আইফোন ১০ এ পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফিচার !!!

অ্যাপলের নতুন সংস্করণ “আইফোন এক্স” এ এমন অনেক ফিচার আছে যা অ্যানড্রয়েডে বহু আগে থেকেই ব্যবহৃত হচ্ছে। আইফোনের ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক কিছু হলেও অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কাছে এটি মোটেও নতুন কিছুনা। অ্যাপল কোম্পানি একে স্মার্টফোনের জন্য সম্পূর্ন নতুন ফিচার বলে দাবি করলেও অনেক পুরনো অ্যানড্রয়েডেও এই ফিচারগুলোর ব্যবহার দেখা যায়। অ্যাপলের উচিত কোন ফিচারকে নিজেদের সম্পূর্ন নতুন আবিস্কার বলে দাবি করার পূর্বে এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে নেয়া। এখানে “আইফোন এক্স” এর এমনি কয়েকটি ফিচার নিয়ে আলোচনা করা হলঃ

. এয়ার পাওয়ার দিয়ে তারবিহীনকিউআইচার্জিংঃ

‘আইফোন এক্স’ এ অবশেষে এল তারবিহীন চার্জের ব্যবস্থা। যদিও অ্যানড্রয়েড ডিভাইসে এটি অনেক আগেই যাত্রা শুরু করে ২০১১ সালে ‘এলজি রেভুলেশন’ এর মাধ্যমে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত স্যামসাং গ্যলাক্সি নোট ৮, স্যামসাং গ্যলাক্সি এস৭, এলজি জি৬, মটো জেড সহ অনেক অ্যানড্রয়ডে ডিভাইসে এই ফিচার ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১৭ সালেও অনেক অ্যানড্রয়েড ডিভাইস এসেছে যাতে তারবিহীন “কিউআই” চার্জিং ব্যবস্থা আছে। যদিও অ্যাপল অনেক আগেই ‘আইফোন ৫’ এই তারবিহীন চার্জিং ব্যবহার করতে চেয়েছিল; যা বর্তমান ‘আইফোন এক্স’ এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছে।

 

২. বেজেলবিহীন ডিজাইনঃ

বেজেল হল এমন একটি বাঁকানো ফ্রেম যা গ্লাস স্ক্রিনকে সঠিক অবস্থানে আটকে রাখে। ‘আইফোন এক্স’ এর ডিজাইনটি বেজেলবিহীন। বেজেলবিহীন ডিজাইনে ফ্রেমের জন্য বাড়তি জায়গা ব্যবহার হয়না। ফলে স্ক্রিনটি বড় হয়। ‘আইফোন এক্স’ এর ডিসপ্লে হল ৫.৮ ইঞ্চি। ‘আইফোন এক্স’ একে সম্পূর্ণ নতুন একটি ফিচার বললেও কয়েক বছর আগে ‘শার্প অ্যাকুয়াস’ কোম্পানি তা ব্যবহার করে। গত বছর ‘শাওমি মি মিক্স’ এ বেজেল বিহীন ডিজাইন ব্যবহারের পর এটি আবার আলোচনায় আসে। শাওমির পর এলজি, স্যামসাং, ওপ্পো এবং আরও কিছু কোম্পানি এই ডিজাইনটি ব্যবহার করে। এলেফোন এস৮, মেজ আলফা, নুবিয়া জেড৭ প্রভৃতি অ্যানড্রয়েডে এর ব্যবহার দেখা যায়।

তাছাড়া ‘আইফন এক্স’এ স্ক্রিনের উপরের দিকে একটি খাঁজ আছে যা পূর্বে ‘এসেনশিয়াল ফোন’গুলোতেও ব্যবহার করা হয়েছে। ‘এসেনশিয়াল ফোন’গুলোতে খাঁজের মধ্যে শুধুমাত্র সম্মুখ ক্যামেরা (ফ্রন্ট ক্যামেরা) থাকলেও, ‘আইফোন এক্স’ এ এই খাঁজের মধ্যে সম্মুখ ক্যামেরার সাথে আছে বিভিন্ন সেন্সর।

 

৩. ফেস আইডিঃ

অ্যান্ড্রয়েডে এতদিন স্ক্রিনলক খোলার জন্য ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন’ বলে যেই ফিচার ছিল তা ‘আইফন এক্স’ এ এসেছে ‘ফেস আইডি’ নামে। যদিও এই ফিচারটির ব্যবহার আমরা আগেও দেখেছি ২০১২ সালে বের হওয়া ‘স্যামসাং গ্যালাক্সি নেক্সাস’ এ।তবে আইফোন এক্সের প্রদর্শনীতে অ্যাপলের ক্রেইগ ফ্রেডেরিগি ফেস আইডি ব্যবহার করে স্ক্রিনলক খুলতে ব্যর্থ হন। তারপর থেকে অ্যাপল এই ফিচারটির নানা সংস্কার সাধন করছে। তবে ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন’ এবং ‘ফেস আইডি’ এক কথা নয়। ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন’ এর মাধ্যমে কারো ছবির মাধ্যমেও স্ক্রিন আনলক করা যায়। আর ফেস আইডিতে ব্যবহারকারীর ফেসকে প্রত্যক্ষ ভাবে স্ক্রিনের সামনে আনতে হয়।

 

৪. ডুয়েল ওআইএস ক্যামেরার মাধ্যমে ফোরকে ভিডিওঃ

‘আইফোন এক্স’ এর পেছনের ক্যামেরায় ডুয়েল অপটিক্যাল ইমেজ স্টেবিলাইজেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অবশ্য স্যামসাং কোম্পানি তার ‘গ্যালাক্সি নোট ৮’ এর মাধ্যমে গত মাসেই এই ফিচারটির যাত্রা শুরু করে ফেলেছে। তারপর শাওমি মি৬, শাওমি মি মিক্স ২, নোকিয়া ৮, স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৫, স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৯ প্রো, এইচটিসি ডিজায়ার ৮২৮ প্রভৃতি অ্যানড্রয়েডে এর ব্যবহার দেখা যায়।

উন্নত মানের ক্যামেরার জন্য আইফোন কিংবা স্যামসাং এর স্মার্টফোনগুলো হল সর্বোত্তম। ২টি কোম্পানিই তাদের ক্যামেরায় উন্নতমানের ফিচার যুক্তকরণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যদিও স্যামসাং এখনো অ্যাপলের তুলনায় এগিয়ে আছে।

 

৫. দ্রুত চার্জিংঃ

যেকোনো ডিভাইসেই দ্রুত চার্জ না হওয়া একটি বিরাট সমস্যা। “কুইক চার্জ” এর আবিস্কারের পর অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীদের এই সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে। যদিও আইফোন ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা থেকে এতদিন বঞ্চিত ছিল। নতুন ‘আইফোন এক্স’ এ এই দ্রুত চার্জিং ফিচারটি যোগ করা হয়েছে। অ্যাপলের মতে নতুন ‘আইফোন এক্স’ এ ৩০ মিনিটে ৫০% চার্জ সম্পন্ন হয়। ‘কোয়ালকম’ প্রযুক্তির সহায়তায় “কুইক চার্জ” এর নিত্য নতুন ভার্সন উদ্ভাবন হচ্ছে। গত কয়েক বছরে এর ব্যবহার দেখা গেছে ওয়ানপ্লাস ৩, এলজি ভি২০, আসুস জেনফোন ৩ ডিলাক্স,এইচটিসি ১০, এলজি জি৫ সহ আরও অসংখ্য অ্যানড্রয়েডে।

৬. ওএলইডি ডিস্প্লেঃ

অ্যাপল মূলত তার সব ডিভাইসে ‘এলসিডি’ ডিসপ্লে ব্যবহার করে। এমনকি সম্প্রতি চালু হওয়া ‘আইফোন ৮’ ও ‘আইফোন ৮প্লাস’ এও ‘এলসিডি’ ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ‘আইফোন এক্স’ এ সর্বপ্রথম ‘ওএলইডি’ ডিসপ্লে ব্যবহার করেছে অ্যাপল।তবে এর আগে ২০০৯ সালে স্যামসাং এর গ্যালাক্সি নোটে ওএলইডি ডিসপ্লে এর ব্যবহার সর্ব প্রথম চালু হয়। তারপর ভিভো এক্স২০, আসুস জেনফোন ভি, স্যামসাং গ্যালাক্সি সি৮, এল জি ভি৩০ ছাড়াও আরও অনেক ডিভাইসে এর ব্যবহার দেখা গেছে।

৭. এইচডিআর (হাই ডাইন্যামিক রেঞ্জ) ভিডিও দেখাঃ

‘আইফোন এক্স’ এর মাধ্যমে এখন আপনি অ্যামাজন কিংবা নেটফ্লিক্স এর এইচডিআর ভিডিও গুলো দেখতে পাবেন অতি সহজে। তবে ‘আইফোন এক্স’ এর আগে এলজি জি৬, সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড প্রিমিয়াম, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮, এল জি ভি৩০ সহ অনেক অ্যানড্রয়েড ডিভাইসে এই ফিচারটি ব্যবহৃত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ২০১৮ এর মধ্যে আরও অনেক ডিভাইস এই ফিচারটি ব্যবহার করবে।

 

৮. অগম্যান্টেড রিয়েলিটি (এআর) ব্যবহারঃ

অ্যাপলের মতে আইফোন এক্স হল প্রথম স্মার্টফোন যা অগম্যান্টেড রিয়েলিটি (এআর) এর জন্য ডিজাইনকৃত। কথাটি অবশ্যই হাস্যকর। কেননা গত বছর চালু হওয়া ‘লেনভো ফ্যাভ ২ প্রো’কে ‘গুগল ট্যাঙ্গো এআর’ এর সক্ষম করে ডিজাইন করা হয়েছে। তাছাড়া ‘আসুস জেনফন এআর’ এ অগম্যান্টেড রিয়েলিটি (এআর) ব্যবহার ছাড়াও একে ‘গুগল’স ডেড্রিম ভিআর’ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সক্ষম করে তোলা হয়েছে। তাই বলা যায়, ‘আইফোন এক্স’ এই ব্যাপারেও এগিয়ে যেতে পারেনি।

আপনার মতামত ...