ফেসবুকে অপপ্রচার বন্ধে কঠোরতা

বিজ্ঞাপনের জন্য ফেসবুক এখন একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। কারণ এর প্রায় ২ বিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারী আছে। তাই কোন একটি ছোট্ট ঘটনাও মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে যায় সমস্ত ফেসবুক ব্যবহারকারীর মধ্যে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্বে ফেসবুক জুড়ে প্রচুর রাজনৈতিক অপপ্রচার মূলক বিজ্ঞাপন চালানো হয়। যার মূলে ছিল রাশিয়ার কিছু লোক। যারা শত শত ফেক একাউন্ট খুলে ফেসবুকে অপপ্রচার চালাতো। তারা জনগণের অধিকার সংক্রান্ত কিছু মর্মস্পর্শী বিষয় (দেশান্তর, অস্ত্র আইন, তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার) তুলে ধরে জনগণকে ক্ষুদ্ধ করে তুলতো। জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টি করতো। এমনকি ইসলামের বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালাতো। মিশিগান এবং উইস্কন্সিন শহর ২টি তাদের মূল টার্গেট ছিল। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনে জয়লাভের পেছনে এই ২টি শহর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আর কোন কোন শহর তাদের টার্গেটে ছিল তা এখনো জানা যায়নি। ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যমকে এভাবে অপপ্রচার চালানোর কাজে ব্যবহার করা সত্যিই লজ্জাজনক।

তাই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুকের কর্ণধার মার্ক জুকারবার্গের সিদ্ধান্তে আগামী মাস থেকে ফেসবুকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত নীতিমালায় আরও অনেক পরিবর্তন আনা হবে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের দলে আরও ১০০০ লোক নিয়োগ দিবে ফেসবুক বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণ করা এবং অপ্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপন মুছে ফেলার জন্য। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আরও বলে যে, এ ব্যাপারে যথেষ্ট পর্যালোচনা করে দেখা হবে কখন কোন বিজ্ঞাপনটি দেখানো উচিত আর কোনটি নয়। যে সব বিজ্ঞাপন সমাজের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যেসব বিজ্ঞাপনদাতা ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে চায় তাদের ব্যাপারে আরও যাচাই বাছাই করে নেওয়া হবে।

আপনার মতামত ...