষণে যে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন তা অন্য কোন ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। আর চেষ্টা করুণ প্রতিবার কোন নতুন ধরণের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার।

আর আপনার ক্লাউড স্টোরেজটি যদি সুযোগ দেয় তাহলে আপনি চাইলে ২ ধাপের ভেরিফিকেশন ব্যবহার করতে পারেন। এটি অধিক নিরাপত্তামূলক। হয়। গুগল একাউন্টে ২ ধাপের ভেরিফিকেশন চালু করা যায়। ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করার জন্য গুগল ড্রাইভ ব্যবহারকারীদেরকে প্রথমে গুগল একাউন্টে ঢুকতে হয়। গুগল একাউন্ট থেকে ক্লাউড স্টোরেজে ঢোকার সময় মোবাইলে ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হয়। যাতে আপনার মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে শুধুমাত্র আপনিই আপনার ক্লাউড স্টোরেজে প্রবেশ করতে পারেন।

 

৭. অনলাইন ব্যবহারে সতর্কতাঃ

আপনার ক্লাউড ডাটার নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভর করে আপনি অনলাইনে কি ধরণের কাজ করেন তার উপর। যখন আপনি পাবলিক কম্পিউটার ব্যবহার করতে যাবেন তখন আপনার ক্লাউড একাউন্টের পাসওয়ার্ড কখনোই সংরক্ষণ (সেভ) করে রাখা উচিত নয়। আর প্রতিবার অবশ্যই একাউন্ট ব্যবহারের পর তা থেকে বেরিয়ে আসা (লগ আউট) উচিত। পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখলে কিংবা একাউন্টে লগ ইন করে রাখলে অন্য কেউ সহজেই আপনার ডাটা ব্যবহার করতে পারে।

আপনি কি ক্লাউড একাউন্টে প্রবেশের জন্য পাবলিক প্লেসের খোলা ও অসুরক্ষিত ওয়াইফাই ব্যবহার করেন? তাহলে জেনে রাখুন এ ওয়াইফাই কানেকশন গুলো সুরক্ষিত নয়। ফলে উক্ত ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের মধ্যে অবস্থানকারী যেকোনো হ্যাকার জানতে পারবে আপনি আপনার একাউন্টে কি কি কাজ করছেন। এমনকি আপনার ব্যক্তিগত তথ্যও জানতে পারবে !!

 

৮. অ্যান্টি-ভাইরাস ও অ্যান্টি-স্পাই ব্যবহার করাঃ

আপনি হয়তো একটি সুরক্ষিত ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহার করছেন যা সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য; কিন্তু এমনও হতে পারে আপনার ব্যবহৃত কম্পিউটার সিস্টেমেই কোন সমস্যা আছে। যেমন- যদি কম্পিউটারে বাগ ও ভাইরাস থাকে তাহলে ওই কম্পিউটারের মাধ্যমে ক্লাউড একাউন্ট ব্যবহার করলে হ্যাকার আপনার একাউন্ট হ্যাক করার সুযোগ পায়। জেমন- ‘কী-লগার ট্রজান’ নামক ম্যালিশাস সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে কোন হ্যাকার জানতে পারে আপনি আপনার কীবোর্ডে কোন কোন বাটন ব্যবহার করছেন। তাই আপনি যদি উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না নেন তবে হ্যাকার সহজে আপনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড হ্যাক করতে পারবে।

আপনার মতামত ...