অ্যান্ড্রয়েড হ্যাকঃ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ

যেহেতু স্মার্টফোনগুলোতে সবসময় ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করা হয়, তাই স্মার্টফোনগুলো হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। কোন কী স্ট্রোক লগার কিংবা কোন ভাইরাস কিংবা অন্য কোন ট্র্যাকিং এপ ইন্সটল করে আপনার স্মার্টফোনটি যে কেউ হ্যাক করতে পারে। তাই আপনি যদি বুঝতে পারেন যে আপনার স্মার্টফোনটি হ্যাক হয়েছে তাহলে নিম্নোক্ত উপায়ে যাচাই করে নিতে পারেন আপনার স্মার্টফোনটি আসলেই হ্যাক হয়েছে কি না? সেই সাথে এর সমাধান নিয়েও এখানে আলোচনা করা হয়েছেঃ

হ্যাক শনাক্তকরণঃ

প্রথমত,

আপনার স্মার্টফোনে যদি কোন ম্যালওয়্যার কিংবা স্পাইওয়্যার ইন্সটল করা হয়ে থাকে তবে স্ক্রীনে যখন তখন বিভিন্ন পপআপ উইন্ডো ভেসে উঠবে। যাতে বিভিন্ন ধরণের অনলাইন বিজ্ঞাপন বা গুগল প্লে স্টোরের কোন এপ ইন্সটল করার পাতা বা ভাইরাস বিষয়ক সতর্কতা বা কোন আপডেট নোটিফিকেশন ভেসে উঠতে পারে।

এই পপআপগুলো বিভিন্ন ওয়েবসাইট অথবা অ্যান্ড্রয়েড এপের বিজ্ঞাপনদাতারা তৈরি করে। তাই যদি কোন এপ চালানোর সময় কিংবা কোন ওয়েবপেইজ ব্যবহারের সময় বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত কোন পপআপ উইন্ডো ভেসে উঠে তাহলে চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নেই।

তবে যদি স্মার্টফোনটি হোম পেইজে থাকা অবস্থায় কিংবা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকলে বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত পপআপ উইন্ডো ভেসে উঠে তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার অ্যান্ড্রয়েডে ম্যালওয়্যার ইন্সটল করা আছে।

 

দ্বিতীয়ত,

আপনাকে দেখতে হবে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডাটা ব্যবহার কিরুপ হচ্ছে। কারন স্পাইওয়্যার এপগুলো ফোনের ডাটা চুরি করে হ্যাকারের ইন্টারনেটে পাঠিয়ে দেয়।

এ সমস্যার সমাধানে আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে, কোন এপ ইন্সটল করার পর তা আপনার ফোনে কতটুকু ডাটা ব্যবহার করছে।

এর জন্য যা করতে হবে-

(ক) অ্যান্ড্রয়েডে ‘সেটিংস’ অপশনে যান।

(খ) ‘ডাটা ব্যবহার’ অপশনটি সিলেক্ট করুন।

(গ) সম্প্রতি কোন অজানা এপ আপনার স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ডাটা ব্যবহার করছে কি না তা খুঁজে বের করুন।

(ঘ) আপনার স্মার্টফোনে যদি এই অপশনটি না থাকে আর আপনি যদি আরো ভালোভাবে আপনার ডাটা ব্যবহারের দিকে নজর রাখতে চান, তবে একটি ডাটা পর্‍্যবেক্ষণ এপ ইন্সটল করে নিতে পারেন।

 

তৃতীয়ত,

কী স্ট্রোক লগার ও অন্যান্য কিছু স্পাইওয়্যার এপ এমনভাবে আপনার স্মার্টফোন হ্যাক করে যা সনাক্তকরণ করাটাই কঠিন হয়ে পরে। তবে আপনার স্মার্টফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে যদি কোন এপ চালু থাকে তা আপনি আপনার ফোনের ব্যাটারি হিস্টোরিতে দেখতে পারবেন। তাই ডাটা ব্যবহারের দিকে নজরদারি করার মতো আপনার ব্যাটারির মেয়াদের উপর ও নজর রাখুন।

এর জন্য যা করতে হবে-

(ক) অ্যান্ড্রয়েডে ‘সেটিংস’ অপশনে যান।

(খ) ‘ব্যাটারি’ অপশনটি সিলেক্ট করুন।

(গ) কোন অজানা এপ আপনার স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ডাটা ব্যবহার করছে কি না তা খুঁজে বের করুন।

 

 

হ্যাক হলে করণীয়ঃ

আপনার স্মার্টফোনে যদি সত্যিই কোন ম্যালওয়্যার কিংবা স্পাইওয়্যার এপ থাকে তাহলে তা দূর করার উপায় হলঃ

 

. অ্যান্টিভাইরাস স্ক্যান চালু করাঃ

স্পাইওয়্যার এপ সনাক্ত করা ও আনইন্সটল করার জন্য সব চেয়ে সহজ উপায় হল, একটি ভালো মানের অ্যান্টি ভাইরাস এপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অ্যান্ড্রয়েডটি স্ক্যান করা। গুগল প্লে স্টোরে এমন অনেক এপ আছে যার মাধ্যমে অ্যান্টি ভাইরাস স্ক্যান করা যায়। অ্যাভাস্ট, এভিজি, ক্যাসপারস্কি, ম্যাকআফি হল এমনি কয়েকটি বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টি ভাইরাস এপ।

 

২. অপরিচিত এপ সনাক্তকরণঃ

অন্যান্য এপের মতো ম্যালওয়্যার এপও আপনার ফোনের এপ স্টোরেজে অবস্থান করবে। যেখান থেকে একে সহজে আনইন্সটল করা যায়।

আনইন্সটল করার উপায়-

(ক) অ্যান্ড্রয়েডে ‘সেটিংস’ অপশনে যান।

(খ) ‘এপ’ অপশনটি সিলেক্ট করুন।

(গ) তারপর ‘ডাউনলোডেড’ ট্যাবে যেয়ে যে এপটি আপনি নিজে ইন্সটল করেননি তা আনইন্সটল করে দিন।

 

হ্যাক প্রতিরোধের উপায়ঃ

১. তৃতীয় পক্ষের (থার্ডপার্টি) এপ ষ্টোর ব্যবহার না করাঃ

সর্ব প্রথম টিপস হল যে, অজানা কোন ওয়েবসাইট কিংবা এপ স্টোর থেকে এপ ইন্সটল করা থেকে বিরত থাকুন। অনেকেই “এপনেইম.এপিকে” লিখে এপ সার্চ করেন ও সেখান থেকে এপ ইন্সটল করেন। এভাবে আসলে পরোক্ষ ভাবে ম্যালওয়্যার ভাইরাস কে মোবাইলে ঢোকার সুযোগ করে দেয়া হয়। এর জন্য কোন বিশ্বাসযোগ্য এপ স্টোর যেমন- গুগল প্লে স্টোর ব্যবহার করা যায়।

২. কোন কিছু ক্লিক করার পূর্বে সতর্কতাঃ

আপনার স্মার্টফোনে কি কখনো এমন কোন বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত পপআপ উইন্ডো এসেছে যাতে নিচের ছবিটির মতো কোন ডাউনলোড লিংক আছে? অথচ এতে ক্লিক করলে কিছুই ডাউনলোড হয়না? এক্ষেত্রে আপনার উচিত বিজ্ঞাপন ব্লক করা যায় এমন ব্রাউজার ব্যবহার করা। অথবা কোন ডাউনলোড বাটনটি আসল আর কোনটি নকল তা শনাক্ত করতে শেখা। সর্বোপরি কোন বাটনে ক্লিক করার পূর্বে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা। নতুবা আপনার স্মার্টফোনে ভাইরাস প্রবেশের পথ সহজ হয়ে যাবে।

৩. ফোনে প্যাটার্ন, পিন অথবা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাঃ

কোন বহিরাগত ব্যক্তি যাতে আপনার ফোন ব্যবহার করতে না পারে এর জন্য ফোনে প্যাটার্ন, পিন অথবা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। এতে করে ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলেও অন্য কেউ আপনার ব্যক্তিগত ডাটা দেখতে পারবেনা এবং ব্যবহার ও করতে পারবেনা।

স্মার্টফোনে স্ক্রিন লক করার উপায়ঃ

(ক) ফোনে ‘সেটিংস’ অপশনে যান।

(খ) ‘সিকিউরিটি’ অপশনে ক্লিক করুণ।

(গ) তারপর স্ক্রিন লক অপশনে যেয়ে প্যাটার্ন, পিন অথবা পাসওয়ার্ড তৈরি করুন।

 

৪. নিয়মিত অ্যানড্রয়েড আপডেট করাঃ

আপনার স্মার্টফোনকে ভাইরাস থেকে বাচানোর সবচেয়ে ভাল উপায় হল, ফোনকে নিয়মিত আপডেট করা। গুগল এবং স্মার্টফোনগুলো বছরে একবার কিংবা দুইবার ফোন আপডেট করার সুযোগ দেয়। এই আপডেট গুলোর মাধ্যমে ফোনকে ভাইরাস থেকে রক্ষা করা যায়।

আপডেট করার উপায়ঃ

(ক) অ্যানন্ড্রয়েডে ‘সেটিংস’ অপশনে যান।

(খ) সবার নিচে ‘অ্যাবাউট ফোন’ অপশনটিতে যান।

(গ) এখান থেকে ‘সিস্টেম আপডেটে’ ক্লিক করে ফোন আপডেট করা যায়।

আপনার মতামত ...