ভিডিও চ্যাট করতে সেরা ৫ স্মার্টফোন

স্মার্টফোনে ভিডিও চ্যাট করা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক বছর আগেও মাত্র ৩৭% লোক ভিডিও চ্যাট করতো, তাও আবার কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে, নয়তো নয়। বর্তমানে এর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় ৮৫% মানুষ এটি ব্যবহার করছে তার নিকট আত্নীয়দের সাথে যোগাযোগ করার জন্য। ব্যবসায়িক দিক তো আছেই।

তাই যারা নিয়মিত ভিডিও চ্যাট করেন তাদের ফোন বাছাইয়ের পূর্বে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত। যেমন- ফোনটি অবশ্যই বর্তমান জেনারেশনের হতে হবে। ফোনের স্ক্রিন ৫ ইঞ্চির চেয়ে বড় হতে হবে যাতে চ্যাটিং এর সময় আশপাশের অংশও ভালভাবে দেখা যায় ইত্যাদি। এছাড়াও আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যা যাচাই করে ফোন কেনা উচিতঃ

 

বিবেচ্য বিষয়ঃ

(১)সামনের ক্যামেরার ধরণঃ ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স সামনের ক্যামেরার সবচেয়ে বড় গুণ। এতে করে আপনার চারপাশের সবকিছু সহজে ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ভাল রেজুলেশনের সেলফি ক্যামেরা ব্যবহার করলে আরও বেশি ভাল হয়। এতে করে নিজের ইচ্ছামতো কনট্রাস্ট এবং ছবির মান নির্ধারণ করা যায়।

(২)ব্যাটারিঃ ভিডিও চ্যাটিং এর জন্য ফোনে ভাল মানের ব্যাটারি হওয়া খুবই জরুরি। ডাটা স্ট্রিমিং, গ্রাফিক্স প্রসেসিং, ফুল-স্ক্রিন ভিডিও এইসবের জন্য ফোনের ব্যাটারি খরচ হয় বেশি।

(৩)স্পিকারের ধরণ এবং অবস্থানঃ স্পিকার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এখানে স্পিকারগুলোকে ডেসিবেল মান এবং স্পিকারের অবস্থান দিয়ে যাচাই করা হয়েছে। যেসব ডিভাইসে স্পিকার সামনের দিকে তা দিয়ে ভিডিও চ্যাটের অভিজ্ঞতাও দারুণ হয়। স্পিকার পিছনে হলে আওয়াজ শুনতে কষ্ট হয়। যেসব ফোনে সামনে ও নিচের দিকে স্পিকার থাকে সেগুলো সর্বোত্তম।

(৪)ক্যামেরা ও বাটনের অবস্থানঃ দীর্ঘক্ষণ ভিডিও চ্যাটে আপনি আপনার ফোনটি টেবিলে বা অন্য কোথাও রেখে তারপর কথা বলেন। সেক্ষেত্রে ফোনকে আড়াআড়িভাবে রাখা হয়। যদি আড়াআড়ি ভাবে ফোনের একদিকে পাওয়ার বাটন ও অন্য দিকে ভলিউম বাটন থাকে তাহলে চাপ লেগে পাওয়ার অফ হয়ে যাওয়া কিংবা ভলিউম আপ-ডাউনের সম্ভাবনা থাকে। তাই সবচেয়ে ভাল হয় যদি পাওয়ার বাটন আর ভলিউম বাটন একই দিকে থাকে তো।

(৫)তাপমাত্রা বৃদ্ধিঃ ভিডিও চ্যাটিং এর সময় ফোনের প্রসেসর সবচেয়ে বেশি কাজ করে। ফলে ফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়। এতে করে ফোনের ক্ষতি সাধণ হয়। তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখে যেই ফোনের ব্যাটারি কম গরম হয় তা কেনা উচিত।

(৬)’ভিডিও চ্যাট’ এপ ব্যবহারঃ ভিডিও চ্যাটের জন্য কোন এপটি ব্যবহার করা হবে এবং তা ডিভাইসে চলবে কিনা এই বিষয়গুলো জেনে নেয়া ভাল। এই ব্যাপারে বিশদভাবে বলতে গেলে বলা যায়, ‘ফেসটাইম’ এপটি শুধুমাত্র আইফোনে ব্যবহার করা যায়। তাই আপনি যদি কোন আইফোন ব্যবহারকারীকে ফোন করতে যান সেক্ষেত্রে ‘ফেসটাইম’ হল সর্বোত্তম এপ। বর্তমানে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন লোক ‘ফেসটাইম’ ব্যবহার করছে। যদিও হোয়াটসএপ কিংবা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মতো এপগুলোতে কয়েক বিলিয়ন লোক ভিডিও চ্যাট করে। যা সাধারণ অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করে। বিশ্ববাজারে মাত্র ১২.৫% লোক অ্যাপল পণ্য ব্যবহার করে। সেক্ষেত্রে আপনার বন্ধু বা আত্নীয়রা যদি বেশির ভাগ অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী হয় তাহলে ফেসটাইম ব্যবহারকরে তারা আপনার সাথে কথা বলতে পারবেনা। হোয়াটসএপ, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, হ্যাংআউটস, স্কাইপ এই এপগুলো সবচেয়ে বেশি মানুষ ব্যবহার করে। আবার গুগল ডুও এমন একটি এপ যা অ্যানড্রয়েড এবং আইফোন উভয় ডিভাইসে কাজ করে। তাই এই এপগুলো চালানো যায় এমন বাছাইকৃত ৫ টি স্মার্টফোনের নাম এখানে দেয়া হলঃ

১. আইফোন ৭ প্লাস

২. ওয়ানপ্লাস থ্রিটি

৩. এলজি ভি২০

৪. গ্যালাক্সি এস৭ এজ

৫. পিক্সেল এক্সএল

 

১. আইফোন ৭ প্লাস

স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে অ্যাপলের আইফোন সবচেয়ে জনপ্রিয়। এর প্লাস মডেলগুলোও বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তাই ভিডিও চ্যাটিং এর জন্য আইফোন ৭ প্লাস এর অবস্থান সবার উপরে থাকবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

(১)সামনের ক্যামেরার ধরণঃ আইফোন ৭ প্লাস এর আছে ৫.৫ ইঞ্চির পর্দা (ডিসপ্লে)। এর সামনের ক্যামেরার রেজুলেশন তেমন ভাল নয়। আবার এর কোন ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্সও নেই। তবুও এটি অনেক নিখুঁত এবং পরিস্কার ছবি দেয়।

(২)ব্যাটারিঃ এর আছে ২৯০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ঘণ্টা শক্তিবিশিষ্ট ব্যাটারি। আইফোন ৭ প্লাস এর ব্যাটারির ক্ষমতাও অন্যান্য ডিভাইসগুলোর তুলনা অনেক ভাল। তাই চার্জার লাগিয়ে ভিডিও কল করার প্রয়োজন হবেনা।

(৩)স্পিকারের ধরণ এবং অবস্থানঃ এই ডিভাইসে কয়েকটি স্পিকারের ব্যবহার হয়েছে। যা দারুণ সাউন্ড সিস্টেমের সুবিধা দেয়।

(৪)ক্যামেরা ও বাটনের অবস্থানঃ এই ফোনে ভলিউম বাটন ও সেলফি ক্যামেরা বাটন এক দিকে থাকে। অপর দিকে থাকে পাওয়ার বাটন। তাই ফোন আড়াআড়ি ভাবে রেখে ভিডিও কল করার সময় চাপ লেগে পাওয়ার অফ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।। তবে এর পাওয়ার বাটন অনেক শক্ত হওয়ায় এ ঝুঁকি কম।

 

(৬)’ভিডিও চ্যাট’ এপ ব্যবহারঃ আইফন ৭ প্লাস এর আরেকটি সুবিধা হল যে, এতে ‘ফেসটাইম’ ব্যবহার করা যায়। ‘ফেসটাইম’ এপ টি শুধুমাত্র আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য। এই এপটি সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। ভিডিও কলিং এর জন্য এর ছবির মানও অনেক ভাল। অসুবিধা শুধু একটাই যে আপনি আপনার অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারী কোন বন্ধুর সাথে ভিডিও কল করতে পারবেন না। কারণ অ্যান্ড্রয়েডে ফেসোটাইম ব্যবহার করা যায়না। এই অসুবিধা ব্যতিত অন্য সব বিষয়ে ভিডিও চ্যাটিং এর জন্য আইফোন ৭ প্লাস সবচেয়ে ভাল।

(৭) অন্যান্যঃ আইফোন ৭ প্লাস ওয়াইফাই এবং মোবাইল ডাটার মধ্যে আন্তঃরুপান্তর সবসময় সঠিক ভাবে করতে পারেনা। তাই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে ভিডিও চ্যাটিং করতে অনেক সময় নেটয়ার্কজনিত সমস্যা হয়। এর হেডফোন নিয়েও ঝামেলায় পরতে হয়। ফোনের সাথে পাতলা তারের এক জোড়া এয়ারপড থাকে। এর কোন এয়ারফোন জ্যাক নেই। আইফোন ৭ প্লাস এ ‘গুগল ডুও’ এর ‘নক নক’ ফিচারটি কাজ করেনা। তাই আপনার কোন বন্ধু এই ফিচারটি ব্যবহার করে আপনাকে ভিডিও কল করলে আপনি টেরও পাবেন না।

 

২. ওয়ানপ্লাস থ্রিটি

অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য ওয়ান প্লাস থ্রিটি সর্বোত্তম ভিডিও চ্যাটিং এপ।

(১)সামনের ক্যামেরার ধরণঃ এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল এর ১৬ মেগাপিক্সেল এর সেলফি ক্যামেরা। এর সবচেয়ে ভাল রেজুলেশনের সম্মুখ ক্যামেরা আছে। এর ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স অনেক বেশি প্রশস্ত না হলেও ‘আইফোন’ কিংবা ‘পিক্সেল এক্সএল’ এর তুলনায় আশেপাশের অনেক বেশি জায়গার ছবি ধারণ করতে সক্ষম।

(২)ব্যাটারিঃ এর ব্যাটারির ক্ষমতা মাঝারি ধরণের। তাই দীর্ঘক্ষণ ভিডিও চ্যাট করার সময় সাথে চার্জার রাখা বাঞ্চনীয়।

(৩)স্পিকারের ধরণ এবং অবস্থানঃ এই ফোনে একটি মাত্র স্পিকার আছে যা নিচের দিকে অবস্থিত। এই অবস্থান ভিডিও কলিং এর জন্য তেমন সুবিধার নয়।

(৪)ক্যামেরা ও বাটনের অবস্থানঃ ওয়ানপ্লাস থ্রিটিতে সেলফি ক্যামেরা, পাওয়ার বাটন, ভলিউম বাটন একই পাশে থাকে। তার ফোনটিকে আড়াআড়ি ভাবে রেখে সহজেই ভিডিও চ্যাট করা যায়।

(৫)তাপমাত্রা বৃদ্ধিঃ ৩০ মিনিট ধরে ভিডিও চ্যাট করার পর ফোনটি কিছুটা গরম হয়ে যায়। যদিও ফোনের কার্যকলাপে কোন সমস্যা দেখা দেয়না।

(৬)’ভিডিও চ্যাট’ এপ ব্যবহারঃ অ্যাপলের ফেসটাইম ব্যতিত প্রায় সব ধরণের ভিডিও কলিং এপ ই ওয়ানপ্লাস থ্রিটি এ কাজ করে।

(৭) অন্যান্যঃ ওয়ানপ্লাস থ্রিটি সহজে ওয়াই ফাই এবং মোবাইল ডাটার মধ্যে আন্তঃ রুপান্তর করতে পারে। তাই ঘরে বাইরে যেখানে খুশি সেখান থেকেই ভিডিও কল করা যায়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল ওয়ানপ্লাস থ্রিটি এর মূল্য মাত্র $৪৩৯ যা এই লিস্টে অন্য যেকোনো ফোন থেকে সস্তা।

 

 

৩. এলজি ভি২০

এলজির নতুন পণ্য ‘এলজি ভি২০’ হল এলজির ভি সিরিজের দ্বিতীয় মডেল। এই মডেলটি সেলফি ক্যামেরা, সম্মুখ স্পিকার, বাটনের অবস্থান প্রভৃতি সুবিধার জন্য ভিডিও চ্যাটিং এপ হিসেবে অনেক ভাল। এর অসুবিধা হল এর সেলফি ক্যামেরা সাধারণ সেলফি ক্যামেরার মতই রেজুলেশন বিদ্যমান এবং এতে ‘ফেসটাইম’ চালানো যায়না।

(১)সামনের ক্যামেরার ধরণঃ এর সামনের ক্যামেরাটি ৫। প্রয়োজন মতো ক্যামেরা পিক্সেল পরিবর্তন করতে পারে। এর রেজুলেশনও মোটামুটি ভাল। ছবি অত্যন্ত পরিস্কার ও উজ্জ্বল হয়। এর সেলফি ক্যামেরার আরেকটি বিশেষত্ব হল এর ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স। আপনার চারপাশের ছবি ধারণে এই তালিকায় অন্য যেকোনো ফোনের তুলনায় এই ফোনটি সবচেয়ে ভাল।

(২)ব্যাটারিঃ এর ব্যাটারির ক্ষমতা অন্যান্য ডিভাইসের তুলনায় কম।

(৩)স্পিকারের ধরণ এবং অবস্থানঃ এলজ ভি২০তে আছে ‘কোয়াড-ডিএসি সেটআপ’ যা আপনাকে দেয় সুন্দর ও পরিস্কার অডিও। এর স্পিকারটি সামনের দিকে অবস্থিত তাই আওয়াজও দারুণ শোনায়।

(৪)ক্যামেরা ও বাটনের অবস্থানঃ এলজি ভি২০ এর পাওয়ার বাটন ফোনের পেছন দিকে অবস্থিত। ভলিউম বাটন আর সম্মুখ ক্যামেরার বাটন একই দিকে হওয়ায় আড়াআড়ি ভাবে ফোন রেখে ভিডিও চ্যাটে কোন অসুবিধা হয়না।

(৫)তাপমাত্রা বৃদ্ধিঃ ব্যাটারি সহজেই গরম হয়ে যায়।

(৬)’ভিডিও চ্যাট’ এপ ব্যবহারঃ এলজি ভি২০ এ যেকোনো ভিডিও চ্যাটিং এপ (ফেস টাইম ব্যতিত) ব্যবহার করা যায়।

(৭) অন্যান্যঃ এর মাধ্যমে সহজে ওয়াইফাই এবং মোবাইল ডাটার মধ্যে আন্তঃপরিবর্তন ঘটানো যায়।

৪. গ্যালাক্সি এস৭ এজ

স্যামসাং এর ফোন গুলোর মধ্যে গ্যালাক্সি এস৭ এজ ভিডিও চ্যাটিং এর জন্য সবচেয়ে ভাল।

(১)সামনের ক্যামেরার ধরণঃ এর সম্মুখ ক্যামেরাটি ৫ মেগাপিক্সেল এর। আর আছে ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল সেলফি লেন্স যা দিয়ে দারুণ সব ছবি তোলা যায়।

(২)ব্যাটারিঃ এর ব্যাটারির ক্ষমতা সবচেয়ে ভাল। সহজে গরম হয়না।

(৩)স্পিকারের ধরণ এবং অবস্থানঃ ডিভাইসটিতে অডিও সিস্টেম ততটা উন্নত নয়। এর স্পিকার ফোনের নিচের দিকে এক কোণে অবস্থিত।

(৪)ক্যামেরা ও বাটনের অবস্থানঃ এর ভলিউম বাটনটি সম্মুখ ক্যামেরার বিপরীত দিকে অবস্থিত। তাই আড়াআড়ি ভাবে রেখে কথা বলার সময় অসুবিধার সৃষ্টি করে।

(৫)তাপমাত্রা বৃদ্ধিঃ অনেকক্ষণ ভিডিও চ্যাট করলে এই ফোনটি কিছুটা গরম হয়ে যায়।

(৬)’ভিডিও চ্যাট’ এপ ব্যবহারঃ এই ডিভাইসে ফেসটাইম এপ ব্যবহার  করা না গেলেও অন্য যেকোনো ভিডিও চ্যাটিং এপ ব্যবহার করা যায়।

(৭) অন্যান্যঃ আপনি চাইলে ইচ্ছামতো ওয়াইফাই এবং মোবাইল ডাটা আন্তঃরুপান্তর করে এই ডিভাইসে ভিডিও কল করতে পারবেন।

 

৫. পিক্সেল এক্সএলঃ

সম্প্রতি পিক্সেল এর সহযোগিতায় গুগল নিজস্ব স্মার্টফোন বের করেছে। গুগলের অন্যান্য ডিভাইস যেমন- এইচটিসি, এলজি, মটরোলা প্রভৃতি নিজস্ব ব্র্যান্ড খুলতে সক্ষম হয়েছে। গুগলের ‘পিক্সেল এক্সএল’ও গুগলের একটি সফল ভিডিও চ্যাটিং ডিভাইস।

(১)সামনের ক্যামেরার ধরণঃ এর ক্যামেরার মান অন্য যেকোনো ফোন ক্যামেরার তুলনায় অনেক ভাল। এর সামনের ক্যামেরাটির রেজুলেশন ৮ মেগাপিক্সেল। তবে লেন্সটি তেমন ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল নয়।

(২)ব্যাটারিঃ এর ব্যাটারির ক্ষমতা সবচেয়ে ভাল। আপনি দীর্ঘক্ষণ ধরে ভিডিও চ্যাট করলেও ব্যাটারি লো হয়ে যাবেনা।

(৩)স্পিকারের ধরণ এবং অবস্থানঃ এই ফোনে একটি মাত্র স্পিকার আছে যা নিচের দিকে অবস্থিত। এই অবস্থান ভিডিও কলিং এর জন্য তেমন সুবিধার নয়।

(৪)ক্যামেরা ও বাটনের অবস্থানঃ এর সেলফি ক্যামেরা পাওয়ার বাটন ও ভলিউম বাটনের বিপরীত দিকে অবস্থিত। তাই আড়াআড়ি ভাবে রেখে কথা বলার সময় সমস্যার সৃষ্টি হয়।

(৫)তাপমাত্রা বৃদ্ধিঃ ডিভাইস সহজে গরম হয়না।

(৬)’ভিডিও চ্যাট’ এপ ব্যবহারঃ এই ডিভাইসে ফেসটাইম ব্যতিত প্রায় সব ধরণের অ্যানড্রয়েড ভিডিও চ্যাটিং এপই কাজ করে।

(৭) অন্যান্যঃ আপনি চাইলে ইচ্ছামতো ওয়াইফাই এবং মোবাইল ডাটা আন্তঃরুপান্তর করে এই ডিভাইসে ভিডিও কল করতে পারবেন।

 

 

স্মার্টফোগুলোর তুলনামূলক চিত্র

আইফোন ৭ প্লাস ওয়ান প্লাস থ্রিটি এলজি ভি২০ গ্যালাক্সি এস৭ এজ

পিক্সেল এক্সএল

মূল্য

মূল্য শুরু ৭৬৯ ৪৩৯ ৭৮৯ ৫৯৯

৭৬৯

হার্ডওয়্যার ফ্যাক্টর

ওয়াইড অ্যাঙ্গেল সেলফি লেন্স নেই আছে আছে আছে নেই

সামনের ক্যামেরার রেজুলেশন

৭ মেগাপিক্সেল ১৬ মেগাপিক্সেল ৫ মেগাপিক্সেল ৫ মেগাপিক্সেল

৮ মেগাপিক্সেল

স্পিকার ৭৭.৪ ডেসিবেল ৭৪ ডেসিবেল ৭২ ডেসিবেল ৭২.৯ ডেসিবেল

৭৬.৭ ডেসিবেল

ডিসপ্লে

৫.৫ ইঞ্চি ৫.৫ ইঞ্চি ৫.৭ ইঞ্চি ৫.৫ ইঞ্চি

৫.৫ ইঞ্চি

ব্যাটারি লাইফ

৯ ঘন্টা ৫ মিনিট ৫ ঘন্টা ৪১ মিনিট ৬ ঘন্টা ২৩ মিনিট ৭ ঘন্টা ১৮ মিনিট

৭ ঘন্টা ১৯ মিনিট

অপারটিং সিস্টেম

ওয়াইফাই এবং মোবাইল ডাটার আন্তঃরুপান্তর ক্ষমতা নেই আছে আছে আছে

আছে

যেসব  এপ কাজ করবে

ফেসটাইম

করবে করবে না করবে না করবে না

করবে না

স্কাইপ, হোয়াটসএপ, ফেসবুক, হ্যাংআউটস করবে করবে করবে করবে

করবে

গুগল ডুও

করবে (নক নক ব্যতিত) করবে করবে করবে

করবে

অন্যান্য বিষয়

স্পিকারের অবস্থান সামনে এবং নিচে শুধুমাত্র নিচে শুধুমাত্র সামনে শুধুমাত্র নিচে

শুধুমাত্র নিচে

বাটনের অবস্থান

মোটামুটি ভাল অনেক ভাল অনেক ভাল মোটামুটি ভাল

ভাল নয়

তাপধারণ ক্ষমতা

ভাল সাধারণ ভাল সাধারণ

ভাল

 

 

সর্বোপরি আপনি আপনার সুবিধা মতো ভিডিও চ্যাটিং ডিভাইস নির্ধারণ করবেন। তাছাড়া নতুন মোবাইল কেনার সময় আমরা কেবল ভিডিও চ্যাটিং এর সুবিধার কথাই ভাবিনা অন্যান্য বিষয় ও ভেবে দেখি। তাই সব দিক বিবেচনায় রেখে পছন্দের স্মার্টফোনটি বাছাই করা উচিত।

আপনার মতামত ...