ক্লাউড স্টোরেজ: মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভ

ক্লাউড স্টোরেজ সুবিধাগুলো বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত। ক্লাউড স্টোরেজ দ্বারা আপনি যেকোনো ফাইলকে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন এবং যখন খুশি, যেখানে খুশি ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য আপনার প্রয়োজন শুধুমাত্র একটি ইন্টারনেট কানেকশন। আজকে আলোচনা হবে মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভ ক্লাউড স্টোরেজ হিসেবে কেমন?

মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভ

মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভ হল মাইক্রোসফটের নিজস্ব ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস। গুগল ড্রাইভ যেমন শুধু গুগলের সাথে সম্পৃক্ত,তেমনি মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভও শুধুমাত্র মাইক্রোসফট ভিত্তিক সেবাগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করে। তাই যারা মাইক্রোসফট ভিত্তিক সেবা গ্রহণে নির্ভরশীল তাদের জন্য মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভ হল সবচেয়ে ভাল অপশন।

ব্যবহারিক সুবিধাঃ

উইন্ডোজ-১০ এ মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভ ব্যবহার করা সবচেয়ে সুবিধাজনক। কারণ উইন্ডোজ-১০ এ মাইক্রোসফটের সব ধরণের সর্বাধুনিক সফটওয়্যারগুলো পূর্বেই ইন্সটল করা থাকে।

আপনি যদি উইন্ডোজ-১০ ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য ইতোমধ্যে একটি ওয়ানড্রাইভ একাউন্ট খোলা আছে। আপনি যদি উইন্ডোজ-১০ ব্যবহার না করেন তাহলে আপনাকে একটি ওয়ানড্রাইভ একাউন্ট খুলে নিতে হবে।

গুগল ড্রাইভের মতো মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভও প্রায় সব ধরণের কাজ করতে সক্ষম। তবে গুগল ড্রাইভের তুলনায় মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভ ব্যবহার কম সুবিধাজনক। বিশেষ করে ব্রাউজার হিসেবে।

মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভ ব্যবহার করে অনেক ধরণের সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন-সংরক্ষিত সবগুলো ফাইল একত্রে না নামিয়ে যেকোনো একটি ফাইল নিজের ইচ্ছা মতো যখন খুশি নামানো যায়। বাকি ফাইলগুলো ড্রাইভেই সংরক্ষিত থাকে।

 

সংরক্ষণস্থলঃ

বর্তমানে ওয়ানড্রাইভ অ্যাকাউন্ট খুললে ওয়ানড্রাইভে আপনি পাবেন মাত্র ৫ জিবি খালি জায়গা। যেখানে আপনি আপনার পছন্দের ফাইলটি সংরক্ষণ করতে পারেন।

আপনি চাইলে এ জায়গা বৃদ্ধি করে ১৫ জিবি পর্যন্ত করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে আপনার অন্যান্য বন্ধুদের ওয়ানড্রাইভ ব্যবহারের অনুরোধ জানাতে হবে। যদি তারা ওয়ানড্রাইভ ব্যবহার শুরু করে তবে প্রত্যেকের জন্য আপনি .৫জিবি করে ফাঁকা জায়গা পাবেন।

এছাড়া জায়গা বৃদ্ধির জন্য ওয়ানড্রাইভ কিছু প্রিমিয়াম পরিকল্পনারও ব্যবস্থা করেছে। এর প্রিমিয়াম পরিকল্পনাটি একটু ভিন্ন ধরণের। এর প্রিমিয়াম পরিকল্পনায় সাবস্ক্রাইব করে ৫০ জিবি ফাঁকা জায়গা পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি মাইক্রোসফট অফিস ৩৬৫ স্যুট ব্যবহনের।করা যায়। আর আপনি যদি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট, মাইক্রোসফট এক্সেল নিয়মিত ব্যবহার করে থাকেন তাহলে এই সাবস্ক্রিপশনটি আপনার জন্য অবশ্যই উপকারী।

 

পারস্পরিক সমন্বয়ঃ

পূর্বেই বলা হয়েছে যে ওয়ানড্রাইভ মাইক্রোসফট উইন্ডোজের সাথে সমন্বিত হয়ে কাজ করে। তাই যারা মাইক্রোসফট উইন্ডোজ প্রোগ্রামগুলো নিয়মিত ব্যবহার করেন তারা কোন সমস্যা ছাড়াই ওয়ান ড্রাইভ ব্যবহার করতে পারেন।

যেহেতু আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েডেও মাইক্রোসফট অফিস স্যুটের ব্যবহার দেখা যায়, তাই আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরাও ওয়ানড্রাইভ ব্যবহার করতে পারেন। তবে বেশিরভাগ আইওএস ব্যবহারকারীরা আইক্লাউড এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করা পছন্দ করেন , তাই তারা ওয়ান ড্রাইভকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন।

আপনার মতামত ...